বৃদ্ধি ও বিকাশ প্রশ্ন উত্তর Class 11 Education

একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার শিক্ষাবিজ্ঞান বিষয়ে মোট 40 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 40 নম্বরের মধ্যে বৃদ্ধি ও বিকাশ অধ্যায় থেকে মোট 14 নম্বর আসবে। পরীক্ষায় এখান থেকে একটি বড়ো প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। বড়ো প্রশ্নের ধরন হবে গোটা 10 নম্বরের এবং ছোটো প্রশ্নের ধরন হবে গোটা ২ নম্বরের। আজকের এই প্রশ্নোত্তর পর্বে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিষ্টার শিক্ষাবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য বৃদ্ধি ও বিকাশ অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরসহ তুলে ধরা হল।

বৃদ্ধি ও বিকাশ প্রশ্ন উত্তর

১। বিকাশের উপাদান বা শর্ত কাকে বলে? বিকাশের উপাদান ক-টি ও কী কী?

জন্মমুহূর্ত থেকেই ব্যক্তির মধ্যে নানাধরনের বিকাশ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এই প্রত্যেক ধরনের বিকাশ কোনো-না-কোনো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে থাকে। এই অবস্থাকেই বিকাশের উপাদান বা শর্ত বলা হয়।

বিকাশের প্রধানত দুটি উপাদান। যথা-বংশগতি ও পরিবেশ।

২। ব্যক্তির জীবনবিকাশে কোন্ তিনটি উপাদান প্রয়োজনীয়? বংশগতি কাকে বলে?

শিশুর জৈবিক গুণাবলি (বংশগতি), পরিবেশ ও সময়-এই তিনটি উপাদানের গুণফল ব্যক্তির জীবনবিকাশের স্তরকে নির্ধারিত করে।

বংশগতি × পরিবেশ × সময় = শিশুর জীবন বিকাশের স্তর।

মানুষ তার জন্মের সময় পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে যেসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে, তার সমবায়কে সেই ব্যক্তির বংশগতি বলে।

৩। বংশগতির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ লেখো। বংশগতি কয় প্রকার ও কী কী?

বংশগতি বা বংশধারার ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Heredity। এটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ “Hereditas” থেকে, যার অর্থ হল এটি এমন একটি বস্তু যা মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি এবং সেটি সে তার উত্তরাধিকারীকে দিয়ে যায়।

আবার বলা হয়, Heredity শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Hereditatem থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

এর অর্থ হল, জিনগত বৈশিষ্ট্যাবলি এক জনু থেকে পরবর্তী জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার পদ্ধতি।

বংশগতি বা বংশধারা হল তিন প্রকার। যথা- দৈহিক বংশধারা, মানসিক বংশধারা এবং মনো-প্রকৃতিগত বংশধারা।

৪। বংশগতির জনক কাকে বলা হয়? জৈবিক বংশগতি (Biological Heredity) কাকে বলে?

বংশগতির জনক বলা হয় গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে।

শিশু যেসকল দৈহিক বৈশিষ্ট্য তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পায়, তার সমবায়কে জৈবিক বংশগতি বলে।

৫। মানসিক বংশগতি (Psychological Heredity) কাকে বলে? মানুষের দেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা কয়টি?

শিশু যেসকল মানসিক বৈশিষ্ট্য তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পায়, তার সমবায়কে মানসিক বংশগতি বলে।

মানুষের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের সংখ্যা 23 জোড়া বা 46 টি।

৬। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বংশগতি কাকে বলে? 

শিশু যেসব বৈশিষ্ট্য তার পিতা-মাতার কাছ থেকে পায়, তার সমবায়কে প্রত্যক্ষ বংশগতি বলে।

শিশু যেসব বৈশিষ্ট্য তার পিতা-মাতা ছাড়া অন্যান্যদের কাছ থেকে পায়, তার সমবায়কে পরোক্ষ বংশগতি বলে।

৭। বংশগতিবাদী কাদের বলে? কয়েকজন বংশগতিবাদীর নাম লেখো।

যেসকল বিজ্ঞানী মনে করেন, বংশগতিই হল ব্যক্তিজীবনে সকল উন্নতির চাবিকাঠি, এর মাধ্যমেই ব্যক্তিত্ব নির্ধারিত হয়, তাদের বংশগতিবাদী বলে।

কয়েকজন বংশগতিবাদী হলেন টারম্যান, গ্যালটন, নিউম্যান, কার্ল পিয়ারসন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

৮। শিশুর বংশগতি প্রসঙ্গে মনোবিদ স্যান্ডিফোর্ড কী বলেছেন? জিন কী?

শিশুর বংশগতি প্রসঙ্গে মনোবিদ স্যান্ডিফোর্ড বলেছেন, “Child is born with a biological heritage, he is born into a social heri- tage.” অর্থাৎ শিশু জৈবিক বংশগতি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সামাজিক বংশগতির মধ্যে জন্মগ্রহণ করে।

জিন হল বংশগতির ধারক এবং বাহক। জিনের মাধ্যমেই পূর্বপুরুষদের গুণাগুণ পরবর্তী বংশধরের মধ্যে সঞ্চালিত হয়। জিন গঠিত হয় DNA এবং RNA-এর সমন্বয়ে।

৯। বংশগতির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বা নীতি লেখো। 

  • বংশগতির ধারায় প্রত্যেক প্রাণী তার নিজের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণীরই জন্মদানে সক্ষম।
  • অর্জিত কিছু বৈশিষ্ট্য সমহারে না হলেও আংশিকভাবে পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে সঞ্চালিত হয়।
  • সমজাতীয় প্রাণী সমজাতীয় প্রাণীর জন্ম দিলেও তাদের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায়। যেমন- অনেক শিশু তার পিতা-মাতার মতো হয় না।
  • পিতা-মাতা উভয়েই যদি লম্বা হয় তবে তাদের সন্তান পিতা-মাতার থেকে লম্বা হবে, অর্থাৎ গড়ের দিকে যাওয়ার প্রবণতা থাকে।

১০। মনোবিদগণ বংশধারার কয়টি নীতির কথা উল্লেখ করেছেন, কী কী? সাদৃশ্যের নীতি বলতে কী বোঝো?

মনোবিদগণ পর্যালোচনার মাধ্যমে বংশগতির তিনটি জৈব নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলি হল- সাদৃশ্যের নীতি, বৈচিত্রের নীতি এবং গড়াভিমুখীর নীতি।

স্বাভাবিকভাবে মানবশিশু মানুষ, বাঘের বাচ্চা বাঘ, বিড়ালের বাচ্চা বিড়াল হয়। অর্থাৎ সমজাতীয় প্রাণী সমজাতীয় প্রাণীর জন্ম দেয়। এই ধরনের বৈশিষ্ট্যকে সাদৃশ্যের নীতি বলা হয়।

১১। বৈচিত্র্যের নীতি কী? জিনের গুরুত্ব লেখো।

অনেকসময় আমরা দেখি শিশু সন্তান তার বাবা-মায়ের মতো হয় না। পিতা-মাতার তার বেশ কিছু পার্থক্য থাকে। একে বৈচিত্র্যের নীতি বলে। যেমন- সুন্দর পিতা-মাতার সন্তান কুৎসিত হয়, উন্নত বুদ্ধিসম্পন্ন পিতা-মাতার সন্তান স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন হয়।

মানুষের দৈহিক, মানসিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয় জিনের বিন্যাসের উপর।

১২। গড়াভিমুখী নীতি কী? মনোবিদ অলপোর্টের মতে, মানুষের ব্যক্তিত্ব কার উপর নির্ভরশীল?

গড়াভিমুখী নীতির মূল কথা হল গড়ের দিকে যাওয়ার প্রবণতা। এই নীতি অনুযায়ী অনেকসময় শিশু তার পিতা-মাতার মতো হয় না। যেমন- পিতা-মাতা উভয়ই যদি লম্বা হয় সেক্ষেত্রে তাদের সন্তান খর্বাকার হতে পারে।

মনোবিদ অলপোর্ট-এর মতে, মানুষের ব্যক্তিত্ব তার বংশগতি ও পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল।

১৩। জীবনবিকাশে বংশগতির কয়েকটি গুরুত্ব লেখো।

মানুষের জীবনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ এবং প্রকৃতি তার বংশগতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

ব্যক্তি পরবর্তী জীবনে কী ধরনের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন, তা তার জন্মমুহূর্তে নির্ধারিত হয়ে যায় জিন (Gene) সংগঠনের মাধ্যমে।

১৪। ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাবকে প্রধান বলেছেন কে? DNA-র পুরো কথাটি কী এবং এটি কী নিয়ে গঠিত?

ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাবকে প্রধান বলেছেন- আর এল ডাগডেল (RL Dugdale) ।

DNA-এর পুরো কথাটি হল ডি-অক্সি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (De- oxy ribonucleic acid) I

DNA গঠিত হয় নাইট্রোজেন বেস, ফসফেট, ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার নিয়ে।

১৫। RNA-র পুরো কথাটি কী? এটি কখন বংশগতির ধারক ও বাহকরূপে কাজ করে?

RNA-এর পুরো কথাটি হল- রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (Ribonucleic Acid) |

যেসব কোশে DNA অনুপস্থিত থাকে সেসব কোশে RNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। উদাহরণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (রেট্রো ভাইরাস)।

১৬। জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণকে কী বলা হয়? ‘জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়-কারা বলেছেন?

জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণকে বলা হয় বংশগতি।

ল্যামার্ক (Lamarck), মেন্ডেল (Mendel), ডারউইন (Darwin) প্রমুখ বলেছেন জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।

১৭। মনোবিদ স্টোন (Stone)-এর মতে, বংশগতি কী? শিশুর বংশগত বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনার বীজটি প্রাপ্ত হয় কোথা থেকে?

মনোবিদ স্টোন-এর মতে, বংশগতি হল সমস্ত দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যগুলির সমষ্টি যেগুলি শিশু জন্মলগ্নে তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পায়।

পূর্বপুরুষদের থেকে শিশুর বংশগত বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনার বীজটি প্রাপ্ত হয়।

১৮। জৈব-মানসিক বংশগতি কাকে বলে? দৈহিক বংশগতির দুটি উদাহরণ দাও।

শিশুর জন্মগত দৈহিক ও মানসিক উভয় প্রকার বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়কে বলা হয় জৈব-মানসিক বংশগতি। যেমন- মেজাজ।

দৈহিক বংশগতির দুটি উদাহরণ হল— 

  • দেহের আকৃতি ও গঠন
  • গায়ের, চুলের এবং চোখের মণির রং।

১৯। মানসিক বংশগতির উদাহরণ দাও। শিশুর উপর বংশগতির দুটি প্রভাব লেখো।

মানসিক বংশগতিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-প্রবৃত্তি, প্রক্ষোভ, চিন্তন, কল্পনা, ইচ্ছা প্রভৃতি।

শিশুর উপর বংশগতির প্রভাব :

  • সুপ্তগুণ: এমন অনেক বৈশিষ্ট্য আছে, যা তার বাবা-মায়ের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় ছিল, যার প্রকাশ আমরা পাইনি, যেসব গুণ শিশুর মধ্যে দেখা যায়।
  • মানবসভ্যতার ধারা: বংশগতি আছে বলেই মানবসভ্যতা সৃষ্টির আদি যুগ থেকে অবিচ্ছিন্ন ধারায় চলে আসছে। 

২০। মার্কুইসের মতে, বংশগতি কী? ডাগডেল কাদের উপর তাঁর বংশগতির পরীক্ষা করেন?

মার্কুইসের মতে, জীবনের শুরুতে মানুষের মধ্যে যা কিছু বর্তমান থাকে, তাই-ই হল বংশগতি।

নিউইয়র্ক জেলের কারাবন্দিদের উপর ডাগডেল তাঁর বংশগতির পরীক্ষাটি করেন।

২১। কালিকক ছদ্মনামাঙ্কিত পরিবারের উপর কে বংশগতির পরীক্ষা করেন? বংশগতি ও পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়ার দুটি ফলাফল লেখো।

কালিকক ছদ্মনামাঙ্কিত পরিবারের উপর বংশগতির পরীক্ষা করেন- বিজ্ঞানী গডার্ড।

বংশগতি ও পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়ার দুটি ফলাফল যথাক্রমে- 

  1. বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাবে শিশু কতকগুলি দৈহিক ও মানসিক শক্তি লাভ করে।
  2. শিশুর অভ্যাস ও স্বভাবচরিত্র গঠনের পশ্চাতে বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব রয়েছে।

২২। শিক্ষায় বংশগতির দুটি গুরুত্ব লেখো। মনোবিদ নান (Nunn) বংশধারাকে কী বলেছেন?

  1. বংশগতির কারণে শিক্ষার্থীর মধ্যে ব্যক্তিগত বৈষম্য থাকে। তাই শিক্ষকের দায়িত্ব হবে শিক্ষা পরিকল্পনা রচনা করার সময় শিক্ষার্থী কী ধরনের সম্ভাবনার অধিকারী, তা পর্যবেক্ষণ করা।
  2. শিক্ষার্থীর বংশগতির ধারা অনুশীলন করে তাদের যথাযোগ্য নির্দেশনা দিতে না পারলে পরিপূর্ণ জীবনবিকাশ কখনোই সম্ভব হবে না।

মনোবিদ নান বংশধারাকে প্রকৃতি বা Nature বলেছেন।

২৩। তিনটি জৈবিক বংশগতি সংক্রান্ত তত্ত্ব লেখো।

  1. ওয়াইসম্যানের তত্ত্ব (Weismann’s theory): তাঁর মতে, বংশগতির একমাত্র বাহক হল জিন (Gene) বা বীজকোশ (Gene Cell), কোশ বিভাজনেরর মাধ্যমে দৈহিক বিকাশ হয়।
  2. ফ্রান্সিস গ্যালটন: বংশগতির দ্বারা আমরা যে বৈশিষ্ট্য অর্জন করি, তার কিছু অংশ আসে প্রত্যক্ষভাবে পিতা-মাতার কাছ থেকে এবং কিছু অংশ পরোক্ষভাবে অন্যান্য পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে আসে।
  3. মেন্ডেলের তত্ত্ব: বংশগতি সংক্রান্ত প্রথম সূত্র প্রবর্তন করেছিলেন মেন্ডেল। তাঁর দুটি প্রধান সূত্র হল- (i)বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য কখনও পরস্পর মিশে যায় না। জনন কোশ সৃষ্টির সময় তারা পৃথক হয়ে যায়। (ii) বিপরীতধর্মী একজোড়া বৈশিষ্ট্য অন্যজোড়া বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভরশীল নয় এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বংশপরম্পরায় তার প্রকাশ ঘটে।

২৪। মানসিক বংশগতি সংক্রান্ত তত্ত্বগুলি লেখো।

মানসিক বংশগতি সংক্রান্ত তত্ত্বগুলি হল-

  • ডাগডেল (Dugdale): বংশগতির প্রভাবেই একই পরিবারের ব্যক্তির মধ্যে সমাজবিরোধী মনোভাব দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ অপরাধ প্রবণতাও বংশগতি থেকে আসতে পারে।
  • গডার্ড (Goddard): পিতা-মাতার মানসিক বৈশিষ্ট্যগুলি সন্তানের মধ্যে সঞ্চালিত হয়।
  • নিউম্যান: ফ্রেড ও এডুইন নামে দুটি অভিন্ন যমজের সন্ধান পান। যারা শৈশব থেকেই পৃথক পরিবারে মানুষ হতে থাকে।
  • টারম্যান: বাবা-মায়ের বুদ্ধির সঙ্গে সন্তানসন্ততির বুদ্ধির ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। এর জন্য বংশগতির প্রভাব দায়ী।

২৫। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষক পরিবেশ ও বংশগতির প্রভাবকে স্বীকার করে কী কী ব্যবস্থা নিতে পারেন? 

শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষক পরিবেশ ও বংশগতির প্রভাবকে স্বীকার করে যেসকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সেগুলি হল-

  • শিক্ষক স্কুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাসযুক্ত ঘরে ছাত্রদের বসার ব্যবস্থা করবেন এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশের দিকে লক্ষ রাখবেন।
  • শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। স্কুলের বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেরাই সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারে তার ব্যবস্থা শিক্ষক করবেন।
  • শিক্ষার্থীর বংশগতির ধারা অনুশীলন করে তাদের যথাযোগ্য নির্দেশনা দেবেন শিক্ষক। যেমন- শিক্ষার ক্ষেত্রে ও বৃত্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

২৬। পরিবেশ কাকে বলে? দুজন পরিবেশবাদীর নাম লেখো। 

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যেসব উদ্দীপক মানুষকে উত্তেজিত করে, তার সমষ্টিকে পরিবেশ বলে। অর্থাৎ আমরা যে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলের মধ্যে বাস করি; গাছপালা, নদীনালা, স্কুল-কলেজ প্রভৃতি সমস্ত কিছুর সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে বিকশিত হয়, তাই-ই হল পরিবেশ।

দুজন পরিবেশবাদী হলেন- ওয়াটসন (Watson) এবং ফ্রীম্যান (Freeman)।

২৭। মিথস্ক্রিয়া (Interaction) কী? শিক্ষায় পরিবেশের একটি প্রভাব লেখো।

মিথস্ক্রিয়া: আমাদের চারিপাশে থাকা বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে। ফলে আমরা নতুন নতুন অভিজ্ঞতালব্ধ যথার্থ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠি। একেই বলে পারস্পরিক ক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়া।

শিক্ষার্থীর জন্মগত সম্ভাবনার বিকাশ ঘটে স্বাধীন পরিবেশে। তাই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেন।

২৮। ব্যুৎপত্তিগত অর্থে পরিবেশ কী? পরিবেশের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

পরিবেশ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Environment’ ‘Envi- ronment’ শব্দটি এসেছে প্রাচীন ফরাসি শব্দ ‘Environ’ থেকে যার অর্থ হল ঘিরে থাকা বা পরিবেষ্টিত করে থাকা।

পরিবেশের দুটি বৈশিষ্ট্য হল-

  • ব্যক্তিজীবনের বিকাশ এবং বৈষম্য তাদের পরিবেশ দ্বারা নির্ধারিত হয়।
  • পরিবেশের উন্নতি ঘটলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তিত্বেরও উন্নতি ঘটে।

২৯। পরিবেশবাদী কাকে বলে? কয়েকজন পরিবেশবাদীর নাম লেখো।

যেসকল মনোবিজ্ঞানী মনে করেন বংশগতির কোনো প্রভাব ছাড়াই ব্যক্তির বৃদ্ধি ও বিকাশ সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাঁদের বলা হয় পরিবেশবাদী।

বিশিষ্ট কয়েকজন পরিবেশবাদী হলেন প্যাভলভ, ইসটার ব্রুক, অটোক্লিনবার্গ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

৩০। মনোবিদ স্টোন (Stone) পরিবেশ বলতে কী বুঝিয়েছেন?

মনোবিদ Stone পরিবেশের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন- “Environment is sumtotal or all the stimulations received by an individual from birth till death.” অর্থাৎ যেসকল উদ্দীপক একজন ব্যক্তিকে সারা জীবন উত্তেজিত করে, তার মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, সেগুলির সমষ্টিই হল পরিবেশ।

৩১। মনোবিদ উডওয়ার্থ-এর মতে পরিবেশ কী? বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে পালিত হয়?

মনোবিদ উডওয়ার্থ: “Environment Covers all the outside factors that have acted on the individual since he began life” অর্থাৎ যেসকল বাহ্যিক উপাদান শিশুর জন্মের পর থেকে তার উপর ক্রিয়াশীল হয়, তাদের সমষ্টিকে পরিবেশ বলে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় 5 জুন তারিখে।

৩২। Douglas এবং Holland পরিবেশ বলতে কী বুঝিয়েছেন? পরিবেশ প্রধানত কয় প্রকার ও কী কী? 

ডগলাস এবং হল্যান্ড-এর মতে, পরিবেশ হল সমস্ত বাহ্যিক শক্তি, প্রভাব ও অবস্থার সমাহার যেগুলি জীবের প্রকৃতি, আচরণ, বৃদ্ধি, বিকাশ এবং পরিণমনকে প্রভাবিত করে। viralemon me the

পরিবেশ প্রধানত তিন প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ।

৩৩। মনোবৈজ্ঞানিক পরিবেশ বলতে কী বোঝো? সি সি পার্কের মতে, পরিবেশ কী?

অন্তর পরিবেশের যেসকল উপাদানগুলি ব্যক্তির বিশেষ বিশেষ মানসিক অবস্থা, মনোভাব, মানসিক পরিণমন, মনোপ্রকৃতি ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত, সেগুলির সমবায়কে মনোবৈজ্ঞানিক পরিবেশ বলে।

সি সি পার্কের মতে, যে-কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট স্থানে মানুষকে ঘিরে থাকা সামগ্রিক অবস্থাকেই পরিবেশ বলে।

৩৪। প্রাকৃতিক পরিবেশ কাকে বলে? প্রাকৃতিক পরিবেশের শ্রেণিবিভাগটি চার্টের মাধ্যমে দেখাও।

প্রাকৃতিক জগতের যেসকল উপাদান বা শক্তি ব্যক্তির জীবন বিকাশকে প্রভাবিত করে, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।

৩৫। জড় পরিবেশ বলতে কী বোঝো?

জড় পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলির মধ্যে থেকে যে উপাদানগুলি নিষ্প্রাণ থাকে অর্থাৎ যাদের প্রাণ নেই সেইসকল উপাদানগুলিকে বোঝানো হয়। যেমন- আমাদের চারপাশে অবস্থিত পাহাড়পর্বত, নদীনালা, গ্রহ-নক্ষত্র, খালবিল ইত্যাদি বিভিন্ন উপাদানগুলিকে নিয়ে গঠিত হয় জড় পরিবেশ।

৩৬। সজীব পরিবেশ কাকে বলে? শিশুর জীবনবিকাশে প্রাকৃতিক পরিবেশের দুটি ভূমিকা লেখো।

সজীব পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক পরিবেশের সেইসকল উপাদানকে বোঝায় যাদের প্রাণ আছে, অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত পরিবেশকে সজীব পরিবেশ বলা হয়, যেমন- গাছপালা, পশুপাখি ইত্যাদি হল সজীব পরিবেশের উদাহরণ।

শিশুর জীবনবিকাশে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভূমিকা হল-

  • বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রাণবায়ু (অক্সিজেন) এবং খাদ্য আমরা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে পেয়ে থাকি।
  • প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ব্যক্তি শিশুর কৌতূহলপ্রবণতার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৩৭। সামাজিক পরিবেশ বলতে কী বোঝো? শিশুর জীবনবিকাশে সামাজিক পরিবেশের দুটি প্রভাব উল্লেখ করো।

সামাজিক পরিবেশ: পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ হল সামাজিক পরিবেশ। সামাজিক পরিবেশ হল এমন একটি তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থা যা মানব শিশুর উপর প্রভাব বিস্তার করে তার আচরণধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ সু-সম্পন্ন হয় এবং সে আদর্শ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়।

প্রভাব:

  • সামাজিক পরিবেশেই শিশুর দৈহিক বিকাশ পূর্ণতা পায়।
  • দৈহিক বিকাশের পাশাপাশি শিশুর সর্বাঙ্গীণ বিকাশের অন্যান্য দিক যেমন-মানসিক বিকাশ, ভাষা বিকাশ, সামাজিক বিকাশ, কৌতূহলের বিকাশ প্রভৃতি একমাত্র সামাজিক পরিবেশেই সম্ভব।

৩৮। মনোবিদ স্যান্ডিফোর্ড বংশগতি এবং পরিবেশ সম্পর্কে কী বলেছেন?

মানবজীবনের বিকাশ হল বংশগতি এবং পরিবেশ এই দুই উপাদানের মিথস্ক্রিয়ার ফল। ব্যক্তির জীবনবিকাশে বংশগতি এবং পরিবেশ উভয়কে গুরুত্ব দিতে গিয়ে মনোবিদ স্যান্ডিফোর্ড বলেছেন- “Heredity and environment are correlative factors” অর্থাৎ বংশগতি এবং পরিবেশ পরস্পরের অনুবন্ধমূলক উপাদান।

৩৯। আন্তঃপরিবেশ ও বহিঃপরিবেশ বলতে কী বোঝো?

আন্তঃপরিবেশ হল সেই পরিবেশ যা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব সত্তার অন্তর্ভুক্ত। এর দুটি ভাগ হল- জৈবিক পরিবেশ এবং মনোবৈজ্ঞানিক পরিবেশ।

আন্তঃপরিবেশের বাইরের জগত হল বহিঃপরিবেশ। বহিঃপরিবেশের উপাদানগুলির দুটি ক্রিয়াশীল পর্যায় হল- প্রাক্-ভূমিষ্ঠ পরিবেশ এবং উত্তর-ভূমিষ্ঠ পরিবেশ।

৪০। পরিবেশবিদ আর্নস পরিবেশ সম্পর্কে কী বলেছেন? শিশুর জীবনবিকাশে পরিবেশবাদী মতবাদের কয়েকজন প্রবক্তার নাম লেখো।

শিক্ষাবিদ আর্নস 1994 খ্রিস্টাব্দে তাঁর ‘Environment Science’ নামক গ্রন্থে বলেছেন- “জীব উদ্ভিদ বা প্রাণী তাদের জীবনচক্রের যে- কোনো সময়ে যে-সমস্ত জৈব এবং অজৈব কারণগুলির দ্বারা প্রভাবিত হয় সেই কারণগুলির সমষ্টিকে পরিবেশ বলে”।

শিশুর জীবন বিকাশে পরিবেশবাদী মতবাদের কয়েকজন প্রবক্তা হলেন- জে বি ওয়াটসন (J B Watson), রুশো (Rousseau), মন্তেসরি (Montessori) প্রমুখ।

৪১। UNEP-র প্রদত্ত পরিবেশের সংজ্ঞা উল্লেখ করো। শিক্ষক্ষেত্রে মিথস্ক্রিয়ার গুরুত্ব কী?

United Nations Environment Programme (UNEP), 1976-র প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুসারে, “পরিবেশ বলতে বোঝায় পরস্পর ক্রিয়াশীল উপাদানগুলির মাধ্যমে গড়ে ওঠা সেই প্রাকৃতিক ও জীবমণ্ডলীয় প্রণালীকে যার মধ্যে মানুষ ও অন্যান্য সজীব উপাদানগুলি বেঁচে থাকে, বসবাস করে”।

শিক্ষাক্ষেত্রে মিথস্ক্রিয়ার দুটি গুরুত্ব হল- মিথস্ক্রিয়ার ফলে

শিশুর মধ্যে অন্তর্নিহিত সুপ্ত সম্ভাবনাগুলির প্রকাশ ও বিকাশ ঘটে। মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর ভয়, আনন্দ, লজ্জা প্রভৃতি প্রক্ষোভগুলি বিকাশ লাভ করে।

৪২। মনোবিদ ক্যাটেল (Cattell) কাদের উপর সামাজিক পরিবেশের পরীক্ষা করেন? সাংস্কৃতিক পরিবেশ কাকে বলে?

মনোবিদ ক্যাটেল আমেরিকার কয়েকজন বৈজ্ঞানিকদের কুলপঞ্জির উপর সামাজিক পরিবেশের পরীক্ষা করেন।

সাংস্কৃতিক পরিবেশ: মানুষ যে পরিবেশে তার রীতিনীতি, আচার- আচরণ, নানাবিধ ধ্যানধারণা, মূল্যবোধ প্রভৃতি দিয়ে সামাজিক ক্ষেত্র রচনা করে, তাকে বলে সাংস্কৃতিক পরিবেশ।

৪৩। সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ কী? পরিবেশগত শিক্ষা বলতে কী বোঝো?

সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ: সমাজের রীতিনীতি, আচার- ব্যবহার, আত্মীয়স্বজন, ভাষা, ধর্ম প্রভৃতির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয়, তাকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ বলা হয়। সমাজ পরিবেশেই শিশু সংঘবদ্ধতা শেখে।

পরিবেশগত শিক্ষা: নিজের অস্তিত্ব এবং নিজস্ব সামাজিক কৃষ্টিগত ধারাকে প্রবহমান রাখার ক্ষেত্রে পরিবেশের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সহায়তা করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় পরিবেশগত শিক্ষা।

৪৪। পরিবেশ সাক্ষরতা বলতে কী বোঝায়? পরিবেশ শিক্ষার নির্ধারকগুলি কী কী?

পরিবেশের কোনো সমস্যা অনুধাবন করে তাকে বিশ্লেষণ করা এবং সমাধানের উপায় নির্দেশ করার ক্ষমতাকে পরিবেশ সাক্ষরতা বলে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষকে তার ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত এবং সমাজগত জীবনে পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি যত্নবান করে তোলা।

পরিবেশ শিক্ষার নির্ধারকগুলি হল- পরিবেশ সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন, পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মূল্যায়ন করা।

৪৫। পরিবেশ শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলি কী কী?

পরিবেশ শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলি হল- 

  • পরিবেশ সম্পর্কে ব্যক্তি ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। 
  • পরিবেশকেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে মৌলিক উপলব্ধি গড়ে তোলা। 
  • পরিবেশকেন্দ্রিক সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যক্তি ও সামাজিক গোষ্ঠীকে দক্ষ করে তোলা। 
  • পরিবেশ সম্পর্কে সামগ্রিক জ্ঞান গড়ে তোলাও এই শিক্ষার উদ্দেশ্যের মধ্যে পড়ে।

৪৬। পরিবেশবিদ্যা সংগঠিত করতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়?

পরিবেশবিদ্যা সংগঠিত করতে হলে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সেগুলি হল- 

  • নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার স্তরে পরিবেশবিদ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, 
  • প্রকৃতিগত দিক থেকে পরিবেশবিদ্যা আন্তঃশৃঙ্খলাযুক্ত হওয়ার দরকার। 
  • পরিবেশবিদ্যার অন্যতম লক্ষ্য হবে মূল্যবোধ গড়ে তোলা। 
  • শ্রেণিকক্ষে যথাযথ শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে পরিবেশবিদ্যার পাঠ দিতে হবে। 
আরও পড়ুনLink
নৈতিক প্রত্যয়সমূহ প্রশ্ন উত্তরClick Here
চার্বাক সুখবাদ প্রশ্ন উত্তরClick Here
পাশ্চাত্য নীতিবিদ্যা প্রশ্ন উত্তরClick Here

Leave a Comment