পাশ্চাত্য নীতিবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর

Ethics’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Ethics’। এই ‘Ethics’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘Ethica’ থেকে। ‘Ethica’ শব্দটি আর একটি গ্রিক শব্দ ‘Ethos’ থেকে এসেছে। ‘Ethos’ শব্দটির অর্থ হল- চরিত্র, আচার- ব্যবহার, রীতিনীতি বা অভ্যাস। সুতরাং Ethics বা নীতিবিদ্যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল মানুষের রীতি-নীতি, প্রথা বা অভ্যাস সম্পর্কীয় বিজ্ঞান।
‘Moral’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
নীতিবিদ্যার অপর নাম হল নীতিদর্শন বা Moral Philosophy! এই Moral শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ ‘Mores’ থেকে। ‘Mores’ শব্দটির অর্থ হল ‘রীতিনীতি’ বা ‘অভ্যাস’। সুতরাং এর থেকে বলা যায় যে, নীতিবিদ্যা বা Moral Philosophy মানুষের রীতিনীতি, প্রথা ও অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করে।
নীতিবিদ্যা কী?
যে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিচার করে এবং মানব জীবনের চরম আদর্শ লাভের সহায়ক নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করে তাকে বলে নীতিবিজ্ঞান। এটি দর্শনের একটি শাখা। দর্শনের এই শাখায় নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা করা হয়ে থাকে। পাশ্চাত্য দার্শনিক অ্যারিস্টটল নীতিবিদ্যাকে চরিত্রভিত্তিক নীতিশাস্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন।
ম্যাকেঞ্জির মতে, নীতিবিদ্যা কী?
অধ্যাপক জে এস ম্যাকেঞ্জি (JS Mackenzie)-এর মতে, নীতিবিদ্যা হল আচরণের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ সম্পর্কিত আলোচনা। নীতিবিদ্যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় ক্রিয়া-কর্ম, আচার-আচরণ প্রভৃতির ন্যায়-অন্যায়, কর্তব্য-অকর্তব্য, ঔচিত্য-অনৌচিত্য ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করে। ম্যাকেঞ্জি প্রদত্ত সংজ্ঞা থেকে বলা যায়, ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দ হল মানুষের আচরণের নৈতিক বিচারের মানদণ্ড।
নীতিবিদ ম্যুরহেড প্রদত্ত নীতিবিদ্যার সংজ্ঞাটি আলোচনা করো।
নীতিবিদ ম্যুরহেড, ম্যাকেঞ্জিকে অনুসরণ করে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিয়েছেন। তাঁর মতে, নীতিবিদ্যা হল এমন একটি শাস্ত্র যা মানুষের আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত সর্বোত্তম আদর্শ নিয়ে আলোচনা করে। নীতিবিদ্যায় এই সর্বোত্তম আদর্শের বিচারেই মানুষের আচরণের মূল্যায়ন করা হয়।
লিলির মতে, নীতিবিদ্যা কী?
অধ্যাপক উইলিয়াম লিলি (William Lillie)-র মতে, নীতিবিদ্যা হল সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত এমন একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা আচরণের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, ঔচিত্য-অনৌচিত্য, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং এরূপ অন্যান্য নৈতিক আচরণের বিচার ও বিশ্লেষণ করে। লিলি প্রদত্ত এই সংজ্ঞাটিকে নীতিবিদ্যা সম্পর্কিত সংজ্ঞা হিসেবে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়।
নীতিবিদ্যার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
নীতিবিদ্যার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
- নীতিবিদ্যা এক আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা সমাজবদ্ধ মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি বিচার করে।
নীতিবিজ্ঞানের মৌলিক প্রশ্নগুলি কী কী?
নীতিবিজ্ঞান এক মৌল নীতি বা আদর্শের নিরিখে আমাদের আচরণের মূল্যায়ন করে, যে মৌল নীতিকে আমরা নৈতিকতা বলে উল্লেখ করি। কাজেই নীতিবিজ্ঞানের মৌলিক প্রশ্নগুলি নৈতিকতা ভিত্তিক। এই প্রশ্নগুলি হল-
- আমাদের কর্মের নৈতিকতাকে কীভাবে প্রমাণ করা যায়?
- আমরা কেন নিয়ম-নীতি অনুযায়ী কর্ম করি?
- নিয়ম-নীতিগুলি সমাজে প্রচলিত আছে বলেই কি আমরা তা অনুসরণ করি?
- নৈতিকতা কি সহজাত নাকি অর্জিত? ইত্যাদি।
নীতিবিদ্যাকে কি বিজ্ঞান বলা যায়?
যে শাস্ত্র কোনো বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে শৃঙ্খলাবদ্ধ, যুক্তিসংগত ও যথাসম্ভব পূর্ণ আলোচনা করে এবং ওই বিষয় বা ঘটনা সংক্রান্ত যাবতীয় সত্যের অনুসন্ধান করে তাকে বলে বিজ্ঞান। যুক্তিযুক্ততা, শৃঙ্খলাবদ্ধতা, সত্য অনুসন্ধানের ইচ্ছা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগুলি নীতিবিদ্যার ক্ষেত্রে বর্তমান থাকায় নীতিবিদ্যাকেও বিজ্ঞানরূপে গণ্য করা যায়।
সমাজবহির্ভূত কোনো ব্যক্তির নৈতিকতা কি নীতিবিজ্ঞানের বিচার্য?
সমাজবদ্ধ মানুষের আচরণই মূলত নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়। কারণ মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ সম্পূর্ণরূপে সমাজের উপর নির্ভরশীল। সামাজিক কোনো পটভূমিতেই মানুষের ভালোত্ব-মন্দত্ব, ঔচিত্য-অনৈচিত্যের মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। সমাজবহির্ভূত কোনো ব্যক্তির নৈতিকতা সম্বন্ধে নীতিবিজ্ঞানে আলোচনা করা হয় না।
নৈতিক চিন্তার দৃষ্টান্ত বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
জিতরা উইলিয়াম ফ্র্যাঙ্কেনা তাঁর ‘Ethics’ গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে একজন সৎ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত দিয়েছেন, যা আমরা সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটোর ক্রিটো নামক সংলাপের সূচনায় পেয়েছি, সেটিই নৈতিক চিন্তার দৃষ্টান্তরূপে গণ্য হয়েছে। সক্রেটিস আমৃত্যু যে নৈতিকতা পালন করে গেছেন তাই আমরা এখানে লক্ষ করি।
পাশ্চাত্য নীতিবিদ্যা কয়টি শাখায় বিভক্ত ও কী কী? অথবা, পাশ্চাত্য নীতিশাস্ত্রের আলোচনা প্রধানত কয়টি ধারায় প্রবাহিত হয়েছে ও কী কী?
পাশ্চাত্য নীতিবিদ্যা প্রধানত চারটি শাখায় বিভক্ত। যথা- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, আদর্শনিষ্ঠ নীতিবিদ্যা, পরানীতিবিদ্যা ও ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যা।
বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা বলতে কী বোঝায়?
নীতিবিদ্যার যে শাখার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণভাবে বর্ণনামূলক হয়, তাকে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা (Descriptive Ethics) বলা হয়। বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক, সমাজবিজ্ঞানী ও ঐতিহাসিকেরা বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত নৈতিক বিশ্বাস, রীতিনীতি, নৈতিক আচরণ ইত্যাদি নিয়ে তথ্য আহরণ ও পর্যালোচনা করেন। এগুলি বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যার উদাহরণ।
আদর্শনিষ্ঠ নীতিবিদ্যা বলতে কী বোঝো?
নীতিবিদ্যার যে শাখায় নৈতিক বিচারের মানদণ্ড বা আদর্শ নিরূপণ করা হয় এবং সেই মানদণ্ড অনুসারে কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়, তাকে আদর্শনিষ্ঠ নীতিবিদ্যা (Descriptive Ethics) বলা হয়। কর্তব্যবাদ, পরিণামবাদ বা উদ্দেশ্যবাদ এবং সদ্গুণের নীতিতত্ত্ব হল আদর্শনিষ্ঠ নীতিবিদ্যা।
পরানীতিবিদ্যা বলতে কী বোঝো?
নীতিবিদ্যার যে শাখায় নৈতিক মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির অর্থ নিরূপণ করাহয়, তাকে পরানীতিবিদ্যাবলে। পরানীতিবিদ্যাকে দ্বিতীয় স্তরের অনুসন্ধান বলে অভিহিত করা হয়। স্বজ্ঞাবাদ, আবেগবাদ, অনুজ্ঞাবাদ বা পরামর্শবাদ হল পরানীতিবিদ্যার উদাহরণ।
ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যা বলতে কী বোঝো?
নীতিবিদ্যার যে শাখায় নীতিতাত্ত্বিকেরা আমাদের জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলির আলোচনা করেন, তাকে ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যা বলে। পরিবেশ রক্ষা, প্রাণীহত্যা, আত্মহত্যা, কৃপাহত্যা প্রভৃতি বিষয়গুলি ব্যাবহারিক নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান কী?
বিজ্ঞান বলতে বোঝায়, যে শাস্ত্র বিশেষ বিশেষ বিষয় সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করে একটি সুসংবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান দান করে। বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান হল, সেই বিজ্ঞান যা বিষয়বস্তুর উৎপত্তি, বিকাশ ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের দ্বারা বর্ণনা দেয়। যেমন- পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা।
আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান কী?
বিশেষ আদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞানের যে শাখায় বিষয়বস্তুর শুধু বিচার-বিশ্লেষণ নয়, সেগুলির বর্ণনা ও মূল্যায়ন করা হয় তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। এখানে আদর্শ বলতে পরম কল্যাণের আদর্শকে বোঝায়। যেমন- নীতিবিদ্যা।
বস্তুনিষ্ঠ ও আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞানের পার্থক্য লেখো?
যে বিজ্ঞান জগতের বস্তু বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে তার বর্ণনা করে তাকে বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান বা বর্ণনামূলক বিজ্ঞান বলে। জগতে বস্তু বা ঘটনা যেমনভাবে আছে বা ঘটে, বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান কেবল সেইভাবে বস্তু বা ঘটনাকে বর্ণনা করে। যেমন- উদ্ভিদবিদ্যা, মনোবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা ইত্যাদি।
অপরদিকে যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শের মাপকাঠিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। এখানে বস্তু বা ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পরিবর্তে যা ঘটা উচিত তার আলোচনা করা হয়। নীতিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, সৌন্দর্যবিজ্ঞান হল আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
নীতিবিজ্ঞান কোন্ ধরনের বিজ্ঞান?
নীতিবিজ্ঞানীরা তাদের আলোচনায় দেখিয়েছেন যে নীতিবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলা হলেও এই বিজ্ঞান প্রাকৃতিক বা বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান থেকে স্বতন্ত্র। নীতিবিজ্ঞানে বিভিন্ন আদর্শের উল্লেখ থাকে এবং সেই আদর্শের মাপকাঠিতে একটি আচরণ ভালো না মন্দ, উচিত না অনুচিত তার মূল্যায়ন করা হয়। তাই নীতিবিজ্ঞানকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। এই কারণে নীতিবিজ্ঞানকে বলা হয় Normative Ethics। ‘Norms’ শব্দটির অর্থ হল আদর্শ বা নিয়ম। এই আদর্শ সার্বিকভাবে সকলের প্রতি প্রযোজ্য।
নীতিবিদ্যা কোন্ কোন্ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে?
নীতিবিদ্যা যদিও মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, ঔচিত্য-অনৌচিত্য প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে, তথাপি মানুষের সকল প্রকার আচরণ নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় নয়; মানুষের ঐচ্ছিক বা স্বেচ্ছাকৃত আচরণ ও অভ্যাসজাত আচরণ নিয়েই নীতিবিদ্যা আলোচনা করে।
নীতিবিজ্ঞানের বিষয় কী?- ঐচ্ছিক ক্রিয়া নাকি সমাজের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নাকি মানুষের চরিত্র?
নীতিবিজ্ঞানের বিষয় হল ঐচ্ছিক ক্রিয়া। ঐচ্ছিক ক্রিয়ার নৈতিক বিচার করা সম্ভব। চরিত্র প্রকাশিত হয় আচরণের মাধ্যমে। আর আচরণ বলতে ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বোঝানো হয়। সমাজের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের মূলেও আছে মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ। এই কারণে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বা চরিত্র নয়- নীতিবিজ্ঞানীরা ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে নীতিবিজ্ঞানের বিষয় বলেন।
পাশ্চাত্য নীতিবিদ্যায় ঐচ্ছিক ক্রিয়া বলতে কী বোঝায়?
যে ক্রিয়া স্বেচ্ছাকৃত এবং স্বনিয়ন্ত্রিত সেইসব ক্রিয়াকে ঐচ্ছিক ক্রিয়া (Voluntary Action) বলে। যেমন- সত্য কথা বলা, মিথ্যা কথা বলা প্রভৃতি। এই ক্রিয়া সর্বদা একটি বিশেষ উদ্দেশ্যমুখী হয়। ঐচ্ছিক ক্রিয়ার কর্তা সচেতনভাবে তার ক্রিয়াকে উদ্দেশ্য অভিমুখে পরিচালিত করে। আমরা ঐচ্ছিক ক্রিয়ার জন্য দায়ী। তাই ঐচ্ছিক ক্রিয়ার নৈতিক মূল্যায়ন করা হয়।
অনৈচ্ছিক ক্রিয়া কাকে বলে?
যে ক্রিয়া আমাদের নিজস্ব ইচ্ছা-প্রণোদিত নয় সেই ক্রিয়াকে অনৈচ্ছিক ক্রিয়া (Non- voluntary action) বলে। আমরা অভ্যাসবশত যে কাজ করি কিংবা যে কাজ স্বয়ংক্রিয় তা আমাদের ইচ্ছার দ্বারা পরিচালিত হয় না। যেমন-শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া, হৃৎস্পন্দন, আগুনের কাছে হাত গেলে হাত সরিয়ে নেওয়া প্রভৃতি। তাই এই জাতীয় কাজকে ‘ভালো’ কিংবা ‘মন্দ’ বলে অভিহিত করা যায় না। যাবতীয় অনৈচ্ছিক ক্রিয়া হল অনৈতিক ক্রিয়া।
ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাধীনতা থাকে, কিন্তু কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না একথা কেন বলা হয়?
ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাহ্যনিয়ন্ত্রণ থাকে না। অর্থাৎ অন্য কোনো কিছুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে ব্যক্তি ঐচ্ছিক কর্ম করে না। কর্মটি সম্পাদন করবে কিনা সেই বিষয়ে ব্যক্তির পরিপূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। তাই বলা হয় যে, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাধীনতা থাকে, কিন্তু কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না।
অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার নৈতিক বিচার সম্ভব নয় কেন? অথবা, অনৈচ্ছিক ক্রিয়াকে নীতিবহির্ভূত ক্রিয়া কেন বলা হয়?
অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির কোনো স্বাধীনতা এবং পূর্বপরিকল্পনা থাকে না। কোনো প্রকার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ব্যক্তি এই কাজ করে না। ক্রিয়াটি করা হবে কি হবে না, তা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এই কারণে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার নৈতিক বিচার সম্ভব নয়।
নীতিবিজ্ঞানে স্বীকৃত মাপকাঠিগুলি কী কী?
নীতিবিজ্ঞান হল সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণসম্বন্ধীয় এক আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। এখানে এক আদর্শ মানদণ্ড বা মাপকাঠির নিরিখে মানুষের আচরণের মূল্যায়ন করা হয়। এই আদর্শ মানদণ্ড বা মাপকাঠিগুলি হল ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-ভুল এবং এরূপ – আরও নৈতিক প্রত্যয়।
Read More – The Garden Party Question Answer