শিক্ষাক্ষেত্রে বৃদ্ধির গুরুত্ব লেখো। বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের ভূমিকা লেখো

শিক্ষাক্ষেত্রে বৃদ্ধির গুরুত্ব লেখো। বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের ভূমিকা লেখো

শিক্ষাক্ষেত্রে বৃদ্ধির গুরুত্ব লেখো। বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের ভূমিকা লেখো
শিক্ষাক্ষেত্রে বৃদ্ধির গুরুত্ব লেখো। বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের ভূমিকা লেখো

শিক্ষাক্ষেত্রে বৃদ্ধির প্রভাব বা গুরুত্ব

বৃদ্ধি হল অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্রিয়ামূলক দিক। ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তা বিকাশের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির গুরুত্ব রয়েছে। সবক্ষেত্রে বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক রয়েছে একথা বলা যায় না, তবে বিভিন্নভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে। যেমন-

(1) শারীরিক সুস্থতা: শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আকার, আয়তন ও ওজনগত পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বৃদ্ধি হয়। বৃদ্ধি এবং পরিবেশের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ফলে বিকাশ ঘটে। শিক্ষার্থীর মধ্যে যথাযথ বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটাতে হলে প্রয়োজন যথাযথ বৃদ্ধির। যথাযথ শারীরিক বৃদ্ধি পঠনপাঠনে মনোযোগ ও আগ্রহ সৃষ্টির সহায়ক। শারীরিক সুস্থতা না থাকলে বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হয়, যা শিশু তথা ব্যক্তিকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে, তাই বিদ্যালয়ের পরিবেশ এমন হওয়া দরকার যাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে।

(2) পুষ্টিকর খাদ্য: শিক্ষার্থীদের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্যের। পুষ্টিকর খাদ্য শিক্ষার্থীদের দৈহিক বিকাশের জন্য যেমন জরুরি তেমনই মানসিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশের জন্যও প্রয়োজন। এই বিকাশগুলি শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তাই অভিভাবকদের শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা দরকার।

(3) বিদ্যালয় ছুট: শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যালয় ছুট একটি বড়ো সমস্যা। এই বিদ্যালয় ছুটের সংখ্যা কমানোর জন্য মিড-ডে-মিল ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা দ্বারা গরীব শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে উৎসাহিত করা । যাচ্ছে এবং বিদ্যালয়ছুট কমানো গেছে। দারিদ্রের জন্য গরীব শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অনেকসময় পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হয়। মিড-ডে মিল ব্যবস্থা বৃদ্ধি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যার শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। এই কারণে মিড-ডে-মিল ব্যবস্থায় পুষ্টিকর খাদ্য থাকা উচিত।

(4) খেলাধুলা: বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলামূলক কর্মসূচি, ব্যায়াম ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের দৈহিক বৃদ্ধির সহায়ক। এই কর্মসূচিগুলির শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

(5) সমাজসেবামূলক কাজ: বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ শিক্ষার্থীদের মনে আনন্দের সঞ্চার করে যা স্নায়বিক ক্রিয়াকে উপযুক্ত করে এবং যা বৃদ্ধির সহায়ক।

(6) শিক্ষা পরিকল্পনা: বৃদ্ধি হল ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। শিক্ষা পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত কারণ শিক্ষা পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যথাযথ দৈহিক বিকাশের ব্যবস্থা থাকবে যা মানসিক, সামাজিক ও প্রাক্ষোভিক বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে বৃদ্ধি জড়িত। সুতরাং বৃদ্ধির সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক রয়েছে যদিও বৃদ্ধি সবসময় শিক্ষার উপর প্রভাব সৃষ্টি করে না।

বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা

বৃদ্ধি অর্থাৎ শিশুর দৈহিক বিকাশ নিজস্ব নিয়মে হয়। বৃদ্ধিকে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ দ্বারা আনা যায় না। যেমন- অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল শিশুর বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল শিশুর বৃদ্ধি একই নিয়মে ঘটলেও পুষ্টিগত পার্থক্যের জন্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বৃদ্ধি বা দৈহিক বিকাশ যাতে যথাযথ হয় সেক্ষেত্রে শিক্ষকের কিছুটা দায়িত্ব থাকে। সেগুলি হল

(1) পরামর্শদান: শিক্ষকের দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধি বা দৈহিক বিকাশ যথাযথ হচ্ছে কি না সে সম্পর্কে অবগত হওয়া। অনেকসময় দেখা যায় কোনো শিক্ষার্থীর বৃদ্ধি বয়সের তুলনায় কম বা বেশি, সেক্ষেত্রে সেই শিক্ষার্থীর অন্যান্য স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিযোজনে অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষকের কর্তব্য হল এ ব্যাপারে অভিভাবককে যথাযথ পরামর্শদান এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া।

(2) শরীরচর্চার সুযোগ: বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম, খেলাধুলা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শরীরচর্চার সুযোগ দ্বারা দৈহিক অঙ্গসঞ্চালনের ব্যবস্থা করলে দৈহিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিপুষ্টি হয়। তাই শিক্ষকের কাজ হল খেলাধুলা, ব্যায়াম, বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চামূলক কাজের মাধ্যমে তার বৃদ্ধি তথা দৈহিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা যায়। সুতরাং শিক্ষকের কাজ হল বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের সহপাঠক্রমিক কাজের ব্যবস্থা করা যেগুলি দৈহিক বিকাশ তথা বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক হয়। তাই সহপাঠক্রমিক কাজে বিভিন্ন ধরনের শ্রমমূলক কাজের ব্যবস্থা করা দরকার।

(3) পাঠদান: শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বয়সে বৃদ্ধির পরিমাণ বিভিন্ন। খেলাধুলা বিষয়ক শিক্ষকের এই বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান রয়েছে। তাই তিনি শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃদ্ধি বা দৈহিক বিকাশ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোর প্রতি চাহিদা সৃষ্টি করবেন এবং সেই চাহিদা যাতে মেটানো যায় তার ব্যবস্থা করবেন। বৃদ্ধি বা দৈহিক বিকাশের সঙ্গে ব্যক্তির অন্যান্য বিকাশ সম্পর্কযুক্ত, তাই বৃদ্ধি সম্বন্ধে যথাযথ বিজ্ঞানসম্মত ধারণা দেওয়া শিক্ষকের কর্তব্য।

আরও পড়ুন – মনোবিজ্ঞানে অনুসন্ধানের পদ্ধতিসমূহ প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment