বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানগুলির নাম লেখো। বৃদ্ধি ও বিকাশের শিক্ষাগত তাৎপর্য উল্লেখ করো
বৃদিথ ও বিকাশের প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান
বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানগুলিকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- অভ্যন্তরীণ উপাদান এবং বাহ্যিক উপাদান।
(1) অভ্যন্তরীণ উপাদান: অভ্যন্তরীণ উপাদানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলি হল- জন্মসূত্রে প্রাপ্ত উপাদান, জৈবিক ও গঠনগত উপাদান, প্রাক্ষোভিক উপাদান, সামাজিক প্রকৃতি, সম্ভাবনা, প্রবণতা, বুদ্ধি প্রভৃতি।
(2) বাহ্যিক উপাদান: বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রভাব বিস্তারকারী বাহ্যিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলির দুটি ভাগ আছে। যথা- মাতৃগর্ভে থাকাকালীন পরিবেশ এবং জন্ম পরবর্তী পরিবেশ।
- মাতৃগর্ভকালীন পরিবেশ: যেমন- এবং সামাজিক স্বাস্থ্য, মায়ের পুষ্টি, মায়ের শারীরিক, মানসিক মায়ের পরিচর্যা, শরীরে বংশগত কোনো কঠিন রোগ আছে কি না, মায়ের গর্ভকালীন অবস্থায় মা কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে কি না, এ ছাড়া আঘাতজনিত সমস্যা, প্রসব স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক ইত্যাদি।
- জন্ম পরবর্তী পরিবেশ: জন্মগ্রহণের পরবর্তী পরিবেশ যেমন- শিশুর জীবনে কোনো বিশেষ ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সুস্থ প্রাকৃতিক এবং সামাজিক পরিবেশ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (প্রসূতি এবং সদ্যজাত-র), কৃষ্টিগত সুযোগসুবিধাগুলির গুণগত মান ইত্যাদি। উপরোক্ত উপাদানগুলি শিশুর বৃদ্ধি এবং বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিক্ষাগত তাৎপর্য
বৃদ্ধি এবং বিকাশের শিক্ষাগত তাৎপর্যগুলি নিম্নে আলোচনা করা হল-
(1) প্রথমত: পরিণমন ছাড়া শিখন প্রায় অসম্ভব। আর ব্যক্তি শিশুর এই পরিণমন আসে বৃদ্ধি এবং বিকাশের হাত ধরে। অর্থাৎ এককথায় বৃদ্ধি ও বিকাশ ছাড়া শিখন সম্ভব নয়। শিখনের জন্য বৃদ্ধি ও বিকাশের অধিক – প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
(2) দ্বিতীয়ত: আমরা জানি জীবনবিকাশের বিভিন্ন স্তরে বিকাশ বিরামহীন – নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া হিসেবে থাকে। তাই বিকাশ কোনো কারণে ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিকের বৈশিষ্ট্যের উন্নতির প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকে না।
(3) তৃতীয়ত: পূর্ববর্তী শিখন যেমন পরবর্তী শিখনের উপর প্রভাব • বিস্তার করে তেমনই রীতি অনুযায়ী শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের ধারা শিশুর আগামী দিনের বৃদ্ধি বিকাশের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে।
(4) চতুর্থত: ক্রমবিকাশের স্তরে শিশুর আচরণগত পরিবর্তন সর্বদা সাধারণধর্মী নীতি থেকে বিশেষধর্মী নীতির দিকে এগিয়ে যায়। এই সাধারণ থেকে বিশেষ সামান্যীকরণের নীতি শিশুর শিখন প্রক্রিয়া, শিখন অভিজ্ঞতা বিন্যাসে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
(5) পঞ্চমত: ব্যক্তি বৈষম্যের নীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিশুর বিকাশের বিভিন্ন স্তরে বৃদ্ধি ও বিকাশের পার্থক্য আছে। এ কথা স্মরণে রেখে প্রতিটি শিশুকেই তার বিকাশের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনমতো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তবেই শিশুর সার্বিক বিকাশ সুসম্পন্ন হবে এবং শিশু পরিবেশের সঙ্গে সার্থক সংগতিবিধানে সমর্থ হবে।
(6) ষষ্ঠত: শিশুর বৃদ্ধি-বিকাশ এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশের ক্ষেত্রে বংশগতি এবং পরিবেশের যৌথ ভূমিকা বর্তমান। যেহেতু বংশধারার কোনোরূপ পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাই শিশুর ব্যক্তিত্বের উন্নতির জন্য পরিবেশগত উপাদানের যথাসম্ভব উন্নতি করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এমন অনুকূল পরিবেশ রচনা করতে হবে যা শিশুর সম্ভাবনাগুলির বিকাশে উপযুক্ত হয়। এর জন্য শিশুর পারিবারিক পরিবেশ এবং বিদ্যালয় পরিবেশ সর্বাগ্রে উন্নত করা প্রয়োজন।