বংশগতি কাকে বলে? শিশুর বিকাশে বংশগতির প্রভাব লেখো

বংশগতি কাকে বলে? শিশুর বিকাশে বংশগতির প্রভাব লেখো

বংশগতি

যে নির্দিষ্ট রীতি বা পদ্ধতির মাধ্যমে জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী বংশগুলিতে সঞ্চারিত হয় ও প্রকাশ পায় তাকে বংশগতি বলে। বংশগতি হল শিশুর সহজাত বৈশিষ্ট্য, যা নিয়ে শিশু জন্মায়। Stone-এর মতে, “জন্মসূত্রে পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জৈবিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়কে বংশগতি বলে।” সহজ কথায় বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্যগুলি তাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়াকে বলে বংশগতি। শুধু মানুষ নয়, পশুপাখি, গাছপালা, ব্যাকটেরিয়ার মধ্যেও বংশগতির প্রভাব লক্ষণীয়। 

শিশুর বিকাশে বংশগতির প্রভাব

(1) জিনের প্রভাব: ক্রোমোজোমে উপস্থিত জিন আমাদের উচ্চতা, চুলের রং, ত্বকের বর্ণ এমনকি বুদ্ধিকেও প্রভাবিত করে, রক্তের চারটি গ্রুপ (A, B, AB এবং ০) নির্ধারণ করে। এ ছাড়া লোহিত কণিকার Rh ফ্যাক্টর নির্ধারণ করে জিন।

(2)  দৈহিক বিকাশ: দৈহিক বিকাশ বলতে ব্যক্তির দৈহিক আকৃতি, গঠন, গায়ের রং, চুলের রং প্রভৃতিকে বোঝায়। গ্রন্থির কার্যপ্রণালীর উপর শিশুর দেহের বৃদ্ধি ও মনের গঠন অনেকটা নির্ভরশীল।

(3) মানসিক বিকাশ: মানসিক বিকাশ বলতে ব্যক্তির মানসিক বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। এগুলির মধ্যে ব্যক্তির প্রাক্ষোভিক সংগঠনগুলি প্রধান। এ ছাড়া ব্যক্তির কাল্পনিক ক্ষমতা, বুদ্ধি, চিন্তা প্রভৃতি এই শ্রেণির অন্তর্গত।

(4) মনোপ্রকৃতিগত বিকাশ: মনোপ্রকৃতিগত বিকাশ বলতে ব্যক্তির মনের যে প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য থাকে, তাকে বোঝায়। যাকে আমরা চলতি কথায় মেজাজ বা Mood বলি। বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে মনোপ্রকৃতিগত বৈষম্য বেশি মাত্রায় দেখা যায়।

(5)  লিঙ্গ নির্ধারণ: লিঙ্গ নির্ধারণেও বংশগতির প্রভাব আছে। নারীর ডিম্বাণুর ক্রোমোজোমগুলি সব XX এবং পুরুষের শুক্রাণুর ক্রোমোজোমগুলি XYI

(6) বংশগত বিশৃঙ্খলা : অনেকরকম রোগ জন্মসূত্রে বাবা-মা-এর কাছ থেকে সন্তানদের মধ্যে সঞ্চালিত হয়।

(7) হাইপারটেনশন: উচ্চ রক্তচাপ একটি বংশগত ব্যাধি।

(8) সায়োপিয়া: এর ফলে দূরের জিনিস ভালো করে দেখা যায় না। বাবা-মায়ের এই ব্যাধিটি সন্তানের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।

(9) হিমোফিলিয়া : এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে রক্ত জমাট বাঁধে না, এটি বংশগতির প্রভাবেও হতে পারে। ফলে আঘাত পেলে অস্ত্রোপচারের সময় রক্ত বন্ধ হতে চায় না।

(10)  Muscular Dystrophy: এটি বংশগত রোগ, যাতে দেহের পেশিগুলি ক্রমশ দুর্বল হয় ও শুকিয়ে যায়।

(11)  ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য: বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, যেমন- রুক্ষতা, অন্তর্মুখিতা-বহির্মুখিতা, ভীতি, অলসতা, সরলতা ইত্যাদি বংশগতভাবে একটি শিশুর মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং বংশগতভাবে যেসব বৈশিষ্ট্যগুলি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায়, সেই বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর রেখে শিক্ষাদান করা দরকার এবং এর ফলে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের বিকাশ ঘটানো সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন – মনোবিজ্ঞানে অনুসন্ধানের পদ্ধতিসমূহ প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment