প্রতিজ্ঞাসাধনম প্রশ্ন উত্তর একাদশ শ্রেণি সংস্কৃত 2nd Semester

১. “সমস্তং গগনতলং প্রাবৃণোৎ”-কী ‘গগনতল’ ছেয়ে ফেলল? তার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
ঘন মেঘের দল চারদিক অন্ধকার করে দিয়ে সারা আকাশ ছেয়ে ফেলল।
কবি অম্বিকাদত্ত ব্যাসের ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ নামক গদ্যাংশের শুরুতে আষাঢ় মাসের এক দুর্যোগপূর্ণ সন্ধ্যার বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, সন্ধ্যা আসছে, সূর্য অস্ত যাচ্ছে। এমন সময়, রাশি রাশি মেঘের উদয় হল। প্রথমে হালকা ছড়ানো থাকলেও পরে একত্রিত হয়ে পাহাড়ের চূড়ার আকার ধারণ করল এবং চারদিক অন্ধকার করে দিয়ে সমস্ত আকাশ ছেয়ে ফেলল।
২. “গৌরো যুবা হয়েন … গচ্ছতি স্ম”-কে এই গৌর যুবা? তার পরিচয় দাও।
• এই গৌর যুবা শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর শ্রীরঘুবীরসিংহ।
• তার শরীর সুগঠিত। কালো কুচকুচে কোঁকড়ানো চুলের গুচ্ছ তার কোমল গালে পড়েছে। অনেক দূর থেকে আসছে বলে তার কপালে, গালে, নাকের সম্মুখের অংশে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। প্রসন্ন মুখে অবিচল সংকল্প দেখা যাচ্ছে। সবুজ রংয়ের উয়ীষ পরে আছে। সবুজ বর্ম কঞ্জুক ধারণের দ্বারা বোঝা যাচ্ছে সে বিশেষ গুপ্তচর।
৩. “প্রসন্ন-বদানাম্ভোজঃ, হরিতোঘ্নীষশোভিতঃ” এখানে শিবাজীর অনুচরের কোন্ কোন্ রূপের বর্ণনা করা হয়েছে?
• শিবাজীর অনুচর এক যুবক পাহাড়ি পথ ধরে চলেছে শিবাজীর এক চিঠি সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে পৌঁছে দিতে। বন্ধুর পাহাড়ি পথ। তাহলেও তার মুখে কোনো বিরক্তির ছাপ নেই। উপরন্তু তার মুখে ফুটে উঠেছে প্রসন্নতা। সে তার কার্যসাধনে নিশ্চয়ই সফল হবে, এই বোধ প্রকট। আর তার উন্নীষ সবুজ বর্ণের, এটাও তার রাজপুরুষত্বের প্রতীক।
৪. পাহাড়ি পথে ভ্রমণরত গৌরবর্ণে যুবকের শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করো।
• পাহাড়ি পথে ভ্রমণরত গৌরবর্ণ যুবকটি হল শিবাজীর বিশ্বস্ত অনুচর। তার শরীর সুগঠিত। মাথায় কালো কোঁকড়ানো চুল। গালের ওপর পড়ছে। দূর থেকে আসছে বলে বিন্দু বিন্দু ঘাম তার কপালে, গালে, নাকের ডগায় আটকে আছে।
৫. পাঠ্যাংশে শিবাজীর দুটি দুর্গের নাম আছে, সেগুলি কী কী? সেগুলি কোথায় অবস্থিত?
• শিবাজীর দুটি দুর্গের নাম সিংহদুর্গ এবং তোরণদুর্গ।
• দুটি দুর্গই মহারাষ্ট্রের পুণে জেলায় অবস্থিত।
৬. “তস্যৈর পত্রমাদয় তোরণদুর্গং প্রয়াতি”-‘তস্য’ পদের দ্বারা কাকে বোঝানো হয়েছে। ‘প্রয়াতি’ পদের দ্বারা যাকে বোঝানো হয়েছে তার পরিচয় দাও।
• ‘তস্য’ পদের দ্বারা শিববীর অর্থাৎ শিবাজীকে বোঝানো হয়েছে।
• ‘প্রয়াতি’ পদের দ্বারা শিবাজীর বিশ্বস্ত এক অনুচরকে বোঝানো হয়েছে। সে শিবাজীর একটি চিঠি নিয়ে তোরণদুর্গে যাচ্ছিল। অনুচরটির বয়স ১৬র কাছাকাছি। ফরসা, যুবক, ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়ি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তার দৃঢ় শরীর, কুঞ্চিত কেশ আর কপালে, গালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।
৭. শিবাজীর অনুচর কী উদ্দেশ্যে পাহাড়ি পথ ধরে যাচ্ছিল?
• শিবাজীর অনুচর এক বলিষ্ঠ যুবক ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়ি পথ ধরে যাচ্ছিল। বস্তুত সে ছিল এক গুপ্তচর। সে শিবাজীর একটি গোপন চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল।
৮. “হরিতেনৈর চ কঞ্জুকেন প্রকটীকৃত-ব্যূঢ়গূঢ়চরতা-কার্যঃ” -কার সম্বন্ধে এই উক্তিটি করা হয়েছে? উক্তিটির দ্বারা তার কোন্ কার্যকলাপের কথা বলা হয়েছে?
• শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর সম্বন্ধে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।
• অনুচরের শরীরে এক সবুজ কঞ্জুক অর্থাৎ বর্ম বাঁধা আছে। তার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে সে এক গুপ্তচর। বর্তমানে সে সুদূরপ্রসারী এক গোপন কার্যে ব্যস্ত। সে শিবাজীর এক চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে পৌঁছে দিতে যাচ্ছে।
৯. “অকস্মাদ উত্থিতো মহান্ ঝঞ্ঝাবাতঃ”-কোন্ সময়ে ঝঞ্ঝাবাতাস উঠেছিল? তার ফলে কী হল?
আষাঢ় মাসের এক সন্ধ্যাবেলায় ঝঞ্ঝাবাতাস উঠেছিল।
• সন্ধ্যায় এমনিতেই চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। আবার, ঝঞ্ঝার হাওয়াতে উড়ে এল ধূলিরাশি। ঝরেপড়া পাতা, কুসুমের রেণু আর শুকনো ফুল উড়ে এল সেই বাতাসে। সন্ধ্যার অন্ধকার মেঘের দ্বারা দ্বিগুণ হয়েছিল। বাতাসে এইসব উড়ে আসাতে সেই অন্ধকার আরও দ্বিগুণ হল।
১০. শিবাজীর অনুচরের চলার পথের বর্ণনা দাও।
শিবাজীর অনুচর ছিল ষোলো বছরের বলিষ্ঠ যুবক। পাহাড়ি পথে ঘোড়ায় চড়ে সে যাচ্ছিল। সেই পথ ছিল খুবই দুর্গম। বনভূমি-সংকীর্ণ, অনেক পর্বতশৃঙ্গ পড়ছে সেই পথে। জলপ্রপাতও দেখা যাচ্ছিল। পাহাড়ের ওপরে সমতল অধিত্যকা ভূমি ছিল, পাহাড়ের কাছে সমতল উপত্যকাও ছিল। সেই পথে মাঝে মাঝেই ছিল মসৃণ পাথর, যার ফলে ঘোড়ার খুর পিছলে যাচ্ছিল।
১১. “পন্থা অপি নাবলোক্যতে।”-কেন পথ দেখা যাচ্ছিল না?
• শিবাজীর অনুচর বলিষ্ঠ যুবকটি যখন নিজের গোপন রাজকার্য সম্পন্ন করার জন্য পাহাড়ি পথ ধরে যাচ্ছিল তখন ছিল আষাঢ় মাসের এক সন্ধ্যা। সেই সন্ধ্যায় চারদিক অন্ধকার হয়ে এসেছিল। তার ওপর উঠল ঝঞ্ঝাবাতাস। বাতাসে উড়ে এল ধুলো, ঝরা-পাতা, ফুলের রেণু, শুকনো ফুল। তাতে অন্ধকারের গভীরতা আরও বেড়ে গেল। সেই কারণে পথও আর দেখা যাচ্ছিল না।
১২. “সাদী ন স্বকার্যাদ্ বিরমতি।”-‘সাদী’ কে? ‘সাদী’ শব্দের অর্থ কী? সে কোন্ কার্য থেকে বিরত হয়নি?
‘সাদী’ হল শিবাজীর বিশ্বস্ত অনুচর।
• ‘সাদী’ শব্দের অর্থ হল অশ্বারোহী।
সে শিবাজির একটি চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে যাচ্ছিল। পথ দুর্গম, বন্ধুর, সন্ধ্যায় ঝড় উঠল। পথ অন্ধকারময় হয়ে উঠেছিল। তা সত্ত্বেও চিঠি নিয়ে যাওয়ার কাজে সে বিরত হয়নি।
১৩. “কবলীকৃতমিব গগনতলম।”-গগনতল কার দ্বারা, কেমনভাবে কবলীকৃত হল?
• সন্ধ্যায় যখন ঝঞ্ঝাবাতাস বইতে শুরু করল তখন চারদিকে হাজার হাজার গাছের ঝুলে পড়া ডালগুলির সংস্পর্শে ভীষণ শব্দ হতে লাগল। হাওয়ার আঘাতে খসে-পড়া পাথরের সঙ্গে ঝরনার জলের সংঘর্ষে শব্দ উঠল। প্রাণীরা এমন চিৎকার করতে লাগল যে, তারা যেন ঘোর অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। আকাশ যেন এইসব শব্দের কবলে পড়ল।
১৪. “কৃতপ্রতিজ্ঞোহসৌ শিববীরচরো ন নিজকার্যান্নিবর্ততে।” -এখানে কার, কোন্ প্রতিজ্ঞার কথা বলা হয়েছে?
• শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর শ্রীরঘুবীরসিংহ তার প্রভুর এক চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে যাচ্ছিল। সন্ধ্যার সময় উঠল এক মহাঝঞ্ঝা। দুর্গম পাহাড়ি পথ। তার ওপর ঝঞ্ঝার দাপটে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। গাছের ডালের ঘর্ষণে, পাথর আর ঝরনার জলের সংঘর্ষে, মহান্ধকারে প্রাণীদের আর্ত চিৎকারে আকাশ ভরে গেল। বিদ্যুতের ঝলকানি আর বজ্রের শব্দে বন ভরে গেল। বলিষ্ঠ অনুচর কিন্তু থামল না। চিঠি তাকে পৌঁছে দিতেই হবে। তার প্রতিজ্ঞা ছিল, কার্যের সাধন অথবা শরীর পাতন।
১. ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ গদ্যাংশের রচয়িতা অম্বিকাদত্ত ব্যাসের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
• ঊনবিংশ শতকের ব্রজভাষার এবং সংস্কৃত ভাষার একজন প্রসিদ্ধ কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার এবং প্রাবন্ধিক হলেন অম্বিকাদত্ত ব্যাস। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে অম্বিকাদত্তের জন্ম হয় জয়পুরে। তাঁর বাবার নাম দুর্গাদত্ত। বাবার সঙ্গে অম্বিকাদত্তও কাশীতে এসে বসবাস করতে লাগলেন। এই সময় জীবনের বেশ কিছু বছর তাঁর অর্থসংকটে কাটে। তারপর ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি মধুবনী সংস্কৃত পাঠশালার প্রধানাচার্য নিযুক্ত হন। এই সময় থেকে তাঁর অর্থাভাব কিছুটা দূর হয়। এরপর ১৮৮৬ থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মুজফ্ফরপুর জেলা স্কুলের হেড পণ্ডিত ছিলেন। জীবনের শেষ এক-দুই বছরের জন্য পাটনা কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়।
অম্বিকাদত্ত হিন্দি এবং সংস্কৃত উভয় ভাষাতেই সাহিত্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন। তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ৭৫। বাণভট্টের মতো সংস্কৃত গদ্য রচনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। শিবাজীর জীবন নিয়ে রচিত ‘শিবরাজবিজয়ম্’ সংস্কৃত গদ্য রচনায় অম্বিকাদত্তের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ধরা পড়েছে। এ ছাড়া ‘সহস্রনামরামায়ণম্’, ‘রত্নাষ্টকম্ কথা’, ‘সামবতম্ নাটক’, ‘গণেশশতকম্ স্তুতিকাব্য’, ‘কথাকুসুমম্’ প্রভৃতি সংস্কৃত রচনা বহুপরিচিত।
২. ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ পাঠ্যাংশে প্রকৃতির যে রূপ বর্ণিত হয়েছে, তার একটা বাণীচিত্র অঙ্কন করো।
• অম্বিকাদত্ত ব্যাসের রচিত ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ গদ্যাংশের শুরুতেই আষাঢ় মাসের এক সন্ধ্যার বর্ণনা দৃষ্টিগোচর হয়। অস্তাচলগামী ভগবান সূর্য অস্তাচলে যাচ্ছেন। পশ্চিম দিকে লাল মেঘের দল জড়ো হয়েছে। তারা যেন সিঁদুর-গোলা জলে স্নান করেছে। সেই লাল মেঘের মধ্যে ঢুকে পড়লেন সূর্যদেব। চড়াই পাখিরা বাচ্চাদের কলরবে পরিপূর্ণ বাসায় ফিরে যাচ্ছে। প্রতিক্ষণে আরও আরও কালো হয়ে যাচ্ছে বন। হঠাৎ এমন সময় চারদিকে মেঘরাশি এসে হাজির হল। তারা পর্বতমালার মতো দেখতে। এতক্ষণ সেগুলি অল্পবিস্তৃত ছিল। তারপর পরস্পরযুক্ত হয়ে ঘোর অন্ধকার করে সমস্ত আকাশ ছেয়ে ফেলল।
৩. “গৌরো যুবা হয়েন পর্বতশ্রেণীরুপর্যুপরি গচ্ছতি স্ম” -উল্লিখিত যুবকের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দাও এবং তার যাওয়ার উদ্দেশ্যটি লেখো।
• গৌর অর্থাৎ ফরসা যুবকটি ছিল শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর শ্রীরঘুবীরসিংহ। পাহাড়ের উঁচুনীচু দুর্গম রাস্তা ধরে ঘোড়ায় চড়ে সে যাচ্ছিল। তার বয়স বছর যোলো হবে। তার ছিল সুন্দর অঙ্গের গঠন এবং সুঠাম শরীর। কালো- কালো গুচ্ছ-গুচ্ছ কোঁকড়ানো চুল গালের ওপর এসে পড়েছে। অনেক দূর থেকে আসছে। এইরকম বন্ধুর পথ চলার ধকলে তার কপালে এবং গালে ঘামের বিন্দু জমেছে। নাকের অগ্রভাগ, আর ওপরের ঠোঁটেও ঘাম দেখা যাচ্ছে। তার মুখে কোনো ভয়ের বা বিরক্তির চিহ্ন ছিল না, ছিল প্রসন্নতা। এত কষ্টের পথেও তার প্রসন্নতা ইঙ্গিত করছিল যে সে দৃঢ় সিদ্ধান্ত পূরণে অটল। অমিত উৎসাহ তার মুখমণ্ডলে প্রকাশিত হচ্ছিল। তার মাথায় ছিল সবুজ উয়ীষ। বুকে ছিল সবুজ বর্ম। এটাই ছিল তার গুপ্তচর হওয়ার চিহ্ন।
৪. “হরিতেনৈব চ কঞ্জুকেন প্রকটীকৃত-ব্যূঢ়গূঢ়চরতা-কার্যঃ” -উক্তিটি কার বিশেষণ? উক্তিটির আলোকে বর্ণনীয় ব্যক্তিটির পরিচয় দাও।
• উক্তিটি শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর শ্রীরঘুবীরসিংহের বিশেষণ।
সে শিবাজীর এক গোপন চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে পৌঁছে দিতে যাচ্ছে। যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছে। তাহলেও এই পাহাড়ি পথ অতি দুর্গম। স্বাভাবিকভাবেই সওয়ারিরও কষ্ট কম হচ্ছে না। তার দেহে রয়েছে সবুজ বর্ম। এই বিশেষ বর্ণের বর্মের দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, সে অত্যন্ত দক্ষ এবং পদস্থ গুপ্তচর। তাই তার প্রভু তাকে গোপন রাজকার্যে নিযুক্ত করেছেন।
৫. ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ শীর্ষক গদ্যাংশ অবলম্বনে ঝঞ্ঝাবাতের বর্ণনা দাও।
অথবা, পাঠ্য ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’-এ প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো।
‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ শীর্ষক গদ্যাংশে কবি অম্বিকাপ্রসাদ ঝঞ্ঝাবাতের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর তার প্রভুর এক চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে যাচ্ছে তখন পথে উঠল এক প্রচণ্ড ঝড়। আষাঢ়ের সন্ধ্যা। এমনিতেই সন্ধ্যাকালের স্বাভাবিক অন্ধকার। তার ওপর পুঞ্জীভূত মেঘ সেই অন্ধকারকে দ্বিগুণ করে তুলল। আবার, ঝড়ে ওঠা ধুলোয়, ঝরেপড়া পাতায়, ফুলের পরাগে আর শুকনো ফুলে সেই দ্বিগুণ অন্ধকারকে আরও অনেকখানি বাড়িয়ে দিল। তার ওপর পাহাড়ি পথ, জলপ্রপাত, অধিত্যকা, উপত্যকা। এই রকম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন অশ্বারোহী শিবাজী।
৬. “পুনরেষ দ্বৈগুণ্যং প্রাপ্ত”-‘এষঃ’ শব্দের দ্বারা এখানে কাকে বোঝানো হয়েছে। কীভাবে তার অবস্থা দ্বিগুণ হয়েছিল?
‘এষ’ শব্দের দ্বারা এখানে অন্ধকারের কথা বোঝানো হয়েছে।
• ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ শীর্ষক গদ্যাংশে কবি অম্বিকাপ্রসাদ ঝঞ্ঝাবাতের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর তার প্রভুর এক চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে যাচ্ছে তখন পথে উঠল এক প্রচণ্ড ঝড়। আষাঢ়ের সন্ধ্যা। সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত চলে যাচ্ছে। এমনিতেই সন্ধ্যাকালের স্বাভাবিক অন্ধকার নামছে। তার ওপর পুঞ্জীভূত মেঘের দ্বারা সেই অন্ধকার দ্বিগুণ হয়ে উঠল। এবার উঠল ঝড়। সেই দ্বিগুণ অন্ধকার, ঝড়ে ওঠা ধুলোয়, ঝরে-পড়া পাতায়, ফুলের পরাগে আর শুকনো ফুলে আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠল। মনশ্চক্ষে এই দেখেই কবি বলেছেন- “পুনরেষ দ্বৈগুণ্যং প্রাপ্তঃ”।
৭. ঝঞ্ঝাবাতাস কবলিত পার্বত্যভূমির বর্ণনা দাও।
• ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ শীর্ষক গদ্যাংশে কবি অম্বিকাপ্রসাদ ঝঞ্ঝাবাতের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে দেখতে পাই, শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর তার প্রভুর এক চিঠি নিয়ে সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে যাচ্ছে। তখন পথে উঠল এক প্রচণ্ড ঝড়। সন্ধ্যার অন্ধকার, পুঞ্জীভূত মেঘ এবং ঝড়ে ওঠা ধুলোয় আর ঝরে-পাতায় চতুর্গুণ অন্ধকার ঘনীভূত হল। চারদিকে পর্বতমালা। সেখানে বন, পর্বতশৃঙ্গ, জলপ্রপাত, অধিত্যকা, উপত্যকায় ছেয়ে আছে। সেই পার্বত্যভূমিতে কোনো সোজা পথ নেই। প্রকৃতপক্ষে, ঝঞ্ঝার অন্ধকারে পথ যেটুকু আছে তা-ও ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না।
৮. অশ্বারোহী যুবক কেমনভাবে পার্বত্য পথে যাচ্ছিলেন তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
• শিবাজীর অনুচর এক অশ্বারোহী যুবক পাহাড়ি পথ ধরে চলেছে শিবাজীর এক চিঠি সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে পৌঁছে দিতে। আষাঢ় মাস। সন্ধ্যার সময়। চারদিক অন্ধকার হয়ে এল, তার ওপর কোথা থেকে মেঘের রাশি সেই অন্ধকারকে দ্বিগুণ অন্ধকার করে তুলল। তার ওপরে উঠল ঝড়। ধুলোয়, শুকনো পাতায়, ফুলের পরাগে দ্বিগুণিত অন্ধকার আরও অন্ধকারে ডুবে গেল। পাহাড়ের শৃঙ্গ, বনজঙ্গল, অধিত্যকা, উপত্যকা, ঝরনা, কোনো সমতল ভূমি নেই। পথ ঠিকমতো দেখা যায় না। মসৃণ পাথরে ঘোড়ার পা বারবার পিছলে যাচ্ছে। তবু অবিচলভাবে যুবক তার পথ ধরে চলেছে।
৯. “কার্যং বা সাধয়েয়ম্ দেহং বা পাতয়েয়ং”-লেখকের এইরকম মন্তব্য করার কারণ কী?
আষাঢ় মাসের এক সন্ধ্যা। অন্ধকার হয়ে আসছে। কোথা থেকে মেঘের রাশি সেই অন্ধকারকে দ্বিগুণ করে তুলল। এমন সময় উঠল ঝড়। ধুলোয়, শুকনো পাতায়, ফুলের পরাগে দ্বিগুণিত অন্ধকার আরও অন্ধকারে ডুবে গেল। পাহাড়ের শৃঙ্গ, বনজঙ্গল, অধিত্যকা, উপত্যকা, ঝরনা, কোনো সমতলভূমি নেই। পথ দেখা যায় না। মসৃণ পাথরে ঘোড়ার পা বারবার পিছলে যাচ্ছে। গাছের ডালগুলো দুলে দুলে যুবকের মুখে এসে পড়ছে। তবু যুবক তার পথ ধরে চলেছে। কারণ, সে শিবাজীর একটি চিঠি সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে পৌঁছে দিতে যাচ্ছে। অভাবিত প্রতিকূল দুর্যোগেও সে অবিচল। যুবকটি যেন ‘কার্যের সাধন অথবা শরীরের পাতন’ এই সংকল্পে বলীয়ান।
১০. ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ নামক গদ্যাংশের কাহিনি অবলম্বনে লেখকের রচনাশৈলীর পরিচয় দাও।
• ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ নামক গদ্যাংশটির রচয়িতা হলেন অম্বিকাদত্ত ব্যাস। তিনি ঊনবিংশ শতকের সাহিত্যিক। এই সময়ে সংস্কৃত চর্চার ধারা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে এলেও, গ্রন্থকার তাঁর অনন্য সাধারণ প্রতিভায় সংস্কৃত গদ্য রচনায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে পেরেছেন। সংস্কৃত গদ্যরচনায় বাণভট্টের শৈলীই সাফল্য অর্জন করেছে। যদিও দীর্ঘ সমাসবহুল রচনায় বোধ-উৎপত্তিতে দেরি হয়, তাহলেও যে গদ্যের শোভাযাত্রা আমাদের মুগ্ধ করে, আমরা যেন নিজেরাই সেই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করি। অম্বিকাদত্ত কিছুকিছু ক্ষেত্রে সেইরকম সমাসবদ্ধ পদ প্রয়োগ করেছেন, যেমন-‘বরুণদিগবলম্বিনাম্’, ‘ঝঞ্ঝা-বিভীষিকাভির্বিভীষিতঃ’ ইত্যাদি। তাঁর এই বর্ণনাতেই পাই মেঘ, বিদ্যুৎ, ঝড় প্রভৃতির বর্ণনা। প্রচুর উপমা ব্যবহারের মাধ্যমে লেখক তাঁর রচনাকে মনোজ্ঞ করে তুলেছেন এটি বলা যায়।
১১. ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ শীর্ষক গদ্যাংশে কার কোথায় যাত্রার কথা বর্ণিত হয়েছে? কাহিনির নায়কের চরিত্র বর্ণনা করো।
• ‘প্রতিজ্ঞাসাধনম্’ শীর্ষক গদ্যাংশে শিবাজীর বিশ্বস্ত অনুচরের সিংহদুর্গ থেকে তোরণদুর্গে যাত্রার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কাহিনির নায়ক হল শিবাজীর এক বিশ্বস্ত অনুচর শ্রীরঘুবীরসিংহ। নায়কের চরিত্রে আমরা একটিই মূল বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই-তা হল প্রতিজ্ঞাপরায়ণতা। সে তার প্রভু শিবাজীর একটি গোপন চিঠি নিয়ে এক দুর্গ থেকে আর-এক দুর্গে যাচ্ছে। বন্ধুর পথ, ভয়ংকর বিরূপ প্রকৃতি-তা সত্ত্বেও সে তার লক্ষ্যে অবিচল। তার কাছে একটি মন্ত্র আছে, সেটি হল-‘কার্যং বা সাধয়েয়ম্, দেহং বা পাতয়েয়ম্’, অর্থাৎ মন্ত্রের সাধন অথবা শরীর পাতন।
এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নায়কের অন্য ছোটো ছোটো যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি এসে জড়ো হয়েছে, তা হল সে পরিশ্রমী, সাহসী, বিপদে অকুতোভয়। এইসব গুণের জন্যই সে তার প্রভুর প্রিয়পাত্র ও বিশ্বস্ত।
১২. ভাবসম্প্রসারণ করো: ‘কার্যং বা সাধয়েয়ং, দেহং বা পাতয়েয়ম্’।
অথবা, তাৎপর্য লেখো: ‘कार्य वा साधयेयम् देहं वा पातयेयम्’।
• ‘মন্ত্রের সাধন অথবা শরীর পাতন’-এই উক্তি আমাদের জীবনে অঙ্গীভূত হয়ে আছে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই মন্ত্র প্রত্যেক বিপ্লবীর জীবনে অনুরণিত হয়েছে। তাই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। মহাত্মা গান্ধি তাঁর সংগ্রামী জীবনে যে মন্ত্র ধারণ করেছিলেন, তা এই ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’। কার্যসাধনে জীবনকে তুচ্ছ না করলে সাফল্য আসে না। মহৎ কার্যসিদ্ধিতে যুগে যুগে একই বাণী আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। খুব বড়ো উদ্দেশ্য না হলেও ছোটোখাটো ব্যাপারে, খেলাধুলাতে বড়োরা আমাদের অনুপ্রাণিত করে, ‘প্রাণপণ চেষ্টা করো, সাফল্য আসবেই’। তাই চিরন্তন এই বাণীর সঙ্গে আমাদের পরিচয় চিরন্তনই।
আরও পড়ুন – শিক্ষাশ্রয়ী মনোবিজ্ঞানের অর্থ প্রশ্ন উত্তর