“আর শুয়ে থাকলি ওদিকি আবার সব গোলমাল হয়ে যাবেনে।”- বক্তা কে এবং এখানে ‘ওদিকি বলতে কোন্ দিকের কথাটা বলা হয়েছে? ‘গোলমাল হয়ে যাওয়ার কারণ কী

“আর শুয়ে থাকলি ওদিকি আবার সব গোলমাল হয়ে যাবেনে।”- বক্তা কে এবং এখানে ‘ওদিকি বলতে কোন্ দিকের কথাটা বলা হয়েছে? ‘গোলমাল হয়ে যাওয়ার কারণ কী

বক্তা

নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য বিরচিত ‘আগুন’ নাটকের প্রথম দৃশ্যে উল্লিখিত উদ্ধৃতিটির বক্তা ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষপীড়িত জনৈক পুরুষ।

যেদিক

দুর্ভিক্ষকালীন পরিস্থিতিতে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করা বহু মানুষের নিত্যদিনের কর্মসূচি ছিল। আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ‘ওদিকি’ বলতে চাল যেখান থেকে সংগ্রহ করতে হবে, সেদিকের কথা বলা হয়েছে।

কারণ

১৩৫০ বঙ্গাব্দের আকালে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত, ক্ষুধার অন্ন জোগাড় করতে সকলেরই অবস্থা হিমসিম। কাকভোরে খাদ্যের লাইনে অপেক্ষারত বহু ক্ষুধার্ত মানুষ। তাই সকাল সকাল যদি নেত্য কিংবা নেত্যর মা খাদ্যের লাইনে না দাঁড়ায়, তাহলে বেলা বাড়লে চাল নাও পেতে পারে। সবসময়ই তাদের একটাই চিন্তা- ‘চাল পাবা কি পাবা না।’

মণিচাঁদ দেরিতে গিয়ে একদম লাইনের পিছনে দাঁড়ানোয় চাল পায়নি। জনৈক পুরুষটি কুড়োনের মাকেও খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসতে দেখেছে। তাই এমন সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে তার মনে হয়েছে সকাল সকাল লাইনে না দাঁড়িয়ে শুয়ে থাকলে সব গোলমাল হয়ে যাবে, অর্থাৎ অভুক্ত অবস্থায় দিন যাপন করতে হবে। আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ক্ষুধার্ত মানুষের জীবনযন্ত্রণার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

আরও পড়ুন – আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment