শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো (Class 11 Exclusive )

শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান পদ্ধতি, শিক্ষার লক্ষ্য, পাঠক্রম, শিক্ষকের ও শিক্ষার্থীর ভূমিকা, শৃঙ্খলা ইত্যাদি মনোবিজ্ঞানসম্মত করতে হলে যেসব নীতি, তত্ত্ব প্রয়োজন সেই সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে মনোবিজ্ঞানের এই শাখায়।

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো
শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা করো

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতিগুলি হল-

মনোবিজ্ঞানের শাখা: শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান পদ্ধতি, শিক্ষার লক্ষ্য, পাঠক্রম, শিক্ষকের ও শিক্ষার্থীর ভূমিকা, শৃঙ্খলা ইত্যাদি মনোবিজ্ঞানসম্মত করতে হলে যেসব নীতি, তত্ত্ব প্রয়োজন সেই সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে মনোবিজ্ঞানের এই শাখায়।

প্রয়োগমূলক বিজ্ঞান: শিক্ষার তাত্ত্বিক দিককে মনোবিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রয়োগ কীভাবে করা যায়, তাই আলোচনা করে শিক্ষামূলক মনোবিজ্ঞান। তাই একে প্রয়োগমূলক বিজ্ঞান বলে।

পৃথক বিজ্ঞান: কোনো বিষয়কে তখনই বিজ্ঞান বলা যায় যখন সেই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের সূত্র, নীতি, তত্ত্ব, পরীক্ষা, গাণিতিক বিষয় ইত্যাদি থাকে। এইসব দিক থেকে বিবেচনা করলে পাওয়া যায় শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের মতই বিভিন্ন দিকগুলি রয়েছে, তাই শিক্ষা মনোবিজ্ঞানও একটি পৃথক বিজ্ঞান।

আন্তরবিজ্ঞান: মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন একক ব্যাখ্যা করতে গেলে অনেক সময় সমাজবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, নৃতত্ত্ব, জীবনবিজ্ঞান, গণিত ইত্যাদি সাধারণ বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন অর্থাৎ শিক্ষা মনোবিজ্ঞানকে আন্তরবিজ্ঞান সম্পর্কযুক্ত বলা হয়।

গতিশীল বিষয়: শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করে এবং এর ফলে নিত্যনতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিভিন্ন নতুন সূত্র, তত্ত্ব, নীতি ইত্যাদি যেমন পাওয়া যাচ্ছে তেমনি পুরাতন তত্ত্ব, নীতি ইত্যাদির পরিবর্তনও ঘটছে। সুতরাং শিক্ষা মনোবিজ্ঞান একটি গতিশীল বিষয়।

সমাজ ও মানবকল্যাণে নিয়োজিত: শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের সম্ভবনার বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তির বিকাশ সমাজ তথা মানবকল্যাণের বিকাশে সাহায্য করে। সুতরাং শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্যতম প্রকৃতি হল মানবজাতির কল্যাণসাধন।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য: শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় কারণ কোনো দুজন ব্যক্তির সমস্ত বৈশিষ্ট্য কখনই এক হয় না। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের নীতিকে স্বীকার করে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়।

বিস্তৃত পরিধি: শিক্ষা মনোবিজ্ঞান এখন আর শুধু প্রয়োগমূলক বিজ্ঞান নয়। এর নিজস্ব পরীক্ষামূলক দিকও রয়েছে। এই মনোবিজ্ঞান শিশুমন ও শিখন সংক্রান্ত বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সুতরাং শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক, ব্যাবহারিক ও পরীক্ষামূলক দিক রয়েছে। তাই শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত।

বিভিন্ন কৌশলের ব্যবস্থা: শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে যেমন ব্যক্তিভিত্তিক কৌশল অর্থাৎ পর্যবেক্ষণ, আত্ম বিবৃতিমূলক কৌশল, প্রশ্নোত্তরিকা, কেস স্টাডি ইত্যাদি রয়েছে তেমনই নৈমিত্তিকভিত্তিক কৌশল যেমন পরীক্ষা পদ্ধতি, পরিসংখ্যান ইত্যাদিও আছে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞান প্রক্রিয়ার সাহায্যে শিশুর বিভিন্ন ধরনের আচরণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি বা কৌশল ব্যবহার করা হয়। আধুনিক শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে রাশিবিজ্ঞানের বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়।

স্বকীয় পরীক্ষামূলক পদ্ধতি গবেষণা ও অনুশীলন কেন্দ্র : বর্তমানে শিক্ষা মনোবিদ্যা মানবিকবিদ্যার জ্ঞান ছাড়াও শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করে। শিশুদের মন ও শিখন বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মনোবিদ্যা। তাই শিক্ষা মনোবিদ্যার নিজস্ব পরীক্ষামূলক দিক গড়ে ওঠে।

সমাজের চাহিদাপূরণ: সমাজের চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার লক্ষ্যেরও পরিবর্তন হয়। শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষার এই লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে সমাজের চাহিদাও পূরণ করে।

সমস্যামূলক আচরণ দূরীকরণ : শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অস্বাভাবিক ও সমস্যামূলক আচরণ দূর করতে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান সাহায্য করে।

সুতরাং শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রকৃতি আলোচনা করে দেখা গেল যে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষণ-শিখন ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের পরিধি

শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে শিক্ষা মনোবিদগণ তার একটি অনুশীলনের ক্ষেত্র স্থির করেছেন। অনুশীলনের ক্ষেত্রগুলি হল-

প্রাথমিক মানসিক উপাদান: প্রতিটি ব্যক্তি সহজাতভাবে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সামর্থ্য নিয়ে জন্মায় যেগুলিকে প্রাথমিক মানসিক উপাদান বলে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর মধ্যে কতকগুলি মানসিক উপাদান (যেমন-বুদ্ধি, প্রবৃত্তি, প্রক্ষোভ, স্মৃতি, চিন্তন, চাহিদা ইত্যাদি) শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির বিশদ জ্ঞানকে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলে শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

বিকাশের ধারণা: প্রাথমিক মানসিক উপাদানের বিকাশের ধারণা জানার জন্য দরকার শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান। বয়স অনুযায়ী শিক্ষার্থীর মধ্যে কী কী দৈহিক, সামাজিক, মানসিক, বৌদ্ধিক, নৈতিক ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় তা বৈজ্ঞানিকভিত্তিতে অনুশীলন করা হয় শিক্ষা মনোবিদ্যায়। শিশুর শুধু বিকাশের জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন হয় তার রূপরেখা আলোচিত হয় এই বিষয়টিতে।

শিখন তত্ত্ব: শিখনের তত্ত্বসমূহ ও তার প্রয়োগ শিক্ষা মনোবিদ্যায় আলোচনা করা হয়। শিখনের প্রকৃতি, শিখনের নিয়মাবলি, সূত্রসমূহ শিখনের পরিমাণকে বাড়ানোর উপায়, শিখন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, শিখনের জ্ঞানমূলক তত্ত্ব, আচরণমূলক তত্ত্ব, শিখনের ক্ষেত্রে নির্মিতিবাদ ইত্যাদি শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

শিখন সঞ্চালন: বিদ্যালয় শিক্ষাকে বৃহত্তর জীবনে সঞ্চালিত করা প্রয়োজন। শিখন সঞ্চালন কত ধরনের হয়, কীভাবে হয়, কীভাবে এর পরিমান বাড়ানো যায়, সঞ্চালনের সমস্যা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য: প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যে আচরণ, মানসিকতা, গ্রহণ ক্ষমতা, বিচার করার ক্ষমতা ইত্যাদিতে পার্থক্য দেখা যায়, যাকে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বলে। এই স্বাতন্ত্র্যের কারণ, প্রকৃতি ইত্যাদির যথাযথ আলোচনা এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকা শিক্ষার লক্ষ্য, পাঠক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শৃঙ্খলা, মূল্যায়ন ইত্যাদির মতো শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ এর পরিধির মধ্যে পড়ে। তাই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের পরিধির মধ্যে রয়েছে।

শিখনের ভিত্তি: শিখনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বুদ্ধি, স্মৃতি, মনোযোগ, ইত্যাদি যেগুলি শিক্ষার জ্ঞানমূলক দিকের অন্তর্ভুক্ত, আবার প্রেষণা, মনোভাব, আগ্রহ ইত্যাদি হল শিক্ষার অনুভূতিমূলক দিক। শিখনের ভিত্তি হিসেবে এই দুটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত ধরনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয় স্মৃতিতে। স্মৃতিতে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও অর্জিত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের ফলে হয় শিখন। শিখন যথাযথ না হলে বিস্মরণ ঘটে। তাই শিখনের ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত সব বিষয়ই শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

শিখন প্রক্রিয়া ব্যাহতকরণ: শিখনের সময় বিভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যার ফলে শিখন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় যেমন অবসাদ, একঘেয়েমি, বিরক্তিকর মানসিক অবস্থা ইত্যাদি। এই ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী পরিবেশ সৃষ্টি হয় কীভাবে, তা কীভাবে দূর করা যেতে পারে ইত্যাদি আলোচনা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের মধ্যে পড়ছে।

মানসিক স্বাস্থ্য: শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে যথাযথভাবে কার্যকরী করতে হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েরই মানসিক স্বাস্থ্য যথাযথ হওয়া প্রয়োজন। তাই মানসিক স্বাস্থ্য কী, কীভাবে সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া যায়, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণগুলি কী কী হতে পারে, অপসংগতি কী, অপসংগতির কারণ, অপসংগতির প্রতিকার, প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি ইত্যাদি সম্পর্কিত বিষয় শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়।

শিক্ষাগত ও বৃত্তিগত নির্দেশনা: শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষাগত ও বৃত্তিগত উভয় ধরনের নির্দেশনার গুরুত্ব রয়েছে। শিক্ষাগত ও বৃত্তিগত নির্দেশনার আলোচ্য বিষয় কী হবে, কীভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে, এক্ষেত্রে শিক্ষকের কী করণীয় ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য নির্দেশনার মধ্যে পড়ে। শিক্ষাগত ও বৃত্তিগত নির্দেশনা শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

বিদ্যালয় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা: বিদ্যালয় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ, সমস্যা নিবারণের উপায় ইত্যাদি শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সুষ্ঠু প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কঠিন কাজ। তাই মনোবিজ্ঞানসম্মত নীতি, তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা প্রয়োজন।

শ্রেণি ব্যবস্থাপনা: শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়াকে কার্যকরী করে তুলতে শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা যথাযথ হওয়া প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষে কী কী ধরনের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে ওই সমস্যা সমাধান করা যায় কীভাবে এই বিষয়গুলি আলোচনা করা হয় বর্তমানে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে।

শিক্ষা প্রযুক্তি: আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নয়নের ফলে। শিক্ষার উন্নতিতেও প্রযুক্তিবিদ্যার ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা প্রযুক্তি সংক্রান্ত ধারণা, শিক্ষা প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানসম্মত নীতিকে কাজে লাগানো যায়। তাই শিক্ষা প্রযুক্তি শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

শিক্ষার মূল্যায়ন: আধুনিক শিক্ষায় মূল্যায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে শিক্ষার্থী ও সামাজিক চাহিদার উপর গুরুত্ব দিয়ে। শিক্ষাক্ষেত্রে পারদর্শিতার অভীক্ষা প্রস্তুতি, নম্বরদানের বদলে গ্রেডেশন পদ্ধতি ইত্যাদি প্রচলিত হয়েছে। এক্ষেত্রেও শিক্ষা মনোবিজ্ঞানকে কাজে লাগানো হয়।

রাশিবিজ্ঞান: সমাজ বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখাতেই রাশিবিজ্ঞান প্রয়োগ করা হচ্ছে। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রয়োজন রাশিবিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ। তা ছাড়া রাশিবিজ্ঞানের ব্যবহার ছাড়া শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এই কারণে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে রাশিবিজ্ঞানের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় রাশিবিজ্ঞান উপযুক্ত কারণে স্থান পেয়েছে।

ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থী: প্রতিভাবান, পিছিয়ে পড়া, প্রতিবন্ধী এই সব ধরনের শিক্ষার্থীরা হল ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থী। ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হলে শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন। এই কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের গুরুত্ব রয়েছে। তাই ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থী শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের বিষয়।

সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি: বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে পাঠক্রমিক কাজের সঙ্গে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের চাহিদা, আগ্রহের উপর ভিত্তি করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি নির্বাচন করা দরকার। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান আবশ্যক। তাই সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের বিষয় হওয়া উচিত।

অভিযোজন: শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল অভিযোজন। অভিযোজন কী, অভিযোজন করার কৌশল, অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি কীভাবে করা যায় ইত্যাদি সম্বন্ধে জানতে প্রয়োজন শিক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান। তাই শিক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানে অভিযোজন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের পরিধি অতি ব্যাপক। শিক্ষাক্ষেত্রে যে কোনো বিষয় সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহের জন্য শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা আবশ্যক, অর্থাৎ শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়া শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া, শিক্ষাবিজ্ঞানকে যথাযথভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনLink
নৈতিক প্রত্যয়সমূহ প্রশ্ন উত্তরClick Here
চার্বাক সুখবাদ প্রশ্ন উত্তরClick Here
পাশ্চাত্য নীতিবিদ্যা প্রশ্ন উত্তরClick Here

Leave a Comment