স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 দর্শন চতুর্থ সেমিস্টার

১। স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগের ধারণা ব্যাখ্যা করো।অথবা, স্বামী বিবেকানন্দ কীভাবে গীতার ‘কর্মযোগ’ তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করেছেন তা আলোচনা করো।
কর্মযোগ শব্দটি ‘কর্ম’ ও ‘যোগ’-এর সমন্বয়ে গঠিত। ‘কৃ’ ধাতুর অর্থ কিছু করা। তাই কর্ম বলতে ‘কিছু করা’ বোঝায়। ‘যোগ’ শব্দটির অর্থ এক শৃঙ্খলাবদ্ধ পথ। সুতরাং কর্মযোগ হল এক শৃঙ্খলাবদ্ধ পথে কর্ম করা।
কর্মাযাগের মূলকথা: স্বামী বিবেকানন্দ গীতায় বর্ণিত কর্মযোগের সারকথাকে তিনটি বাক্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। যথা- ফলাকাঙ্ক্ষা বর্জন, কর্তৃত্বাভিমান ত্যাগ এবং ঈশ্বর সমস্ত কর্মফল সমর্পণ।
নিষ্কাম কর্মসাধন: গীতার কর্মযোগ হল নিষ্কাম কর্ম। যে কর্মের সঙ্গে ফল প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা থাকে না, সেই কর্মকে নিষ্কাম কর্ম বলে। অর্থাৎ কামনাবিহীন কর্মই হল নিষ্কাম কর্ম। স্বামী বিবেকানন্দ কর্মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার কর্মের কথাই বলেছেন।
কর্মযোগের স্বরূপ: স্বামীজির মতে কর্মযোগ হল সুচিন্তিত, সুনিয়ন্ত্রিত ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে যে-কোনো কর্মের সম্পাদন, যা মানুষকে ভগবমুখী করে তোলে। কর্মযোগ হল কর্মের দ্বারা চিত্তশুদ্ধি। কর্মযোগের স্বরূপগুলি নিম্নে বর্ণিত হল-
কর্মের গুরুত্ব ও নিঃস্বার্থপরতা: বিবেকানন্দের মতে যে নীতি ও ধর্মের দ্বারা হিতকর এবং স্বার্থহীন কর্মের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা হয় তা হল কর্মযোগ। কর্মযোগী নিঃস্বার্থপরতা উপলব্ধির মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তাই বিবেকানন্দের কর্মযোগে কর্মের গুরুত্ব ও স্বার্থহীনতা এই দুটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে।
কর্মযোগের আদর্শ: বিবেকানন্দ বলেন যশ অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই যে কর্ম করা হয় তা হল সর্বোত্তম কর্ম। যে ব্যক্তি এইভাবে কর্ম করতে পারে তাকে বুদ্ধ বলে। সে তার কর্মের দ্বারা জগৎকে রূপান্তরিত করতে পারে। এরূপ ব্যক্তি কর্মযোগের সর্বোচ্চ আদর্শকে তুলে ধরতে সক্ষম হন।
মুক্তি হল জীবনের লক্ষ্য: কর্মযোগের আদর্শ মানবজাতিকে মুক্তির পথ দেখায়। বিশুদ্ধ নিষ্কাম কর্মই হল মোক্ষ সাধনা। এই কর্মে কোনো অহংবোধ থাকে না, চিত্ত চাঞ্চল্যতা থাকে না। তাই নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমে ঈশ্বরের উপাসনাই হল ভারতীয় অধ্যাত্মবাদে মুক্তির পথ। এই মুক্তিই হল কর্মযোগের লক্ষ্য।
বেদান্ত দর্শনের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কর্ম ও যোগের সমন্বয়ে এক মহান কর্মযজ্ঞের সূচনা করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি বলেছেন একমাত্র বিরামহীন কর্মের পথেই মুক্তিলাভ সম্ভব। কর্মের মাধ্যমেই ব্যক্তির যোগ্যতা নির্ণয় করা হয়ে থাকে।
২। বিবেকানন্দের কর্মযোগ ধারণার ভিত্তি হল প্রয়োগমূলক বেদান্ত ব্যাখ্যা করো।
অথবা, স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগের ধারণায় কীভাবে প্রয়োগমূলক বেদান্ত প্রতিফলিত হয়েছে?
বেদের অন্ত বা শেষ ভাগকে বলে বেদান্ত। এই বেদান্তকে ভিত্তি করে যে দর্শন শাস্ত্রের সৃষ্টি হয়েছে সেটি হল বেদান্ত দর্শন। ‘বেদান্ত’ শব্দের অর্থ সর্বোত্তম জ্ঞান। সর্বোত্তম সত্য হল সেটিই যেখানে বলা হয় ‘আমিই সেই পরমসত্তা বা ব্রহ্ম’। বেদান্ত এই চরম সত্যকেই উপলব্ধির কথা বলে। স্বামী বিবেকানন্দ এই অর্থেই বেদান্তকে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন বেদান্তকে শুধু দার্শনিক তত্ত্বরূপে গ্রহণ না করে জীবনের পালনীয় ধর্মরূপে গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ বেদান্তে আলোচিত বিষয়কে কর্মে রূপদান করতে হবে এবং বেদান্তের আলোকে জীবনযাপন করতে হবে। তাই অনেকে বিবেকানন্দের বেদান্ত চিন্তাকে ব্যাবহারিক বা প্রয়োগাত্মক বেদান্ত বলেছেন।
বেদান্তের মূল তত্ত্ব: বেদান্তের আদর্শ হল সমস্ত মানুষ দৈব সত্তার অধিকারী। ‘তত্ত্বমসি’ অর্থাৎ ‘তুমিই সেই’-এই কথাই বেদান্তের সারসত্য। স্বামীজি মনে করতেন প্রতিটি মানুষই এক ব্রহ্মের অংশ। এই অদ্বৈতবোধ থেকেই তিনি মানুষকে নিঃস্বার্থ কর্মের দিকে অনুপ্রাণিত করেছেন। বেদান্তের মূল তত্ত্ব তিনটি হল একত্ব, অন্তর্নিহিত দেবত্ব ও স্বাধীনতা।
একত্ব: বেদান্তের মূলকথা হল একত্ব এই বিশ্বে একটি মাত্র সত্তার অস্তিত্ব আছে, তা হল ব্রহ্ম
অন্তর্নিহিত দেবত্ব: জীবাত্মা হল অব্যক্ত ব্রহ্ম। বিশ্বের সব মানুষ সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম থেকে উদ্ভূত।
স্বাধীনতা: বেদান্তে যে স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে তার আর-এক নাম হল মুক্তি। মুক্তি হল আত্মার স্বরূপে অবস্থান।
আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতা : বেদান্তে বলা হয়েছিল যে একজন ব্যক্তি যখন তার অন্তরাত্মার প্রকৃত স্বরূপকে জানে তখন তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। সে স্বনির্ভর হতে শেখে। বিবেকানন্দও তাঁর কর্মযোগের ধারণায় প্রতিটি ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন, প্রতিটি ব্যক্তিকে আত্মনির্ভর হতে বলেছেন। তাঁর মতে কর্মের মধ্যে দিয়েই কোনো ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভর হতে পারে।
কর্মের প্রতি নিষ্ঠা, প্রেম ও ভালোবাসা : কর্তব্য মানুষকে আত্মিক উন্নতির পথ প্রদর্শন করে-এ কথাই বেদান্তে বলা হয়েছে। স্বামীজির কর্মযোগের ভাবনায়ও আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখতে পাই। কর্মযোগের মধ্যে দিয়ে স্বামীজি যে কর্মের নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই কর্তব্যকর্মে একদিকে যেমন পূর্ণ নিষ্ঠা থাকবে তেমনই প্রেম ও ভালোবাসাও থাকবে। একইসঙ্গে কর্মের ফলাফলের প্রতি কোনোরূপ প্রত্যাশা বা আসক্তি থাকবে না, তবেই সেটি হবে যথার্থ কর্তব্যকর্ম।
পরিশেষে বলা যায়, যে আত্মজ্ঞান অর্জনের প্রসঙ্গ বেদান্তে বারংবার উত্থাপিত হয়েছে। বিবেকানন্দ তাঁর কর্মযোগের ধারণার মধ্যে দিয়ে সেই কর্তব্যকর্ম করার নির্দেশ দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হল আত্মজ্ঞান অর্জন। আত্মজ্ঞান অর্জন করতে পারলে তবেই সেই কর্মের মধ্যে দিয়ে মুক্তিলাভসম্ভব।
৩। বিবেকানন্দের মতে কিভাবে কর্মযোগের আদর্শে পৌঁছানো যায়?
অথবা, স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগের আদর্শ কী তা আলোচনা করো।
‘কর্মযোগ’ গ্রন্থের অষ্টম অধ্যায়ে স্বামী বিবেকানন্দ কর্মযোগের আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেছেন। স্বামীজি বলেন নিজের চিন্তা না করে অহংকে ত্যাগ করে পরের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করাই হল কর্মযোগ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত কর্মযোগ ও নিষ্কাম কর্মের ধারণার দ্বারা বিবেকানন্দ বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন। স্বামীজির মতে কর্মযোগের আদর্শগুলি নিম্নরূপ-
কর্মের মূল্য ও নিঃস্বার্থপরতা: স্বামীজি কর্মযোগের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। একটি হল কর্মের মূল্য ও গুরুত্ব এবং অপরটি হল নিঃস্বার্থপরতা। মুক্তি পেতে গেলে আমাদের প্রথম কাজ হল স্বার্থপরতার জাল ছিন্ন করা। তিনি বলেন নিঃস্বার্থ কর্মের দ্বারা মুক্তিলাভই হল কর্মযোগের আদর্শ।
মানুষের পরম লক্ষ্য প্রাপ্তি: স্বামীজির মতে কর্মযোগ হল নৈতিকতা ও ধর্মের এমন এক যোগসূত্র যা পরের উপকার এবং শুভকর্মের মাধ্যমে মোক্ষ প্রাপ্তিতে সাহায্য করে। সুতরাং নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমে মানুষের জীবনের পরম লক্ষ্য বা মোক্ষ লাভ করাকে বলা হয় কর্মযোগ।
কর্মই ধর্ম: স্বামী বিবেকানন্দ মনে করতেন কর্মই মানুষের ধর্ম। প্রতিটি মানুষের উচিত তার নিজের কর্মকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং নিষ্ঠার সঙ্গে সেই কর্ম সম্পাদন করা। তাঁর মতে যেসকল কর্ম আমাদের ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যায় সেগুলি হল সৎকর্ম। আর এই সৎকর্মগুলিই হল কর্তব্যকর্ম।
গীতার নিষ্কাম কর্ম: স্বামী বিবেকানন্দ গীতায় নিষ্কাম কর্মযোগের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। গীতায় বলা হয়েছে ব্যক্তির শুধুমাত্র কর্মে অধিকার আছে কিন্তু কর্মফলে তার কোনো অধিকার নেই। এখানে কর্মযোগীকে কর্মফলের আশা না করে কেবল নিমিত্ত কর্তা হিসেবে, নিষ্কাম কর্ম করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্ঞান ও ভক্তির সমন্বয় : কর্মযোগ শুধু কর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জ্ঞান এবং ভক্তিরও সমন্বয় প্রয়োজন। জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথে চালিত করে এবং ভক্তি ঈশ্বরের প্রতি প্রেম জাগ্রত করে।
স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগের এই আদর্শগুলি মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং সমাজের কল্যাণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
৪। বিবেকানন্দ কিভাবে নিষ্কাম কর্মকে ব্যাখ্যা করেছেন তার সংক্ষেপে আলোচনা করো।
অথবা, কর্মযোগ বলতে কী বোঝায়? বিবেকানন্দ তাঁর কর্মযোগের ভাবনায় নিষ্কাম কর্মের স্বরূপ কীভাবে নির্দেশ করেছেন?
কর্মযোগ: স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনে ‘কর্মযোগ’ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। ‘কর্ম’ শব্দটি ‘কৃ+ মন্’ প্রত্যয় যোগে কাজ করাকে বোঝায়। স্বামীজি ‘কর্ম’ অর্থে ‘কর্মফলসমেত কর্ম’ -কে বুঝিয়েছেন। বিবেকানন্দের মতে যা কিছু করা হয় তাই কর্ম। অর্থাৎ এককথায় শরীর, ইন্দ্রিয় ও মনের ক্রিয়াকেই কর্ম বলে। আর এই কর্ম যখন মুক্তির উদ্দেশ্যে নিষ্কামভাবে পালিত হয় তখনই তা হয় কর্মযোগ বা নিষ্কাম কর্ম। বিবেকানন্দ তাঁর কর্মযোগকে ব্যাপকতম অর্থে যে-কোনো ধরনের কর্মে সমাধিস্থ হওয়াকে বুঝিয়েছেন। তাঁর ভাষায় কর্মযোগ হল সুচিন্তিত, সুনিয়ন্ত্রিত ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে কর্ম সম্পাদন। লাভ-ক্ষতি, জয়-পরাজয়, সুখ-দুঃখ প্রভৃতি সমস্ত কিছুকে সমান মনে করে কর্ম করাই হল কর্মযোগ। কর্মযোগ হল কর্মের দ্বারা চিত্তশুদ্ধি করা।
নিষ্কাম কর্মের স্বরূপ: গীতায় কর্মযোগ আলোচনায় দুই প্রকার কর্মের কথা বলা হয়েছে। যথা- সকাম কর্ম ও নিষ্কাম কর্ম। সকাম কর্ম হল রাগ, দ্বেষ, মোহ, কামনা-বাসনাযুক্ত কর্ম। আর নিষ্কাম কর্ম হল রাগ, দ্বেষ, কামনা-বাসনা, কতৃত্বাভিমান, অহংবোধ থেকে মুক্ত কর্ম। বিবেকানন্দ গীতার নিষ্কাম কর্মের এই ধারণাকে গ্রহণ করেই তাঁর কর্মযোগ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।
নিষ্কাম কর্মের অর্থ: গীতায় শ্রীকৃয় অর্জুনকে বলেছেন মানুষের অধিকার শুধু তার কর্মে, কর্মফলে নয়। কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কর্ম করা যেমন মানুষের কর্তব্য নয় তেমনই কর্ম থেকে বিরত থাকাও মানুষের কর্তব্য নয়। গীতায় যে নিষ্কাম কর্মের কথা বলা হয়েছে সেটি কর্মফলের আশা ত্যাগ করে করতে হয়। তাই ফলের আশা না করে মানুষকে নিজের কর্তব্য কর্ম পালন করা উচিত। বিবেকানন্দ মনে করেন মানুষের কর্মের জন্যই কর্ম করা উচিত। কর্ম করা মানুষের অধিকার।
ফলের আসক্তি ত্যাগ: বিবেকানন্দের মতে কর্মফলের আসক্তি হল সকল দুঃখের কারণ। যখন কোনো মানুষ কর্মের ফল পাওয়ার আশায় কর্ম করে তখন ফল আশানুরূপ না হলে সে দুঃখিত বা হতাশ হয়ে পড়ে। তাই সুখ-দুঃখের ঊর্ধ্বে উঠে নিষ্কামভাবে কর্ম করা মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। নিষ্কামভাবে কর্ম করলে কর্মের আর কোনো বন্ধন হয় না।
ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণ: বিবেকানন্দ মনে করতেন যে নিষ্কাম কর্ম করার জন্য ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণভাব থাকা আবশ্যক। যখন মানুষ মনে করে যে সে ঈশ্বরের জন্য কাজ করছে, তখন তার মধ্যে ফলের আশা কমে যায় এবং সে আরও বেশি একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। এই প্রকার কর্মকে তিনি পরোপকারমূলক কর্ম বলে উল্লেখ করেছেন।
নিষ্কাম কর্মের সুফল: বিবেকানন্দের মতে নিষ্কাম কর্ম যেহেতু কর্মফল বিযুক্ত তাই এই কর্ম মানুষকে মানসিক শান্তি এনে দেয়। যখন মানুষ ফলের আশা না করে কাজ করে, তখন তার মন শান্ত থাকে এবং সে কাজের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে। এই কর্ম মুক্তিকামী ব্যক্তির মোক্ষ লাভে সহায়তা করে।
নিষ্কাম কর্মের ব্যাবহারিক প্রয়োগ: স্বামীজি নিষ্কাম কর্মের আদর্শকে কেবলমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি এর প্রয়োগমূলক দিকটির উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বামীজি মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সমাজের বিভিন্ন কাজে যোগদান করতে উৎসাহিত করেছেন। তাঁর মতে নিষ্কাম কর্মের মাধ্যমেই আমরা আমাদের জীবনকে সার্থক করে তুলতে পারি।নিষ্কাম কর্ম সম্পাদনের মধ্যে দিয়েই মোক্ষ লাভ হয়। সকাম কর্ম সম্পাদনের দ্বারা জগতের মঙ্গল হয় না। জগতে সবার মঙ্গলের জন্য কর্ম করতে গেলে ফলাকাঙ্ক্ষা বর্জন করতে হবে। কর্মফলের কামনা পরিত্যাগ করে কেবল কর্মসাধনের জন্য যে কর্ম তাই প্রকৃতপক্ষে সৎ কর্ম। এইরূপে সৎ কর্ম করার উপদেশ গীতার কর্মযোগে দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন : একাদশ শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা প্রশ্ন উত্তর
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন প্রশ্ন উত্তর
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর