আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : মূল ধারণা এবং রাজনৈতিক মতবাদসমূহ প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 রাষ্ট্রবিজ্ঞান চতুর্থ সেমিস্টার

১। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে কী বোঝো?
করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: সাধারণত, সমাজ বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো মানুষ যেমন একা বেঁচে থাকতে পারে না তেমনি আধুনিক পৃথিবীতে রাষ্ট্রগুলিও আন্তর্জাতিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেঁচে থাকতে পারে না। কারণ কোনো রাষ্ট্রই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এরূপ উপলব্ধির কারণে প্রতিটি রাষ্ট্র একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আন্তর্জাতিক সমাজে মিলেমিশে থাকার ফলে এক রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রের যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সাধারণভাবে তাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (International Relations) বলা হয়।
২। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা প্রদান করো।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে জ্ঞানচর্চার এমন এক আন্তঃশাস্ত্রীয় বিষয়কে বোঝায় যা বিভিন্ন রাষ্ট্র ও অরাষ্ট্রীয় এককসমূহের মধ্যে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংস্কৃতিক, আইনগত প্রভৃতি সকলপ্রকার সরকারি ও বেসরকারি সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে।
৩। কবে এবং কেন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়?
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে চুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধের সম্ভাবনাকে প্রতিরোধ করা, শান্তিপূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৪। কবে এবং কেন সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়?
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অক্টোবর ৫১টি রাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO)।
প্রতিষ্ঠার কারণ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাত্মক পরিণতির পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এবং বিশ্বজনীন বিষয়ে দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
৫। আদর্শবাদী তত্ত্বের কয়েকজন তাত্ত্বিকের নাম লেখো।
আদর্শবাদের প্রধান তাত্ত্বিকগণ: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আদর্শবাদীর তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা হলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। উড্রো উইলসন ছাড়া আদর্শবাদী ভাবনার অন্যান্য প্রবক্তারা ছিলেন-নর্ম্যান অ্যাঞ্জেল, স্যার অ্যালফ্রেড জিমার্ন, বাটার ফিল্ড, বার্ট্রান্ড রাসেল প্রমুখ।
৬। আদর্শবাদী তত্ত্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আদর্শবাদী তত্ত্বের বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে এর মধ্যে দুটি হল-
① নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব: আদর্শবাদীগণ রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেন কারণ তাঁদের মতে নৈতিক আদর্শ যুদ্ধ পরিহার করে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সহযোগিতা স্থাপনে সাহায্য করে।
② গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা: আদর্শবাদীদের মতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুদ্ধ পরিহার করে যৌথ স্বার্থপূরণে উৎসাহিত করে তাই আদর্শবাদী তাত্ত্বিকরা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আস্থা রাখেন।
৭। আদর্শবাদী তত্ত্বের বিরুদ্ধে দুটি প্রধান সমালোচনা লেখো।
আদর্শবাদী তত্ত্বের বিরুদ্ধে ১৯৩০-এর দশক থেকে বিভিন্ন সমালোচনা শুরু হয়। এর বিরুদ্ধে দুটি প্রধান সমালোচনা হল-
① ক্ষমতার রাজনীতিকে উপেক্ষা: সমালোচকদের মতে নীতিবোধকে সামনে রেখে রাষ্ট্রগুলি চালিত হয় না বরং ক্ষমতাকে বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আলোচনা করা যায় না। কিন্তু আদর্শবাদে ক্ষমতার রাজনীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
② অবাস্তব ধারণা: সমালোচকরা আদর্শবাদকে কাল্পনিক মতবাদ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। কারণ সংঘর্ষমুক্ত, সহযোগিতার আদর্শে উজ্জীবিত বিশ্বের যে ছবি তাঁরা তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
৮। বাস্তববাদী তত্ত্বের দুটি প্রধান সমালোচনা উল্লেখ করো।
বাস্তববাদী তত্ত্ব নানা দিক থেকে সমালোচনার শিকার হয়েছে। এর বিরুদ্ধে দুটি সমালোচনা হল-
① সংকীর্ণতর দোষে দুষ্ট: বাস্তববাদ জাতীয় স্বার্থের ধারণাকে ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করেছে, যা সংকীর্ণতর দোষে দুষ্ট। কারণ, জাতীয় স্বার্থ হল ব্যাপক ধারণা যেখানে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, মহামারি প্রতিরোধ, আর্থিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলি যুক্ত থাকে।
② গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: সমালোচকদের মতে, নিজের ইচ্ছেমতন ক্ষমতার রাজনীতি অনুসরণ করা বর্তমান গণতান্ত্রিক বিশ্বে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এই তত্ত্ব ভ্রান্ত এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
৯। মার্কসীয় তত্ত্ব অনুযায়ী সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদ বলতে কী বোঝো?
সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদ: ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সম্মেলনে লেনিন জাতীয়তাবাদ ও ঔপনিবেশবাদের প্রশ্নে সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদ-এর ধারণাটি ব্যক্ত করেছিলেন। যদিও ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে মার্কস লিখিত ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’-তেই শ্রমজীবী শ্রেণির ঐক্য গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন। মার্কসবাদী দর্শন অনুসারে, সর্বহারাদের কোনো দেশ নেই, সর্বত্রই এই শ্রেণি শোষিত ও অবদমিত। তাই পুঁজিবাদী শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে বিশ্বের সকল শ্রমিককে তথা সর্বহারা শ্রেণিকে বিপ্লবের ডাক দিতে হবে। বিশ্ববিপ্লব সম্পাদনের মাধ্যমে শ্রমজীবী শ্রেণির মুক্তি ঘটবে বলে এই তত্ত্বের তাত্ত্বিকরা মনে করেছিলেন।
[6 নম্বরের প্রশ্ন উত্তর]
১। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় আদর্শবাদ বলতে কী বোঝো? তত্ত্বটির মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো।
আদর্শবাদের সংজ্ঞা:
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আদর্শবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বোঝায় সেই বিশ্লেষণভঙ্গিকে যা স্থায়ী বিশ্বশান্তি, যুদ্ধের অবসান, নৈরাজ্যের অবসান ও যৌথ নিরাপত্তার বিষয়কে লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে এবং মানবপ্রকৃতির শান্তিকামী প্রবৃত্তির উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
আদর্শবাদী তত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আদর্শবাদী তত্ত্বের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি চিহ্নিত করা যায়-
[1] নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব: আদর্শবাদে রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে নৈতিকতা (Morality)-কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাধারণ নৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধ বিশ্বসম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করে। ফলে রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনে যুদ্ধ, সহিংসতা, স্বৈরাচার প্রভৃতিকে এড়ানো যায়।
[2] পারস্পরিক সহাযাগিতার প্রতি গুরুত্ব: আদর্শবাদী তত্ত্ব রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ক্ষমতার রেষারেষি থাকলে যুদ্ধমুক্ত শান্তিপূর্ণ আদর্শ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়, তাই রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা স্থাপন করতে হবে।
[3] আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: আদর্শবাদের তাত্ত্বিকগণের মতে, যুদ্ধের পরিস্থিতিকে নির্মূল করতে ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় উপস্থিতি থাকা দরকার। তাঁরা মনে করতেন, আন্তর্জাতিক স্তরে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নৈরাজ্যমূলক অবস্থার অবসান ঘটানো সম্ভব। এই উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি উইলসন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ফেরানোর জন্য মিত্র শক্তির (ব্রিটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া) উদ্যোগে বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি ‘লিগ অফ নেশনস্’-এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
[4] কূটনীতি ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যাম বিরোধ মীমাংসা : আদর্শবাদীরা আলাপ-আলোচনার সাহায্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিবাদ মীমাংসার মাধ্যমে যুদ্ধকে নির্মূল করে স্থায়ী শান্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়। তারা কোনোরকম সহিংসতা, ক্ষমতা প্রদর্শন বা সশস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসাকে অনুমোদন করেন না।
[5] রাষ্ট্রীয় কারকের প্রাধান্য: আদর্শবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, ‘রাষ্ট্র’ হল বিশ্বব্যবস্থার প্রধান কারক (Actor) বা ক্রিয়াকারী। কারণ রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক রাজনীতি পরিচালনার প্রধান চালিকাশক্তি।
[6] ইতিবাচক মানবচরিত: আদর্শবাদীদের মতে, মানব প্রকৃতি মূলত ভালো ও সহযোগিতামূলক মনোভাবসম্পন্ন। মানবচরিত্র আত্মকেন্দ্রিক ক্ষমতালিঙ্গু নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা অন্যের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এই সহযোগিতার মানসিকতাই মানবসভ্যতা উন্নয়নের মূল উৎস।
[7] গণতান্ত্রর প্রতি আস্থা : আদর্শবাদ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলির প্রতি আস্থা রেখেছে। কারণ, একদিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুদ্ধ পরিহার করে যৌথ স্বার্থপূরণে অধিক গুরুত্ব আরোপ করে। অন্যদিকে, একই মূল্যবোধে রাষ্ট্রগুলি বিশ্বাসী হলে সংঘাত বাধার সম্ভাবনাও অনেকাংশে হ্রাস পায়। ফলে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁরা প্রবল আস্থা প্রকাশ করেন।
উপসংহার: তবে ১৯৩০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জাতীয় স্বার্থের প্রাধান্য, ইউরোপে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান, ক্ষমতার রাজনীতির আধিপত্য, অর্থনৈতিক মন্দা, স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে সংশয় প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চায় আদর্শবাদের অকার্যকারিতা ও দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
২। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে মার্কসবাদ-এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় মার্কসীয় তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
কার্ল মার্কসের চিন্তাধারার উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় স্বতন্ত্র বিশ্লেষণ ধারা গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় মার্কসীয় তত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
(i) শ্রেণিসংগ্রামের গুরুত্ব: মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বরাজনীতিকে বিশ্লেষণ করে শ্রেণিসংগ্রামের আলোকে। মার্কসবাদীদের মতে, সারা বিশ্ব ‘haves’ এবং ‘have nots’-এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। এর মূলে আছে পুঁজিবাদী বিশ্ব বাজার দখল বা বিস্তারের ছলে দরিদ্র দেশগুলিকে শোষণ করার লোভ। যার প্রকাশ ঘটে বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার অসম বিন্যাসের মধ্যে।
(ii) আন্তর্জাতিক স্তরে শ্রেণি চরিত্রের গুরুত্ব: মার্কসীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনার মূল উপাদান হল ‘শ্রেণি’। মার্কসবাদীরা রাষ্ট্রের পরিবর্তে শ্রেণিভিত্তিক আলোচনার উপরেই আস্থা রেখেছিলেন।
(iii) অর্থনৈতিক উপাদানের প্রাধান্য: মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে অর্থনৈতিক উপাদানই হল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান উপাদান। আন্তর্জাতিক স্তরে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে যে যুদ্ধ, সংগ্রাম সংঘটিত হয় তার প্রধান কারণ নিহিত রয়েছে অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী অসম অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হল ভিত্তি (Base) এবং আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি, রাজনীতি হল উপরিকাঠামো (Super Structure)। আন্তর্জাতিক স্তরে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক নির্ধারণের সময় বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধিপত্য-অধীনতার সম্পর্কটি (উন্নত দেশগুলি কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশগুলির উপর কর্তৃত্ব স্থাপন) প্রতিফলিত হয়।
(iv) সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদ : মার্কসবাদী দর্শন অনুসারে, সর্বহারাদের কোনো দেশ নেই, সর্বত্রই এই শ্রেণি শোষিত ও অবদমিত। তাই পুঁজিবাদী শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বহারা শ্রেণিকে বিপ্লবের ডাক দিতে হবে। বিশ্ববিপ্লব সম্পাদনের মাধ্যমে শ্রমজীবী শ্রেণির মুক্তি ঘটবে বলে এই তত্ত্বের তাত্ত্বিকরা মনে করেছিলেন।
(v) জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার : তৃতীয় বিশ্বের অবদমিত জাতিগুলির স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। মার্কসবাদীরা মনে করেন, স্থায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ পতনের পর শ্রেণিহীন, রাষ্ট্রহীন সমাজব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে। কারণ এরূপ শ্রেণিহীন, রাষ্ট্রহীন ব্যবস্থায় যুদ্ধের সম্ভাবনা থাকে না।
(vi) সাম্রাজ্যবাদ ও নয়া সাধাজ্যবাদের বিরোধিতা: মার্কসবাদ অনুসারে ধনতন্ত্রবাদের প্রসারিত রূপ হল সাম্রাজ্যবাদ। ধনতান্ত্রিক দেশগুলির সাম্রাজ্য বা উপনিবেশ বিস্তারের মুখ্য উদ্দেশ্যই হল উৎপাদিত দ্রব্যের বাজার দখল করে বিশ্ব বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করা। এরই আধুনিক রূপ হল নয়া সাম্রাজ্যবাদ। মার্কসবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী সাম্রাজ্য স্থাপন, যুদ্ধ সবকিছুর মূলে আছে আর্থিক শোষণ। তাই মার্কসবাদ যাবতীয় আর্থিক শোষণের অবসান চায়।
(vii) বিশ্ববিপ্লবে গুরুত্বদান: মার্কসবাদী তাত্ত্বিকরা আন্তর্জাতিক স্তরে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এনে বিশ্বে সমাজতন্ত্রবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই সমাজতন্ত্রবাদই তাদের কাছে আদর্শব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলেই রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে যুদ্ধ, সংঘাতের অবসান ঘটবে বলে মনে করা হয়।
উপসংহার: আন্তর্জাতিক স্তরের বৃহৎ প্রেক্ষাপটে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে মার্কসবাদের উদ্ভব হলেও তত্ত্বটি অতিমাত্রায় অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণবাদের দোষে দুষ্ট বলে সমালোচিত হয়েছে। শুধু তাই নয় তত্ত্বটি যে বিশ্ব সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ধনতন্ত্রের জয়যাত্রায় সেই স্বপ্ন অধরা থেকে গেছে।
৩। উদারনীতিবাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উদারনীতিবাদী তত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
১৯৭০-এর দশকে বাস্তববাদের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় উদারনীতিবাদী তত্ত্ব গড়ে ওঠে। এই তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ-
(i) অরাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলির প্রাধান্য: উদারনীতিবাদীগণ সার্বভৌম রাষ্ট্রের পাশাপাশি অরাষ্ট্রীয় কারকসমূহের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও ভূমিকাকে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁদের মতে বিভিন্ন আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংগঠনগুলি জাতিরাষ্ট্রের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। যেমন-বৃহৎ বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলি বা Multinational Corporation (MNC) বাস্তবে অনেক দেশের সরকার অপেক্ষাও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
(ii) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা: উদারনীতিবাদ ক্ষমতার রাজনীতি, হিংসা ও অনৈতিক ক্রিয়াকলাপ থেকে বিশ্বরাজনীতিকে মুক্ত করে, যুদ্ধকে পরিহার করে আন্তর্জাতিক সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী। এজন্য তাঁরা সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠন স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক আইন মান্য করা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
(iii) আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্ব : এই তত্ত্ব সামরিক উন্নয়নের পরিবর্তে দেশগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে। এজন্য উদারনৈতিক তাত্ত্বিকগণ অবাধ বাণিজ্য নীতি প্রসারের উপর জোর দেন। এই তত্ত্বের সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন এবং অবাধ বাণিজ্য নীতির পথ ধরে বহুপাক্ষিক (Multilateral) অর্থনৈতিক আদানপ্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলির আর্থিক প্রগতি সুনিশ্চিত করা সম্ভব।
(iv) গণতন্ত্রের প্রসার : এই তত্ত্ব বিশ্বব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসারের কথা বলে। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যুদ্ধ-বিবাদের পরিবর্তে দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনকি উদারনীতিবাদীদের মতে, রাষ্ট্রগুলি যদি একই আদর্শের উপর ভিত্তি করে তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলে তাহলে তাদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই, রেষারেষি, যুদ্ধ ও যুদ্ধের হুমকি প্রভৃতির অবসান ঘটবে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে, বিশেষত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে।
(v) আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা: উদারনীতিবাদ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আন্তঃরাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব ও বিবাদের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার উদ্দেশ্যে বিশ্বস্তরে যৌথ প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে। এক্ষেত্রে উদারবাদীরা রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার উপর জোর দেয়।
(vi) ক্ষমতার রাজনীতিকে অস্বীকার: উদারনীতিবাদ ক্ষমতার রাজনীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁদের মতে, ক্ষমতার রাজনীতি রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ, রেষারেষি, সংঘর্ষ এমনকি যুদ্ধকে ডেকে আনে। এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ক্ষমতা সম্পর্কিত বাস্তববাদী তত্ত্বের বিরোধিতা করেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চায় উদারনীতিবাদ স্বতন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে গড়ে উঠেছে।
(vii) বিশ্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠা: উদারনীতিবাদী তত্ত্ব জাতিরাষ্ট্রগুলির সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থের ভেদাভেদকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্থায়ী শান্তি ও সুস্থিতি স্থাপনের লক্ষ্যে বিশ্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদী তত্ত্বকে উদার আন্তর্জাতিকতাবাদ বলে অভিহিত করা হয়।
উপসংহার: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় উদারনীতিবাদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তত্ত্বটি অধিকমাত্রায় পাশ্চাত্যনির্ভর হওয়ায় একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি বলে সমালোচিত হয়েছে। শুধু তাই নয় সমালোচকদের মতে পুঁজিবাদের আধিপত্য বিস্তারের যে ধারণা উদারবাদীগণ দিয়েছেন তা বিশ্বব্যাপী বৈষম্যকে বৃদ্ধি করেছে।
৪। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য:
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বর্তমান।
পরিধিগত পার্থক্য : বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ধারণা ব্যাপকতর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শুধুমাত্র রাষ্ট্রের সম্পর্কের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অরাষ্ট্রীয় নানান সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের আলোচনাও করে থাকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্বসমাজের অন্তর্গত সকল জনগণ ও গোষ্ঠীর সব সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। মূলত রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক রাজনৈতিক বিষয়গুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবিক পরিবেশ-সহ বিষয়গুলিও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো ব্যাপক ধারণা নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি কূটনীতি, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি কেবল রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক বিষয়গুলি নিয়েই আলোচনা করে।
প্রকৃতিগত পার্থক্য: প্রখ্যাত বাস্তববাদী তাত্ত্বিক মরগেনথাউ মনে করেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রধানত বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষমতা, প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিরোধ ও সংঘর্ষকেন্দ্রিক আলাপ-আলোচনা।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা, মিত্রতা ও সমন্বয়সাধন ইত্যাদি বিষয়কে বোঝায় অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কের বহুমুখী অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক বিষয়ের তত্ত্বগত ও প্রয়োগগত দিক নিয়ে আলোচনা করে।
পামার ও পারকিন্স-এর মত: পামার ও পারকিন্স-এর মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ধারণা আন্তর্জাতিক রাজনীতির তুলনায় ব্যাপক। তাঁদের মতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি হল ‘আন্তর্জাতিক সমাজের রাজনীতি’ যা মূলত কূটনীতি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংগঠনের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্বসমাজের সকল মানুষ ও গোষ্ঠীগুলির সকল প্রকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অংশবিশেষ।
শ্লেইচার-এর মত : শ্লেইচার মনে করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি সমার্থক নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ ও সহযোগিতা দুটি দিক নিয়েই আলোচনা করে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রধানত বিরোধ, বিবাদ ও সংঘর্ষের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
কে জে হলটি-এর মত : হলস্টির মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, বিদেশনীতি, রাজনৈতিক প্রক্রিয়াসমূহ, বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক নীতি-নৈতিকতা, আন্তর্জাতিক সংগঠন সম্পর্কিত বিষয়গুলি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।
তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি উপরোক্ত বিষয়গুলির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি সাধারণত পররাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনা তথা সরকার বা উচ্চতর রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করে।
মরগেনথাউ-এর মত: মরগেনথাউ-এর মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনার বিষয়বস্তুতে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক ক্ষমতার বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা এমনকি সমন্বয় সাধনের বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তবে তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি হল মূলত ক্ষমতার লড়াই। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এই ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনা করে।
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর