বিশ্বায়নের অর্থনৈতিক প্রভাব লেখো

বিশ্বায়নের অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে তার অর্থনৈতিক প্রকৃতি। বিশ্বায়নের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়িত করতে যে সংস্থাগুলি প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে তার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার মূল দিকগুলি হল বিশ্বজুড়ে মুক্ত বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার, লগ্নি পুঁজির অবাধ চলাচল, বহুজাতিক বাণিজ্য সংস্থাগুলির অবাধ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে অভিগমন ও নির্গমন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য মাধ্যমের অবাধ বিস্তার প্রভৃতি।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ জগদীশ ভগবতী (Jagadish Bhagwati) বিশ্বায়নের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, বিশ্বায়নের প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে অনুসরণ $ করলে আর্থসামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে বিশ্বায়ন দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিশুশ্রমের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অধ্যাপক ভগবতী বিশ্বায়নের নেতিবাচক দিকের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে নিয়েও মনে করেন যে, এর (বিশ্বায়নের) সমালোচকগণ উপলব্ধির দৈনতা থেকে বিশ্বায়নের বিরোধিতা করেন এবং এর ইতিবাচক দিকগুলি উপেক্ষা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বায়ন হল কম উন্নত দেশগুলির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সহায়ক শক্তি, উদারীকরণ ও বাণিজ্যের আন্তর্জাতিকীকরণ সামাজিক প্রগতির ক্ষেত্রে জাতির অনুঘটকের ভূমিকা নিতে পারে। বিশ্বায়নের ইতিবাচক প্রভাব নির্ভর করে সুশাসন (good governance)-এর উপর, অর্থাৎ দেশের শাসনব্যবস্থার গণতন্ত্রীকরণের উপর। অপরদিকে সমাজবিজ্ঞানী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎজ প্রমুখ বিশ্বায়ন সম্পর্কে অধ্যাপক ভগবতীর মতো আশাবাদী নন। তাঁরা তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় অর্থনীতির উপর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেগুলি হল—
ইতিবাচক প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের ইতিবাচক প্রভাবগুলি হল –
(i) বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি: বিশ্বায়নের ফলে এবং GATT চুক্তির দৌলতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিভিন্ন দেশে বিদেশি পুঁজি (Foreign Direct Investment বা FDI)-র প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বায়নের ফলে দেশের বাইরে ব্যাবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আর্থিক বিকাশের বৃদ্ধি ঘটেছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ ও স্বল্পোন্নত দেশগুলি বিদেশি বিনিয়োগ ও বর্ধিত বাণিজ্যের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে।
(ii) নতুন বাজারে পণ্য বিপণনের সুযোগ: বিশ্বায়নের ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যভুক্ত দেশগুলি নিজেদের উৎপাদিত দ্রব্য বাইরের দেশের নতুন বাজারে বিনা বাধায় বিপণনের সুযোগ লাভকরেছে। এতে একদিকে যেমন তাদের পণ্যের বিক্রি বেড়েছে অন্যদিকে তেমনি মুনাফাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
(iii) বৃহত্তর দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা: বিশ্বায়নের ফলে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একদিকে যেমন প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনি উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদনশীলতা আগের তুলনায় অনেকটাই গতি পেয়েছে।
তাছাড়া বিশ্বায়ন বহুজাতিক সংস্থা (Multinational Corporation বা MNC)-গুলির শুধু সংখ্যা ও সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেনি, পণ্যের আন্তর্জাতিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এদের ভূমিকা বৃদ্ধি করেছে। বলা যায় আধুনিক বিশ্ব নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে GAM-এর দ্বারা (G-Google, A-Amazon, M-Meta)। এই সমস্ত বহুজাতিক সংস্থার বার্ষিক আয় অনেক দেশের বার্ষিক বাজেটকে ছাপিয়ে যায়।
(iv) নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রসার: বিশ্বায়ন সারা পৃথিবী জুড়ে যেভাবে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছে তার ফলে বিভিন্ন দেশ একে অপরের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়ে অনেক সমৃদ্ধ হতে পেরেছে। এই সমৃদ্ধি আর্থিক ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেছে।
(v) বর্ধিত প্রতিযোগিতা: অনেকে মনে করেন, বিশ্বায়নের ফলে কর্পোরেট বাণিজ্য সংস্থা ও অন্যান্য ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে যে প্রতিযোগিতার বৃদ্ধি ঘটেছে তাতে ক্রেতাদের জন্য কম দামে আকর্ষণীয় ও উন্নত মানের জিনিস কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বায়নের আগে দেশীয় বাজারে এই সুযোগ ছিল না।
(vi) শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বিশ্বায়ন শ্রমবাজারের প্রসার ঘটায়। যার প্রভাবে দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হয়। উন্নত রাষ্ট্রগুলি উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে শ্রমিকদের গ্রহণ করে যা উভয় দেশের জন্য উপকারী ও লাভজনক হতে পারে। যেমন-বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম বা অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলি বিশ্বে পোশাক শিল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
নেতিবাচক প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার নেতিবাচক প্রভাবগুলি হল
(i) ধনী দেশগুলির স্বার্থ ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলির আধিপত্য: বিশ্বায়নের নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এটা বলা হয় যে, বিশ্বায়ন ধনী দেশগুলির স্বার্থে কাজ করেছে এবং বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্থাগুলির আধিপত্য বিস্তারে সাহায্য করেছে। এর ফলে স্থানীয় ছোটো কোম্পানিগুলি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে নিজেদের ব্যাবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।
রবার্ট গিলপিন (Robert Gilpin) মেক্সিকোর অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হিসেবে শেয়ার বাজারে ফাটকাবাজী (Speculative activities)-র কথা বলেছেন। জোসেফ স্টিগলিৎজ মনে করেন এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলিতে মূলধনী বাজারের নিয়ন্ত্রণের শিথিলতার কারণে মুনাফা লাভ করেছে পাশ্চাত্যের ব্যাংক ও অর্থযোগানদার সংস্থাগুলি।
(ii) ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লেখকরা অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের নেতিবাচক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এটা দেখিয়েছেন যে, এর ফলে ধনী বিশ্ব আরও ধনী হচ্ছে এবং দরিদ্র বিশ্ব দরিদ্রতর হচ্ছে। ১৯৯০-এর দশকের শেষার্ধে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ব্যাপক উদারীকরণের ফলস্বরূপ অর্থনৈতিক মন্দা প্রমাণ করে যে, বিশ্বায়ন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও উন্নতি এখনও সুনিশ্চিত করতে পারেনি। উন্নত বিশ্বের শিল্প উৎপাদনের প্রয়োজনে উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলি কাঁচামাল যোগান দেওয়ার এবং উন্নত বিশ্বের অপ্রয়োজনীয় উদ্বৃত্ত সামগ্রী ফেলার কলোনীতে পরিণত হচ্ছে।
(iii) সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিবর্তন: বিশ্বায়নের প্রভাব প্রকট হয়েছিল যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন-সহ পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক মানচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। উত্তর-সমাজতান্ত্রিক সমাজে কমিউনিস্ট প্রভাব হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত (state controlled) অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে এবং ওই সমস্ত দেশের অর্থনীতি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এই ধরনের অর্থনীতিকে পরিবর্তনশীল অর্থনীতি (Transitional economy) বলা হয়।
(iv) পরিবেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংকট: পরিবেশের ক্ষেত্রে বিশ্বায়ন এক আন্তর্জাতিক সংকট তৈরি করেছে বলে পরিবেশবিদগণ মনে করেন। বিশ্বায়নের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কর্পোরেট সংস্থাগুলি যেভাবে তাদের আধিপত্য উন্নয়নশীল বিশ্বে বিস্তার করেছে তার ফলে শুধু যে নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাই নয়, পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশকে কর্পোরেট সংস্থাগুলি পণ্যায়িতও করেছে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সম্মেলনের সিদ্ধান্ত ও সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যকে উপেক্ষা করে প্রাকৃতিক সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিশ্ব উন্নায়ন (global warming), প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন (climate change) সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রখ্যাত পরিবেশবিদ বন্দনা শিবা তাঁর এক নিবন্ধে বলেছেন, পৃথিবীর মূল সম্পদগুলি হল স্থল, জল ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য। বিশ্বায়নের প্রভাবে এই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক উপাদানগুলি পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে।
(v) উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বৈষম্য: বিশ্বায়নের ফলে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে বৈষম্য প্রকট হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক, ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নির্দেশিত নীতিগুলি এই বৈষম্য তৈরি করেছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দুনিয়ার উন্নত দুনিয়ার উপর নির্ভরতা অনেক বেড়ে গেছে। উন্নত বিশ্বের জনগণের আয়ের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির আয়ের ফারাক বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিল্প, বাণিজ্য, পরিসেবা ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট রূপ ধারণ করেছে। শুধু তাই নয় বিশ্বায়ন শুরু হওয়ার কয়েক দশক পরেও এখনও তৃতীয় বিশ্বের বহু মানুষের দৈনন্দিন উপার্জন ১ ডলারেরও * কম। বিশ্বে মোট আয় যখন বার্ষিক ২.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন এই মানুষেরা এখনও দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে।
(vi) বিশ্ব বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধা সম্পদ অধিকার-এর প্রয়োগ: বিশ্বায়নের শুরুতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বিশ্বায়নের নীতিকে কার্যকরী করার জন্য মেধা সম্পদ অধিকারের বাণিজ্য সম্পর্কিত যে চুক্তি বলবৎ করেছিল তা সংক্ষেপে পেটেন্ট আইন নামে পরিচিত। এই আইনের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলি তাদের বিভিন্ন জিনিসের উপরে পেটেন্ট ও কপিরাইটের ট্রেড মার্ক, ব্যাবসায়িক গোপনীয়তার সুরক্ষা প্রভৃতি বিষয়গুলিকে নিজেদের এক্তিয়ারে রাখতে পারেনি। উন্নত দেশগুলির কর্পোরেট সংস্থাগুলির আধিপত্যের ফলে উন্নয়নশীল দেশ উদ্ভাবিত দ্রব্যের মেধা স্বত্ব বা পেটেন্টের অধিকারকে সুরক্ষিত রাখা যায়নি।
(vii) উত্তর-দক্ষিণ সংঘাত: অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের উন্নত ও ধনী দেশগুলির সঙ্গে দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনীতির একটা সংঘাতের আবহ শুরু থেকেই তৈরি হতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লেখকেরা একে বিশ্বায়নের নয়া ঔপনিবেশিক অর্থনীতির সম্প্রসারণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা প্রথম থেকেই উন্নত ও ধনী দেশগুলির কুক্ষিগত রয়েছে। এর ফলে আজও উত্তরের ধনী দেশগুলির শোষণ দক্ষিণের গরিব দেশগুলির উপরে অব্যাহত আছে।
(viii) অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের ফলাফল: অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের একটি নীতি হল কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস কর্মসূচি বা ‘Structural Adjustment Programme’ (SAP)। এই নীতির সহজ অর্থ হল বিশ্বায়নের প্রভাবে নয়া বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনে দেশের সাবেকি অর্থনৈতিক কাঠামোকে সংস্কার সাধন করা বা সংশোধন করা। বিশ্বায়নের কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসকে কার্যকরী করার দায়িত্বে থাকা তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার এই নির্দেশিকা মেনে চলার ফরমান জারি করে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে তাদের কলকারখানায় ও রাষ্ট্রপরিচালিত সংস্থাগুলিতে ব্যাপক কর্মীছাঁটাই কর্মী সংকোচন, লক আউট, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে বেসরকারি পুঁজির লগ্নিকরণ এবং জাতীয় ব্যয়ের সংকোচন। ইত্যাদি করতে হয়। এর ফলে স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বেকারি, দারিদ্র্য, আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন সমাজের অনগ্রসর ও দুর্বল শ্রেণির গরিব মানুষেরা।
উপসংহার: একুশ শতকে বিশ্বায়ন একটি অপরিহার্য আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া। বর্তমানে পৃথিবীর ১৬৬টি দেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য। বাজার অর্থনীতি, উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণের বাণিজ্যিক ঘেরাটোপ থেকে কোনো দেশের পক্ষে বাইরে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। অনেকের মতে উন্নত দেশগুলির অধীনে থাকা কর্পোরেট সংস্থার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলিকেও নিজেদের দেশীয় সংস্থার মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে হবে। এই নতুন পদক্ষেপ ভারত-সহ কিছু দেশ ইতিমধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে রূপায়িত করে চলেছে। আশা করা যায় এভাবে একদিন দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলি এক নতুন অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন গড়ে তুলতে পারবে।
আরো পড়ুন : একাদশ শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা প্রশ্ন উত্তর
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন প্রশ্ন উত্তর
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর