উদারনীতিবাদী তত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্য

উদারনীতিবাদী তত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারবাদী তত্ত্বের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ-
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা: উদারনীতিবাদ ক্ষমতার রাজনীতি, হিংসা ও অনৈতিক ক্রিয়াকলাপ থেকে বিশ্বরাজনীতিকে মুক্ত করে, যুদ্ধকে পরিহার করে আন্তর্জাতিক সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী। আন্তর্জাতিক শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপন করার জন্য উদারনীতিবাদীরা সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠন স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক আইন মান্য করা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অরাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলির প্রাধান্য: উদারনীতিবাদীগণ সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে মান্যতা দিলেও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অরাষ্ট্রীয় কারকসমূহের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও ভূমিকাকে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁদের মতে বিভিন্ন আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংগঠনগুলি জাতিরাষ্ট্রের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার যুগে বেশকিছু অরাষ্ট্রীয় কারক, যেমন-বৃহৎ বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলি বা Multinational Corporation (MNC) বাস্তবে অনেক দেশের সরকার অপেক্ষাও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। জন বার্টন এপ্রসঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে মূলত বিভিন্ন অরাষ্ট্রীয় কারকগুলির পারস্পরিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। অর্থাৎ অরাষ্ট্রীয় কারকগুলি রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় প্রবেশ করেছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনা রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলে তাত্ত্বিকরা মনে করেন।
গণতন্ত্রের প্রসার: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদী তত্ত্ব বিশ্বব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসারের – কথা বলে। উদারনীতিবাদ অনুসারে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কখনোই যুদ্ধ-বিবাদকে সমর্থন করে না। বরং রাষ্ট্রগুলি যদি একই আদর্শের উপর ভিত্তি করে তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলে তাহলে তাদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই, রেষারেষি, যুদ্ধ ও যুদ্ধের হুমকি প্রভৃতির অবসান ঘটাবে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হয়, বিশেষত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে। ইমান্যুয়েল কান্ট মনে করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কখনোই যুদ্ধ করতে চায় না, তারা অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আন্তর্জাতিক সমস্যা শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে মিটিয়ে ফেলতে চায়।
আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্ব: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চায় উদারনীতিবাদী তত্ত্ব সামরিক উন্নয়নের পরিবর্তে দেশগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে। এজন্য উদারনৈতিক তাত্ত্বিকগণ অবাধ বাণিজ্য নীতি প্রসারের উপর জোর দেন। তাঁরা বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে পুঁজিবাদী অর্থনীতির ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন এবং অবাধ বাণিজ্য নীতির পথ ধরে বহুপাক্ষিক (Multilateral) অর্থনৈতিক আদানপ্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলির আর্থিক প্রগতি সুনিশ্চিত করা সম্ভব।
ক্ষমতার রাজনীতিকে অস্বীকার: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদী তত্ত্বে ক্ষমতার রাজনীতিকে অস্বীকার করা হয়েছে। এককথায় বলা যায় উদারনীতিবাদ ক্ষমতার রাজনীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। উদারনীতিবাদ মনে করে ক্ষমতার রাজনীতি রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ, রেষারেষি, সংঘর্ষ এমনকি যুদ্ধকে ডেকে আনে। এই কারণে ক্ষমতার লড়াই বা ক্ষমতার রাজনীতিকে উদারনীতিবাদে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ক্ষমতা সম্পর্কিত বাস্তববাদী তত্ত্বের বিরোধিতা করেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চায় উদারনীতিবাদ স্বতন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে গড়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা: উদারনীতিবাদ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আন্তঃরাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব ও বিবাদের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার উদ্দেশ্যে বিশ্বস্তরে যৌথ প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে। এক্ষেত্রে উদারবাদীরা রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার উপর জোর দেয়। উদারনীতিবাদীরা বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
বিশ্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠা: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদী তত্ত্ব জাতিরাষ্ট্রগুলির সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্থায়ী শান্তি ও সুস্থিতি স্থাপনের লক্ষ্যে বিশ্বজনীন আদর্শ প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী অর্থাৎ উদারনীতিবাদ জাতীয় রাষ্ট্রগুলির সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থের ভেদাভেদকে অতিক্রম করে বিশ্বজুড়ে সমগ্র মানবসমাজকে বিশ্বজনীনতার আদর্শে ঐক্যবদ্ধ করতে চায়। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদী তত্ত্বকে উদার আন্তর্জাতিকতাবাদ বলে অভিহিত করা হয়।
গণসার্বভৌমিকতা ও জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের সমর্থক : এই তত্ত্ব প্রতিটি জাতির মধ্যে বৈষম্য দূর করে সার্বভৌম ও সমতার নীতি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী। বলা যায় উদারবাদ প্রতিটি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবি জানায়। পাশাপাশি উদারনৈতিক রাজনৈতিক মতাদর্শে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ন্যায়, মানবাধিকার ইত্যাদি ধারণাগুলি বিশেষ প্রাধান্য পায়।
বিশ্বায়ন ও নয়া বিশ্বব্যবস্থা: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদী তত্ত্ব বিশ্বায়নের যুগে তথা নয়া বিশ্বব্যবস্থায় বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। কারণ এই তত্ত্ব অতিজাতীয় (Transnational) সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে কথা বলেছিল তা বিশ্বায়নের যুগে বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশ্বায়নের ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-র মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সারা বিশ্ব জুড়ে মুক্ত বাণিজ্য (Free Trade) এবং বাজার অর্থনীতি (Market Economy) চালু হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাংক (World Bank) ও আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF)-এর উদ্যোগে পুঁজি ও শ্রমের অবাধ চলাচল সম্ভব হয়েছে। এর ফলে উদারনীতিবাদী তত্ত্বের অবাধ বাণিজ্য নীতি তত্ত্বগত কাঠামো ছেড়ে বাস্তবরূপ পরিগ্রহ করেছে।
উদারনীতিবাদী তত্ত্বের সমালোচনা
১৯৭০-এর দশকে বাস্তববাদী রাষ্ট্রকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আলোচনার প্রেক্ষিতে বিকল্প তত্ত্ব হিসেবে উদারনীতিবাদী তত্ত্বটির উদ্ভব ঘটেছিল ঠিকই, তবে এই তত্ত্বটিও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদী তত্ত্বের বিরুদ্ধে সমালোচনাগুলি হল-
একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি: এই দৃষ্টিভঙ্গি একপেশে বলে সমালোচিত হয়েছে। কারণ এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল পাশ্চাত্যের উদারনৈতিক ব্যবস্থাকেই আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা বলে মনে করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ হল, এই তত্ত্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনাকে মূলত উন্নত পশ্চিমি রাষ্ট্রগুলির সম্পর্কের আলোকে বিচার করা হয়েছে। ফলে এই তত্ত্বের আলোচনা পাশ্চাত্যের আলোচনায় সীমাবদ্ধ। এমনকি উদারবাদ ছাড়া অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি বা ব্যবস্থাকে উদারবাদী তাত্ত্বিকরা বিশ্বশান্তির সহায়ক হিসেবে স্বীকার করেননি। ফলে এই তত্ত্ব কেবল পশ্চিমের একপেশে ভাবনা হয়ে থেকে গেছে।
অবাস্তব ও নীতিধর্মী: সমালোচকগণ মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় উদারনীতিবাদ তত্ত্বে যে নীতি ও আদর্শের কথা বলা হয়েছে তা অনেকটাই অবাস্তব। কারণ আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব নীতি বা আদর্শের কোনো গুরুত্ব নেই। আধুনিক বিশ্বে জাতীয় রাষ্ট্রগুলির কাছে মুখ্য বিচার্য বিষয় হল ক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। জাতীয় স্বার্থই প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রগুলিকে চালনা করে কিন্তু উদারনীতিবাদের তাত্ত্বিকরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বকে বুঝে উঠতে পারেননি।
কর্পোরেট আধিপত্য: বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, উদারবাদীরা রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে উঠে অরাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কারক বিশেষত বহুজাতিক সংস্থাগুলির প্রাধান্যকে স্বীকার করে নিয়েছেন ফলে নতুন বিশ্বব্যবস্থায় কর্পোরেট সংস্থাগুলির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনা কখনোই সম্পূর্ণ হতে পারে না।
বিশ্বব্যাপী বৈষম্যবৃদ্ধি: এই তত্ত্ব বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি এই তত্ত্ব অবাধ বাণিজ্য নীতিকে বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগী, যা উন্নত ধনী দেশগুলির সঙ্গে উন্নয়নকামী তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য বৃদ্ধি করে। কারণ এরূপ ব্যবস্থায় এক অসম বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে পুঁজিবাদী অর্থনীতি এবং মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা পুঁজিবাদী দেশগুলির জন্য লাভজনক হলেও, দরিদ্র দেশগুলির জন্য স্বার্থবিরোধী। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থায় যখনই কোনো সংঘাতমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিজ আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত করেছে।
বাণিজ্যের উদারীকরণের কুফল: সমকালীন ক্ষেত্রে ‘বিশ্বায়ন’-এর সুফলের পাশাপাশি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির উপর বেশকিছু কু-প্রভাব রয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎজ (Joseph Stiglitz)-এর লেখনীতে এবিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর মতে বাণিজ্যের উদারীকরণ পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলির পুঁজিপতিদের লাভবান করেছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে কাজের সুযোগ, উৎপাদন ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভ্রান্ত ধারণা: উদারনীতিবাদীদের মতে, রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে সঠিক নয়। কারণ সাম্প্রতিক বিশ্বব্যবস্থা তথা আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকে তাকালে একথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রাষ্ট্রগুলি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। একারণেই বর্তমানে বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংঘাত, যুদ্ধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন-ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন যুদ্ধ, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ ইত্যাদি।
উপসংহার: উক্ত সমালোচনা সত্ত্বেও একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদারনীতিবাদী তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে বাস্তববাদের রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ভাবনার সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা যায়। এই সময় থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন অরাষ্ট্রীয় কারকগুলির ভূমিকা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমতাবস্থায় উদারবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তির পথ প্রশস্ত হয়। তবে ১৯৯০-এর দশকে বিশ্বায়নের প্রেক্ষিতে এই তত্ত্বের পরিসর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বলা যায় বিশ্বায়নের যুগে উদারবাদী তত্ত্ব বাস্তব রূপ লাভ করেছে। তাই বর্তমান বিশ্বের নতুন বিশ্বব্যবস্থার পটভূমিতে এই তত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতাকে উপেক্ষা করা যায় না।