শিক্ষাক্ষেত্রে সার্ভে পদ্ধতির তাৎপর্য বা গুরুত্ব লেখো
শিক্ষাক্ষেত্রে সার্ভে পদ্ধতির তাৎপর্য
শিক্ষাক্ষেত্রে সার্ভে পদ্ধতিকে বিভিন্নভাবে কাজে লাগানো যায়। সেগুলি হল-
(1) ভরতি: বিদ্যালয়ে যে-কোনো স্তরে ভরতির ক্ষেত্রে জানা সম্ভব হয় কোনো স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত, কত সংখ্যক আসন ফাঁকা রয়েছে ইত্যাদি। কোন্ বিষয়ের গুরুত্ব বেশি বা কম তা জানতে সার্ভে পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যেমন- একাদশ শ্রেণিতে কয়েক বছর ধরে শিক্ষাবিজ্ঞান পড়ার প্রবণতা বাড়ছে তা জানা গেছে সার্ভে পদ্ধতিতে। এই বিষয় অনুধাবন করে হায়ার সেকেন্ডারি কাউন্সিল বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষাবিজ্ঞান পড়ানোর অনুমোদন দিচ্ছে।
(2) বিদ্যালয় পরিকাঠামো: আমাদের দেশে বিভিন্ন স্তরের বিদ্যালয় কতগুলি রয়েছে, সেগুলির পরিকাঠামো কীরূপ ইত্যাদি-তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন বিদ্যালয় অনুমোদন, পরিকাঠামোর উন্নয়ন ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যায়।
(3) পাঠক্রম: সার্ভে পদ্ধতির মাধ্যমে জানা সম্ভব কোনো স্তরের পাঠক্রমের পরিবর্তন হয়েছে কি না। পাঠক্রমের পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে পারেন।
(4) পাঠ্যসূচি: সার্ভে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো স্তরের কোনো বিষয়ের পাঠ্যসূচির কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন কি না সে সম্বন্ধে তথ্য জানা সম্ভব হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
(5) নতুন বিদ্যালয় স্থাপন: সার্ভে পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশে বিভিন্ন স্তরের কতগুলি বিদ্যালয় রয়েছে এবং নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন আছে কি না, প্রয়োজন থাকলে কোন্ অঞ্চলে-এই তথ্য থেকে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
(6) বিশৃঙ্খলার কারণ নির্ণয়: সার্ভে পদ্ধতির মাধ্যমে জানা সম্ভব বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ কী এবং সেই সমস্যাসমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
(7) স্কুলছুট: এই পদ্ধতিতে জানা সম্ভব হয় সারা দেশে স্কুলছুটের হার কত। স্কুলছুটের সংখ্যা কমানোর জন্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
(৪) নিরক্ষরতা দূরীকরণ: এই পদ্ধতিতে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা, নিরক্ষরতার কারণ, নিরক্ষরতার অঞ্চল শনাক্তকরণ সম্ভব। সেই তথ্যসমূহ নিরক্ষরতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করে।
(9) মূল্যায়ন পদ্ধতি: শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে মূল্যায়ন পদ্ধতি সংস্কার করা উচিত কি না তা জানা যায় সার্ভে পদ্ধতির মাধ্যমে। এই তথ্যসংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
(10) প্রশাসনিক ব্যবস্থা: বর্তমান শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন আছে কি না সেই সংক্রান্ত তথ্যসংগ্রহ করতে সার্ভে পদ্ধতির প্রয়োজন।
(11)অর্থনৈতিক অবস্থা: এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে জানা সম্ভব শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কোন্ শিক্ষান্তরে কী পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন।
(12) শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মানোন্নয়ন: শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী অর্থাৎ যারা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সেই সকল মানুষজনের মানোন্নয়নের জন্য বেতন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন কি না সেই সম্পর্কে সরকারকে ওয়াকিবহাল করা যায়।
(13) শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা: এই পদ্ধতি জানতে সাহায্য করে বর্তমান বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সুযোগসুবিধা রয়েছে এবং তাদের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে কি না ইত্যাদি। প্রয়োজনীয়তা থাকলে এই সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়- সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
(14) বিদ্যালয় সংক্রান্ত: স্কুলের নীতি, অনুশীলন বা প্রোগ্রামগুলি নির্ধারণ। করতে, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে অথবা অনুদানের তহবিলকে ন্যায্যতা দিতে প্রায়শই রাজ্য এবং স্থানীয় শিক্ষা সংস্থাগুলিকে জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়।
আরও পড়ুন –
১। অনুসন্ধান পদ্ধতি কী? মনোবৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতির লক্ষ্যগুলি কী কী?
২। অনুসন্ধানের পর্যায়গুলি আলোচনা করো।
৪। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
৫। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
৬। অংশগ্রহণকারী পর্যবেক্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো।
৭। অংশগ্রহণকারী নয় পর্যবেক্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো।
৮। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিকে উন্নত করার জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন?
৯। একটি আদর্শ পর্যবেক্ষণের বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি সম্পর্কে লেখো।
১০। পর্যবেক্ষণের তথ্য সংগ্রহকারী উপকরণগুলি (Tools of Observation) উল্লেখ করো।
১১। পর্যবেক্ষণমূলক অনুসন্ধানের গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করো।
১২। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাগুলি বর্ণনা করো।
১৩। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি কাকে বলে? পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির ব্যবহার লেখো।
১৪। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের কৌশলগুলি সংক্ষেপে ‘আলোচনা করো।
১৫। নিজস্ব মতামত প্রকাশের পদ্ধতি কী? নিজস্ব মতামত প্রকাশের পদ্ধতিতে তথ্যসংগ্রহের কৌশলগুলি আলোচনা করো।
১৬। সাক্ষাৎকার পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।
১৭। নিজস্ব মতামত প্রকাশের পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করো।
১৮। পরীক্ষামূলক পদ্ধতি কাকে বলে? এই পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য লেখো।
১৯। পরীক্ষণের স্তরগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
২০। শিক্ষাক্ষেত্রে পরীক্ষণ পদ্ধতির একটি নমুনা দাও।
২১। পরীক্ষামূলক পদ্ধতির সুবিধাগুলি লেখো।
২২। পরীক্ষামূলক পদ্ধতির অসুবিধাগুলি লেখো।
২৩। পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিতে শিক্ষকের ভূমিকা লেখো।
২৪। শিক্ষাক্ষেত্রে পরীক্ষণ পদ্ধতির প্রয়োগ লেখো।
২৫। Case Study পদ্ধতি কী? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।
২৬। কেস স্টাডির উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখো।
২৭। কোনো ব্যক্তির জন্য কেস স্টাডিতে সংগৃহীত তথ্যসমূহগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
২৮। Case Study পদ্ধতির ধাপসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
২৯। শিক্ষাক্ষেত্রে কেস স্টাডির গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করো।
৩০। কেস স্টাডির সুবিধাগুলি লেখো।
৩১। কেস স্টাডির অসুবিধাগুলি লেখো।
৩২। কেস স্টাডি পদ্ধতির ব্যবহার লেখো।
৩৩। Survey পদ্ধতি কী? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
৩৪। সার্ভে পদ্ধতির ব্যবহারগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
৩৫। জরিপ গবেষণার ধাপগুলি (Steps in Survey Research) সংক্ষেপে আলোচনা করো।
৩৬। স্কুল জরিপ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
৩৭। সার্ভে পদ্ধতি কী? এর শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
৩৮। শিক্ষা সংক্রান্ত কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে Survey অধিক গুরুত্বপূর্ণ