বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার তিনটি পর্যায় কী কী

বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার তিনটি পর্যায় কী কী

বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার তিনটি পর্যায় কী কী
বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার তিনটি পর্যায় কী কী

বৌদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার পর্যায়সমূহ

বৌদ্ধ শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা মঠ, বিহার-এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। এই শিক্ষায় তিনটি পর্যায় লক্ষিত হয় যথাক্রমে- প্রব্রজ্যা, শ্রমণ, উপসম্পদা।

(1) প্রব্রজ্যা: বৌদ্ধ শাস্ত্র ‘বিনয়পিটক‘ থেকে জানা যায় প্রব্রজ্যা হল সেই প্রাথমিক অনুষ্ঠান যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সংঘজীবনে প্রবেশাধিকার লাভ করত। এটি হল প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের অনুষ্ঠান।

  • প্রব্রজ্যা গ্রহণের পর শিক্ষার্থী শ্রমণ উপাধি পেত।
  • আট বছর বয়সের ছোটো যারা তারা প্রব্রজ্যা গ্রহণ করতে পারত না।
  • এইসময় তাদের পঞ্চশীল উপদেশ দেওয়া হত।
  • 12 বছর কালব্যাপী প্রব্রজ্যার সময়কাল ব্যাপ্ত ছিল।

(2) ভ্রমণ: প্রব্রজ্যা গ্রহণ করত যে ব্যক্তিরা তাদের বলা হত শ্রমণ। শ্রেণি- বর্ণ কোনো বাধা না রেখে পনেরো বছরের যে কেউ সংঘের সদস্য হতে পারত।

  • এই শ্রমণদের প্রথম গৌতম বুদ্ধ নিজে শিক্ষা দিতেন। পরবর্তীকালে গৌতম বুদ্ধের শিষ্যরা শিক্ষা দিতেন।
  • শ্রমণরা যে বস্ত্র পরতেন তাকে বলা হত চীবর।
  •  নব দীক্ষিতরা মস্তক মুণ্ডনের পর গেরুয়া বসন ধারণ করত।
  •  ভিক্ষা এদের জীবিকা ছিল।

(3) উপসম্পদা: উপসম্পদা ছিল চূড়ান্ত শিক্ষাদানের উৎসব। প্রব্রজ্যা গ্রহণের পর শ্রমণরা কুড়ি বছর উপাধ্যায় বা আচার্যের তত্ত্বাবধানে থাকতেন।

  • উপসম্পদা প্রদানের সময় একটা সভার আয়োজন করা হত, যেখানে উপস্থিত থাকতেন অন্যান্য ভিক্ষুরা।
  • সভায় শ্রমণ বা ভিক্ষুদের বিভিন্ন প্রশ্ন করা হত। শ্রমণ যদি তার উত্তরে ি সভার অন্যান্য ভিক্ষুদের তুষ্ট করতে পারতেন তাহলে উপসম্পদা উপাধি লাভ করতেন।
  • দশ বছর ধরে উপসম্পদার সময় অতিবাহিত করার পর উপাধ্যায় হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করত।

আরও পড়ুন – বিকাশের স্তরসমূহ প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment