বাল্যকালে শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলি বর্ণনা করো

বাল্যকালে শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলি বর্ণনা করো

অথবা, বাল্যকালে কোন্ ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়? সেই শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলি কী কী ? অথবা, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যগুলি কী কী

মনোবিদ জোনসের বিকাশের স্তরভাগ অনুযায়ী 5 বছর থেকে 12 বছর বয়সকাল পর্যন্ত সময়টি হল বাল্যকাল। এটি হল জীবনবিকাশের দ্বিতীয় স্তর। 5-12 বছর বয়সের মধ্যে যে ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয় সেটি প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে অন্তর্ভুক্ত। এই শিক্ষার লক্ষ্যগুলি হল-

প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য

(1) দৈহিক বিকাশ: শিশু যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, তার মধ্যে যেন অঙ্গসঞ্চালনগত, পেশিগত বা অভ্যন্তরীণ গ্রন্থিগত কোনো ত্রুটি না থাকে। সেই উদ্দেশ্যে খেলাধুলা, শরীরচর্চা প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ৪ গড়ে তোলা।

(2) সু-অভ্যাস গঠন করা: খাওয়ার আগে ও পরে ভালো করে হাত-মুখ ধোয়া, দাঁত দিয়ে নখ না কাটা, নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসা ইত্যাদি সু-অভ্যাস গড়ে তোলা। 

(3) মানসিক বিকাশ ঘটানো: প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের জন্য  চিন্তাশক্তি, বিচার ক্ষমতা, সৃজনক্ষমতা, কল্পনাপ্রবণতা প্রভৃতি মানসিক দিকগুলির যথাযথ বিকাশে সাহায্য করা।

(4) সামাজিক বিকাশ ঘটানো: শিশুর মধ্যে সহযোগিতা, সহানুভূতি, সেবামূলক মনোভাব প্রভৃতি সামাজিক গুণ এবং কর্তব্যের বিকাশ ঘটানো।

(5) প্রাঙ্ক্ষাভমূলক সমন্বয়সাধন করা: প্রক্ষোভমূলক সমন্বয়-এর উপর ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তা নির্ভর করে। তাই প্রক্ষোভগুলি সমন্বয় করা এই শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য।

(6) কৌতূহলের বিকাশ ঘটানো: প্রাথমিক শিক্ষার একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হল শিশুর কৌতূহলপ্রবণতার বিকাশ ঘটানো।

(7) ভাষার বিকাশ ঘটানো: শিক্ষার্থীকে সুন্দর ও স্পষ্ট ভাষায় নিজের মনের ভাব প্রকাশে সাহায্য করা এই শিক্ষার উদ্দেশ্য।

(৪) সৃজনশীলভার বিকাশ ঘটানো : নাচ, গান, আঁকা প্রভৃতি কার্যাবলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটানো প্রাথমিক শিক্ষার একটি বিশেষ উদ্দেশ্য

(9) মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো: আদর্শপরায়ণ মহাপুরুষদের জীবনীপাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সততা, আদর্শপরায়ণতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি।

(10) বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ: বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে। বাল্যকাল থেকেই শিশুদের মধ্যে যাতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে, সেজন্য প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

(11) জ্ঞান ও দক্ষতার বিকাশসাধন: প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল শিশুর জ্ঞানমূলক বিকাশসাধন। এই উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল বিষয়ে জ্ঞান দানে সাহায্য করা হয়।

আরও পড়ুন – আজব শহর কলকেতা প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment