পঁচিশে বৈশাখ প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর সৈয়দ মুজতবা আলী Class 11 Second Semester

পঁচিশে বৈশাখ প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর সৈয়দ মুজতবা আলী Class 11 Second Semester

পঁচিশে বৈশাখ প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর
পঁচিশে বৈশাখ প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর
১। ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনাটির রচয়িতা কে? ‘পঁচিশে বৈশাখ’ কীজন্য উল্লেখযোগ্য?

‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনাটির রচয়িতা হলেন প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী। সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক রম্যরচনা গ্রন্থ থেকে রচনাটি গৃহীত।

সূচিপত্র

‘পঁচিশে বৈশাখ’ কবিগুরু, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন।

বাংলা সাহিত্যে এবং বাঙালির হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চিরস্মরণীয় ব্যক্তি। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ তিনি ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এজন্য ‘পঁচিশে বৈশাখ’ উল্লেখযোগ্য।

২। ‘রবীন্দ্রনাথের সাহচর্য পেয়েছিলুম …’- অংশটি কোথা থেকে সংগৃহীত? কে রবীন্দ্রনাথের সাহচর্য পেয়েছিলেন?

আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত’ ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে সংগৃহীত। লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহচর্য বা সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন।

৩। ‘… সুশীল পাঠক এবং সহৃদয়া পাঠিকা অপরাধ নেবেন জনা’-অংশটির উৎস কী এবং কে এ কথা বলেছেন? এই মন্তব্যের কারণ কী?

আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে। অংশটির বক্তা স্বয়ং লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী। লেখক মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যলাভ করার সূত্রে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে লেখকের ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার ইচ্ছা প্রসঙ্গে পাঠক-পাঠিকাদের উদ্দেশ্যে এরূপ মন্তব্য করেছেন।

৪। ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে সৈয়দ মুজতবা আলী ছোটোগল্প রচনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন্ কোন্ বিদেশি রচয়িতাকে ছাপিয়ে গেছেন জানিয়েছেন? ওই সমস্ত বিদেশি গল্পকারদের সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের’ পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় সৈয়দ মুজতবা আলী, ছোটোগল্প রচনার বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মপাসাঁ, চেখফ প্রভৃতি বিদেশি গল্পকারদের ছাপিয়ে গেছেন-এ কথা জানিয়েছেন।

মপাসাঁ : তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ফরাসি ছোটোগল্পকার, ঔপন্যাসিক ও কবি।

চেখফ: তিনি ছিলেন রুশ ছোটোগল্পকার, নাট্যকার ও বিশিষ্ট চিকিৎসক। তাঁকে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সেরা গল্পকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৫। ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রবীন্দ্রনাথ গুরু রূপে কী নির্মাণ করেছেন এবং তাঁর ফলে বিশ্বজন কীভাবে উপকৃত হয়েছেন বলে রচয়িতা মনে করেছেন?

প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রবীন্দ্রনাথ গুরু রূপে শান্তিনিকেতন নির্মাণ করে গিয়েছেন। তার স্নিগ্ধ ছায়ায় বিশ্বজন একদিন সুখময় নীড় লাভ করবে বলে রচয়িতা মনে করেছেন।

৬। ‘আমার কিন্তু ব্যক্তিগত বিশ্বাস, …’-এটি কোন্ রচনার অংশ? কার কোন্ বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে? ১+১

আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে গৃহীত হয়েছে। অংশটিতে রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলীর বিশ্বাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী প্রতিভা ও গুণগুলো ছাপিয়ে সংগীত প্রতিভার জন্য তিনি চিরন্তন, মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

৭। ‘রবীন্দ্রনাথ এসব উত্তীর্ণ হয়ে অজরামর হয়ে রইবেন…’-‘এসব’ বলতে কী বলা হয়েছে? রবীন্দ্রনাথ কীজন্য অজরামর হয়ে রইবেন বলে রচয়িতা মনে করেছেন? সাবীলিপ ভীন্দ্রলা

সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ রম্যরচনা গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার অংশ এটি। রচয়িতা মুজতবা আলী ‘এসব উত্তীর্ণ’ বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার, প্রাবন্ধিক, কবি, শব্দতাত্ত্বিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শান্তিনিকেতনের গুরুদেব প্রভৃতি গুণাবলি ও বহুমুখী প্রতিভাকে ‘এসব’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সংগীত সৃষ্টি, সংগীত প্রতিভার জন্য অজরামর অর্থাৎ মানুষের হৃদয়ে চিরন্তন বা চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবেন বলে রচয়িতা মনে করেছেন।

৮। ‘সুরের দিক দিয়ে বিচার করব না।’-রচয়িতা কার, কোন্ সুরের কথা বলেছেন? কেন সুরের বিচার করবেন না বলেছেন?

অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার অন্তর্গত। এখানে রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রবীন্দ্রসংগীতের সুরের কথা বলেছেন।

রচয়িতা মুজতবা আলীর মতে তাঁর বন্ধু শান্তিদেব ঘোষ তাঁর ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের গান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের গানের কোনো দিক তিনি বাদ দেননি যা আমাদের সকলের জানা। তাই রচয়িতা রবীন্দ্রনাথের গানের সুর সম্পর্কে বিচারবিশ্লেষণ করতে চাননি।

৯। ‘সুহৃদ শান্তিদেব ঘোষ তাঁর ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতে’ এমন কোনো জিনিস বাদ দেননি …’-অংশটি কোন্ রচনার অন্তর্গত? শান্তিদেব ঘোষের পরিচয় দাও।

অংশটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার অন্তর্গত। শান্তিদেব ঘোষ লেখক সৈয়দ মজুতবা আলীর বন্ধুস্থানীয় এবং তিনি শান্তিনিকেতনে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে সংগীত, নৃত্য, অভিনয় শিখেছিলেন। শান্তিদেব ঘোষ ছিলেন একজন বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, লেখক, গায়ক। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিশ্বভারতীতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরে রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্য বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হয়েছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হল- ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’, ‘রবীন্দ্র সংগীত বিচিত্রা’, ‘রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শে সংগীত ও নৃত্য’ প্রভৃতি।

১০। ‘কতকগুলো অপূর্ব গুণের সমন্বয় হলে পর এরকম গান সৃষ্টি হতে পারে।’-কোন্ গুণ ও গানের কথা বলা হয়েছে?

প্রাবন্ধিক সৈয়দ সুজতবা আলী তাঁর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় সংগীতের গীতিরস, শব্দ ব্যবহার, অখণ্ড ও সম্পূর্ণ রূপ, সীমা-অসীম তত্ত্ব, ব্যঞ্জনা এবং ধ্বনিপ্রধান ইত্যাদি গুণের কথা বলেছেন। ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীতের কথা তুলে ধরেছেন।

১১। ‘… যে রসের সন্ধান করেছি, সে হচ্ছে গীতিরস।’-কে কোন্ গানের মধ্যে রসের সন্ধান করেছেন? গীতিরস কী?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী দু-চারটে ভাষা জানার সুবাদে শেলি, কিটস, গ্যেটে, কালিদাস, জয়দেব, গালিব প্রমুখের সৃষ্টি গান, কবিতার মধ্যে গীতিরসের সন্ধান করেছেন। গীতিরস সংগীতের একটি বিশেষ রস-যা স্রষ্টার একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি গানের মাধ্যমে শ্রোতার হৃদয় স্পর্শ করে এবং সৌন্দর্যচেতনা ও আনন্দ ভাবনায় পরিপূর্ণ করে তোলে।

১২। ‘… সবকিছুর রসাস্বাদ করে এ জীবন ধন্য মেনেছি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বার বার বলেছি-‘-কে, কীসের রসাস্বাদ করে তাঁর জীবন ধন্য করেছেন? তিনি বারবার কী বলেছেন?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শেলি, কিটস, গ্যেটে হাউনে, হাফিজ আত্তার, কালিদাস, জয়দেব, গালিব জওক্ প্রমুখ কবি, শিল্পীদের গান, কবিতার রসাস্বাদ করে জীবন ধন্য করেছেন।

রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী বারবার রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ কাব্যের ‘পুরস্কার’ কবিতার দুটি পক্তি বলেছেন- ‘ এমনটি আর পড়িল না চোখে, আমার যেমন আছে।’

অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীতের গীতিরস, সৌন্দর্যচেতনা ও আনন্দভাবনা তিনি রবীন্দ্রসংগীত ব্যতীত আর কোথাও অনুভব করেননি।

১৩। ‘তখন সর্ব-প্রকারের বিশ্লেষণ ক্ষমতা লোপ পায়।’-কার এবং কেন সর্বপ্রকার বিশ্লেষণ ক্ষমতা লোপ পায়?

‘পঞ্চতন্ত্র’ রম্যরচনা গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলীর রবীন্দ্রনাথের গানের অখণ্ড রূপ। হৃদয় মন অভিভূত হওয়ার ফলে সর্বপ্রকার বিশ্লেষণ ক্ষমতা লোপ পায় বলে মনে করেছেন।

১৪। ‘… একমাত্র তখনই আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত জাতীয় কিঞ্চিৎ রস পেয়েছি।’-অংশটি কার লেখা, কোন্ রচনার থেকে গৃহীত? ‘একমাত্র তখনই’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে গৃহীত। জার্মান লিডার গান এবং ইরানের গজল গান যখন গাওয়া হয় ‘একমাত্র তখনই’ প্রাবন্ধিক রবীন্দ্রসংগীত জাতীয় কিঞ্চিৎ রস পেয়েছেন।

১৫। ‘তাই একমাত্র সেগুলোর সঙ্গেই রবীন্দ্রনাথের গানের তুলনা করে ঈষৎ বিশ্লেষণ করা যায়।’-‘সেগুলোর সঙ্গেই’ বলতে কার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গানের তুলনা করেছেন? কী কারণে রবীন্দ্রনাথের গানের সাথে তুলনা করে ঈষৎ বিশ্লেষণ করেছেন?

প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ রম্যরচনা গ্রন্থের অন্তর্গত’ পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রচয়িতা জার্মান লিডার এবং ইরানের গজল গানের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গানের তুলনা করেছেন।

রবীন্দ্রনাথের গানে যে গীতিরস তা জার্মান লিডার এবং ইরানের গজল গানের মধ্যে সামান্য পাওয়া যায় বলে রচয়িতা এদের মধ্যে তুলনা করে সামান্য বিশ্লেষণ করেছেন।

১৬। ‘শুধু যে অতৃপ্ত রেখে গিয়েছে তাই নয়, অসম্পূর্ণ বলেই মনে হয়েছে,’-রচয়িতা কাকে ‘অতৃপ্ত’ ও ‘অসম্পূর্ণ’ বলেছেন? এরকম বলার কারণ কী?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী জার্মান লিডার এবং ইরানীয় গজল গানকে অতৃপ্ত ও অসম্পূর্ণ বলেছেন।

এরকম বলার কারণ, রচয়িতার মতে লিডার এবং গজল গান যদি দীর্ঘক্ষণ ধরে চলত তাহলে যেমন ভালো লাগত তৃপ্তিবোধ করা যেত তেমনি ভাব ও গীতিরস প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নয় মনে হয়েছে।

১৭। ‘তার কারণ অতিশয় উচ্চাঙ্গের রসসৃষ্টি মাত্রই ব্যঞ্জনা এবং ধ্বনিপ্রধান।’-কোন্ রচনার অংশ এটি? কোন্ প্রসঙ্গে মন্তব্য?

প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার অংশ এটি।

রচয়িতা রবীন্দ্রনাথের গান প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে রবীন্দ্রনাথের গান অসম্পূর্ণ নয়। তবে কখনও যদি তিনি রবীন্দ্রসংগীত শুনে অতৃপ্তি অনুভব করেন, তার কারণ হিসেবে তিনি এ কথা বলেছেন।

১৮। ‘এ গান আমার সামনে যে ভুবন গড়ে দিয়ে গেল তার প্রথম পরিচয়ে তার সব কিছু আমার জানা হল না বটে,..’- কোন্ গান প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য? এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?

লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করেছেন।

রবীন্দ্রসংগীত শুনে লেখক তৃপ্তি অনুভব করেন। তবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের উচ্চাঙ্গের রসসৃষ্টির জন্য তাঁর হৃদয়ে ব্যঞ্জনার অতৃপ্তি দিয়ে নতুন এক জগৎ সৃষ্টি করে। তাই রচয়িতা এ কথা বলেছেন।

১৯। ‘একদিন সে ভুবন আমার নিতান্ত আপন হয়ে উঠবে। কীভাবে সে-ভুবন আপন হয়ে উঠবে বলে রচয়িতা মনে করেছেন?

বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথের গান প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে রবীন্দ্রসংগীতের উচ্চাঙ্গের রসসৃষ্টির জন্য হৃদয়ে যে অতৃপ্তি বোধ জন্মায়, তার ফলে নতুন এক জগতের সৃষ্টি হয়। একবার শ্রবণে সে-ভুবনের সম্পূর্ণ সন্ধান না-পেলেও বারবার শ্রবণের ফলে সে-ভুবন লেখকের আপন হয়ে যায় বলে মনে করেছেন।

২০। ‘তখন প্রতিবারই হৃদয়ঙ্গম করি,’-রচয়িতা কী হৃদয়ংগম করার কথা বলেছেন এবং কীভাবে তা হৃদয়ংগম করেন?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের’ পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান হৃদয়ংগম করার কথা বলেছেন।

রবীন্দ্রসংগীতের শব্দ, শব্দের বিশেষ স্থলে ব্যবহার, ব্যঞ্জনার সাহায্যে উচ্চাঙ্গের রসসৃষ্টি, ভাব ও অর্থের মাধুর্য লেখকের হৃদয়ে নতুন জগতের সন্ধান দেয়-যা তিনি রবীন্দ্রসংগীতের শ্রবণে হৃদয়ংগম করে থাকেন।

২১। ‘এগান আর অন্য কোনো রূপ নিতে পারতো না’-‘এগান’ বলতে কোন্ গানের কথা বলা হয়েছে? কোন্ প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করা হয়েছে?

সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় ‘এ গান’ বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীতের কথা বলেছেন। লেখক নটরাজের নৃত্যের অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের তুলনা করেছেন। নটরাজ্যের মূর্তি দেখলে নটরাজের নৃত্যের যে বিশেষ অঙ্গভঙ্গি আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে, সেই রকম

রবীন্দ্রনাথের গান শুনলে রবীন্দ্রসংগীতের শব্দ, গীতিরস, ব্যঞ্জনা আমাদের মনে নতুন জগৎ সৃষ্টি করে।

২২। ‘নটরাজের প্রত্যেকটি অঙ্গ-ভঙ্গির মত রবীন্দ্রনাথের গানের প্রত্যেকটি শব্দ।’-নটরাজ কে? এরূপ তুলনার কারণ ক

হিন্দু দেবতা শিবকে নটরাজ বলা হয়। শিবের বিশেষ নৃত্যভঙ্গি হল নটরাজ। ‘ভারতনাট্যম’ নামক দক্ষিণ ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যে ভগবান শিবকে নৃত্যের রাজা বা নটরাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

নটরাজের মূর্তি দেখলে আমাদের যেমন বিশেষ নৃত্যভঙ্গি, নৃত্যকলার কথা মনে পড়ে, ঠিক তেমনি রবীন্দ্রসংগীত শুনলেও সংগীতের এক বিশেষ ধরনের তৃপ্তিদায়ক, হৃদয়ে নতুন জগৎ সৃষ্টিকারী গানের কথা মনে পড়ে। এ প্রসঙ্গে লেখক এরূপ তুলনা দিয়েছেন।

২৩। ‘রবীন্দ্রনাথের গান ফিকে, পানসে অর্থাৎ ফ্লাট বলে মনে হয়।’ -কোন্ রচনার অংশ এটি? এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?

আলোচ্য অংশটি বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে গৃহীত হয়েছে।

রবীন্দ্রসংগীতের গায়ক তার গাওয়া গান চমৎকার সুর-তাল এবং মধুর কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে পরিবেশন করলেও সংগীতের শব্দের প্রতি সম্মানবোধ না-থাকায় অর্থাৎ প্রতিটি শব্দ হৃদয় দিয়ে অনুভব করে রসিয়ে রসিয়ে পরিবেশন না-করার জন্য তা ফিকে, পানসে ফ্ল্যাট বলে মনে হয় অর্থাৎ রংহীন, স্বাদহীন, গতানুগতিক মনে হয় বলে লেখক এরূপ মন্তব্য করেছেন।

২৪। ‘নটরাজের প্রতিটি অঙ্গ আড়ষ্ট হয়ে গিয়ে তাঁর নৃত্য বন্ধ হয়ে গেল।’-এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও রম্যরচনাকার সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে আলোচনায় নটরাজের নৃত্যের অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ গায়ক যখন রবীন্দ্রসংগীতকে আন্তরিকতার সঙ্গে, সংগীতের প্রতিটি শব্দকে রসিয়ে রসিয়ে পরিবেশন করেন না, তখন রবীন্দ্রসংগীতের মাধুর্যতা নষ্ট হয়; তাতেই রচয়িতা এরূপ মন্তব্য করেছেন।

২৫। ” আমাদের নিয়ে গিয়েছেন ‘নীলাম্বরের মর্মমাঝে’।”-কে আমাদের ‘নীলাম্বরের মর্মমাঝে’ নিয়ে গিয়েছেন? নীলাম্বরের মর্মমাঝে কীভাবে নিয়ে গিয়েছেন?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় সৈয়দ মুজতবা আলী মন্তব্য করেছেন রবীন্দ্রনাথের গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত আমাদের নিয়ে গিয়েছে ‘নীলাম্বরের মর্মমাঝে’।

‘নীলম্বরের মর্মমাঝে’ বলতে অনন্ত আকাশে অর্থাৎ অসীমের জগতে অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীতের গীতিরস আমাদের হৃদয়কে মোহিত করে এক অসীমের জগৎ সৃষ্টি করে, আমাদেরকে নিয়ে যায় এক অনন্ত জগতে।

২৬। ‘এ অলৌকিক কর্ম যিনি করতে পারেন…’-কোন্ অলৌকিক কর্ম করতে পারেন? কোন্ অলৌকিক কর্মের কথা বলা হয়েছে?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অর্থাৎ তাঁর রবীন্দ্রসংগীত অলৌকিক কর্ম করতে পারেন বলে মনে করেছেন। লেখকের মতে রবীন্দ্রনাথের গান আমাদের হৃদয়ে এক নতুন জগতের সৃষ্টি করে। রবীন্দ্রসংগীত আমাদের নিয়ে যায় সীমা থেকে অসীমের রাজ্যে আবার অসীম থেকে সীমার মাঝে। রবীন্দ্রনাথের সীমা-অসীমের তত্ত্ব তাঁর গানে ফুটে উঠেছে-যাকে লেখক অলৌকিক কর্ম বলে মনে করেছেন।

২৭। ‘তিনিই ‘বিশ্বকর্মা মহাত্মা’। -কাকে ‘বিশ্বকর্মা মহাত্মা’ বলা হয়েছে? এরকম বলার কারণ কী?

সৈয়দ মুজতবা আলী ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকর্মা মহাত্মা’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্বকর্মা হল হিন্দুদের শিল্প ও সৃষ্টির দেবতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিল্প-সাহিত্য-সংগীতকলাকে নব নব রূপে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য প্রাবন্ধিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান বিশ্বকর্মা বলে অভিহিত করেছেন।


১। ‘তাই যদি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে দেখি…’-অংশটির উৎস নির্ণয় করো। কে, কাকে ব্যক্তিগতভাবে দেখতে চেয়েছেন? এরূপ মন্তব্যের কারণ কী?

আলোচ্য অংশটি বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে।

লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ব্যক্তিগতভাবে দেখতে চেয়েছেন।

লেখক মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্য লাভ করার সুবাদে রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী প্রতিভা ও সৃষ্টিকর্ম এবং তার মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্যরা সংগীত প্রতিভার পরিচয় দিতে চেয়েছেন নিজের মতো করে। এজন্য রচনায় পাঠক-পাঠিকাদের উদ্দেশ্যে এরূপ মন্তব্য করেছেন।

২। ‘ছোটো গল্পে তিনি মপাসাঁ, চেখফকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন,’-কে মপাসাঁ, চেখফকে ছাড়িয়ে গেছেন? মপাসাঁ ও চেখফ কে?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উৎকৃষ্ট ছোটোগল্প রচনায় মপাঁসা, চেখফকে ছাড়িয়ে গেছেন।

মপাসাঁ ও চেখফ হলেন দুজন বিখ্যাত, জনপ্রিয় বিদেশি সাহিত্যিক, ছোটোগল্পকার।

মপাসাঁ : তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ ফরাসি কথাশিল্পী ও কবি। তবে তাঁর ছোটোগল্প বিশ্বের ছোটোগল্পের ইতিহাসে যথেষ্ট প্রশংসনীয়। পরবর্তীকালে তাঁর ছোটোগল্প অনুসারে বহু ভাষায় ছোটোগল্প লেখা হয় এবং তাঁর ছোটোগল্প অনূদিত হয়।

চেখফ : তিনি হলেন একজন জনপ্রিয় রুশ ছোটোগল্পকার ও নাট্যরচয়িতা এবং পাশাপাশি বিশিষ্ট চিকিৎসক। তাঁকে বিশ্বসাহিত্যে অন্যতম সেরা ছোটোগল্পকার রূপে বিবেচনা করা হয়।

৩। ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনাটি কী জাতীয় রচনা এবং কার লেখা কোন্ গ্রন্থের অন্তর্গত? এই রচনায় রচয়িতা রবীন্দ্রনাথের কোন্ কোন্ গুণ বা প্রতিভার কথা তুলে ধরেছেন?

‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনাটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা।

‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় লেখক মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী প্রতিভা সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে বলতে গিয়ে বলেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ উত্তম উপন্যাস লিখেছেন, ছোটোগল্প রচনায় পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠ গল্পকার মপাসাঁ, চেখফকে ছাপিয়ে গেছেন। আবার নাট্যে রবীন্দ্রনাথ মিস্টিকতা সৃষ্টিতে এবং কবি রূপে বিশ্বজনের প্রশংসা অর্জন করেছেন। এ ছাড়াও শব্দতাত্ত্বিক রূপে সত্যদ্রষ্টা হিসেবে, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং শান্তিনিকেতনের গুরু রূপে রবীন্দ্রনাথ শ্রেষ্ঠ এবং প্রশংসনীয়।

৪। ‘রবীন্দ্রনাথ এসব উত্তীর্ণ হয়ে অজরামর হয়ে রইবেন…’-এসব বলতে কী বলা হয়েছে? কীজন্য রবীন্দ্রনাথ অজরামর হয়ে থাকবেন বলে রচয়িতা মনে করেছেন?

আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার থেকে গৃহীত।

এখানে ‘এসব’ বলতে প্রাবন্ধিক মুজতবা আলী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী প্রতিভা ও গুণ-ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্য রচয়িতা, কাব্য-কবিতা সৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠত্ব, শব্দতত্ত্ব সম্বন্ধে গবেষণা, সত্যদ্রষ্টা, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং শান্তিনিকেতনের নির্মাতা ও গুরু রূপে ক্রিয়াকর্ম প্রভৃতির কথা বলা হয়েছে।

‘অজরামর’ শব্দের অর্থ চিরস্মরণীয় বা চিরকাল অমর হয়ে থাকা। রচনাতে রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ব্যক্তিগত মতামত জানিয়ে বলেছেন যে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃষ্টি গানের জন্য অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত রচনার জন্য মানুষের হৃদয়ে অজরামর হয়ে থাকবেন।

৫। ‘আমি চিরজীবন যে রসের সন্ধান করেছি সে হচ্ছে গীতিরস।’-আমি কে? কোথা থেকে তিনি গীতিরস আস্বাদন করেছেন?

আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক, রম্যরচনার সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক রম্যরচনা গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার অংশ। এখানে ‘আমি’ বলতে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী স্বয়ং।

সৈয়দ মুজতবা আলী বহু ভাষায় পারদর্শী হওয়ার সুবাদে শেলি, কিটস, গ্যেটে হাউনে, হাফিজ আত্তার, কালিদাস, জয়দেব, গালীব জত্তক, এমনকি রবীন্দ্রনাথের বহু গান শুনেছেন, কবিতা, সাহিত্য পড়েছেন। তাই এ সমস্ত প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের রচয়িতাদের রচনা থেকে তিনি গীতিরস আস্বাদন করেছেন।

৬। ‘এমনটি আর পড়িল না চোখে,/আমার যেমন আছে!’-পঙ্ক্তিটি কোন্ রচনায় ব্যবহার করা হয়েছে? পঙ্ক্তিটি কোন্ কবির, কোন্ কবিতার অংশ? এরকম পঙ্ক্তি ব্যবহারের কারণ কী?

পঙ্ক্তিটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় ব্যবহার করেছেন।

আলোচ্য পঙক্তিটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কাব্যের ‘পুরস্কার’ কবিতার অংশ বিশেষ।

রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের শেলি, কিটস, গ্যেটে, হাফিজ, কালিদাস, জয়দেব, গালীব প্রমুখ বহু কবি-সাহিত্যিকদের রচনা থেকে সাহিত্যরস, নীতিরস আস্বাদন করে তৃপ্তি লাভ করলেও, রবীন্দ্রনাথের গানের গীতিরস আস্বাদনে যে চরম তৃপ্তি বোধ তা তিনি অন্যত্র পাননি। এ প্রসঙ্গে রচয়িতা এরূপ পঙ্ক্তির ব্যবহার করেছেন।

৭। ‘তখন ধরা পড়ে:/রবীন্দ্রনাথের গানের অখণ্ড, সম্পূর্ণ রূপ। -কখন ধরা পড়ে? মন্তব্যটির তাৎপর্য লেখো।

আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী যখন ইরানীয় ‘গজল’ বা জার্মান ‘লিডার’ গান শোনেন তখন ধরা পড়ে রবীন্দ্রনাথের গানের অখণ্ড, সম্পূর্ণ রূপটি।

রচয়িতা মুজতবা আলী জার্মান লিডার বা ইরানের গজল শুনেছেন এবং তৃপ্তি লাভ করেছেন। কিন্তু সেই গানগুলো তাঁর কাছে সংক্ষিপ্ত এবং অসম্পূর্ণ বলে মনে হয়েছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত শুনে রচয়িতা তুলনা করে দেখেছেন যে, জার্মান লিডার বা ইরানের গজলের থেকে অনেক বেশি তৃপ্তি লাভ করছেন বা গীতিরস আস্বাদন করেছেন। কেন-না রবীন্দ্রসংগীত অখণ্ড, সম্পূর্ণ।

৮। ‘তাঁর গান শুনে যদি কখনো মনে হয়ে থাকে এ গান আমাকে অতৃপ্ত রেখে গেল তবে তার কারণ তার অসম্পূর্ণতা নয়,’-কার গানের কথা রচয়িতা এখানে বলতে চেয়েছেন? বক্তা তাঁর গান শুনে কীভাবে অতৃপ্ত হয়েছেন?

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসঙ্গীতের কথা বলতে চেয়েছেন।

বক্তা সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথের গান শুনে যদি কখনও অতৃপ্ত হয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতের অসম্পূর্ণতার জন্য নয় বরং রবীন্দ্রসংগীতে অধিক পরিমাণ উচ্চাঙ্গের রসসৃষ্টির জন্য তা হয়ে উঠেছে ব্যঞ্জনা এবং ধ্বনিপ্রধান। তাই তাকে একবারে হৃদয়ে গ্রহণ করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে বলে রচয়িতা অতৃপ্তি বোধ করেছেন।

২৯। এমনি করে করে একদিন সে ভুবন আমার নিতান্ত আপন হয়ে উঠবে।-কে, কোন্ প্রসঙ্গে এই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন? বক্তব্যটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক সৈদয় মুজতবা আলীর বিখ্যাত রম্যরচনা গ্রন্থ ‘পঞ্চতন্ত্র’-র অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে।

‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত প্রসঙ্গে এই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। রবীন্দ্রনাথের গান শুনে রচয়িতা মুজতবা আলী তৃপ্তি বোধ করতেন। রবীন্দ্রসংগীতের শব্দ, গীতিরস, অখণ্ডতা রচয়িতা মনে এক আলাদা অনুভূতির জগৎ সৃষ্টি করত। তবে আবার কিছুকিছু গান একবার শুনে অস্পষ্টতা, অতৃপ্তি সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে শুনলে তা স্পষ্ট ও তৃপ্তিদায়ক হয়ে হৃদয়ে এক নতুন জগৎ সৃষ্টি হত। যে জগৎ হয়ে উঠত রচয়িতার
একান্ত আপন।

১০। ‘রবীন্দ্রনাথের কোন গানই কখনো নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে না।’-এটি কার লেখা, কোন্ রচনার অংশ? অংশটির তাৎপর্য লেখো।

আলোচ্য অংশটি বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক রম্যরচনাকার সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে সংগৃহীত।

রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং রবীন্দ্রসংগীতের মুগ্ধশ্রোতা ছিলেন। তাঁর কাছে রবীন্দ্রসংগীত মনে হয়েছে সম্পূর্ণ, অখণ্ড-যা জার্মান লিডার এবং ইরানের গজলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। পাশাপাশি তিনি মনে করেছেন রবীন্দ্রসংগীতের উচ্চাঙ্গের গীতিরসের কারণে প্রতিবার শ্রবণে আমাদের মনকে তৃপ্তি দেয় এবং নতুন এক ভুবনের সন্ধান দেয়। অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত প্রতিবারই আমাদের নিয়ে যায় সীমা থেকে অসীমের দিকে এবং অসীম থেকে বাস্তবের জগতে। তাই রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথের গান সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করেছেন। ১১

১১। ‘নটরাজের মূর্তি দেখে যেমন মনে হয়,..’- নটরাজের মূর্তি দেখে কার, কী মনে হয় আলোচনা করো।

নটরাজ হল হিন্দুদেবতা শিব। শিবের বিশেষ নৃত্যভঙ্গি হল নটরাজ রূপ। নটরাজ বলতে সকলে তাই বিশেষ নৃত্যভঙ্গিতে রত শিবকে দেখে বা চিন্তা করে অভ্যস্ত। লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রসংগীত আলোচনা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন। রবীন্দ্রসংগীতে যে গীতিরস এবং শব্দের ব্যবহার তা যে একক ও অনন্য। এই একক, অনন্য গীতিরস ও শব্দঝংকারকে লেখক নটরাজের নৃত্যের অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

১২। ‘গায়কের যথেষ্ট শব্দ সম্মান বোধ নেই…’ কে, কী কারণে এরূপ মন্তব্য করেছেন আলোচনা করো।

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত’ ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী মন্তব্য করেছেন যে, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনকারী গায়কের মধুর কণ্ঠস্বর, চমৎকার সুর-তাল জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র শব্দের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা অর্থাৎ শব্দগুলোকে রসিয়ে রসিয়ে না গাওয়ার জন্য রবীন্দ্রসংগীত বেসুরো, অতৃপ্তিদায়ক এবং গতানুগতিক হয়ে ওঠে। তাই রচয়িতা রবীন্দ্রসংগীতের প্রতিটি শব্দের ওপর গুরুত্ব আরোপের কথা বলতে চেয়েছেন।

১৩। ‘আবার যখন তিনি আমাদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন তখন এই মৃত্তিকাই স্বর্গের চেয়ে অধিকতর “মধুময় হয়ে ওঠে”।-কে, কীভাবে আমাদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন? মন্তব্যটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

আলোচ্য অংশটি লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে গৃহীত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গান-রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে আমাদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

লেখক মুজতবা আলী রচনার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের গানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথের গানের উচ্চাঙ্গে গীতিরস, শব্দ, ব্যঞ্জনার চমৎকারিত্ব আমাদের হৃদয়ে এক অলৌকিক জগৎ সৃষ্টি করে তৃপ্তি দান করে; আবার সেই জগৎ থেকে বাস্তবের পৃথিবীর মধুময় জগতে নিয়ে আসেন। রবীন্দ্রনাথের সীমা-অসীমের তত্ত্ব রবীন্দ্রসংগীতে রয়েছে বলে লেখক মনে করেন।

১৪। ‘তারায় তারায় দীপ্তশিখার অগ্নি জ্বলে/বনের পথে আঁধার-আলোয় আলীঙ্গন।’-পঙ্ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন্ রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে? প্রবন্ধে এই পক্তি ব্যবহারের তাৎপর্য লেখো।

আলোচ্য পঙ্ক্তিটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’ গ্রন্থের বিচিত্র পর্যায়ের ৭৭ নং গানের অংশ বিশেষ।

বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, রম্যরচনাকার সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থের ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনায় রবীন্দ্রনাথের গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত আলোচনা প্রসঙ্গে ব্যবহার করেছেন। রচয়িতার মতে রবীন্দ্রসংগীত আমাদের হৃদয়ে এক নতুন ভুবনের সৃষ্টি করে-যা আমাদের তৃপ্তি দান করে সৌন্দর্য আনন্দে পরিপূর্ণ করে তোলে। এরই পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের সীমা-অসীমের তত্ত্ব, অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত আমাদের বারবার নিয়ে যায় চেনা জগৎ থেকে অচেনা জগতে-মৃত্তিকার বন্ধন থেকে নীলাম্বরের মর্মমাঝে, আবার সেখান থেকে ফিরিয়ে আনে স্বর্গের চেয়ে অধিকতর মধুময় বাস্তবের মর্ত্য পৃথিবীতে।

১৫। ‘এ অলৌকিক কর্ম যিনি করতে পারেন তিনিই “বিশ্বকর্মা মহাত্মা”।’-কার অলৌকিক কর্মের কথা বলা হয়েছে? তাঁকে ‘বিশ্বকর্মা মহাত্মা’ বলার কারণ কী? আলোচনা করো।

আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ নামক রম্যরচনা গ্রন্থের অন্তর্গত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনা থেকে গৃহীত হয়েছে।

‘পঁচিশে বৈশাখ’ রচনার লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি গান অর্থাৎ রবীন্দ্রসংগীত রচনাকে অলৌকিক কর্ম বলে অবিহিত করেছেন। কেন-না লেখকের মতে রবীন্দ্রসংগীত আমাদের হৃদয়ে এক নতুন ভুবন সৃষ্টি করে এবং অপার সৌন্দর্য ও আনন্দে পূর্ণ করে তোলে।

লেখক মুজতবা আলী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকর্মা মহাত্মা’ বলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রবীন্দ্রনাথের বহুবিধ গুণ ও প্রতিভার মধ্যে সংগীত প্রতিভাকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেছেন লেখক। রবীন্দ্রসংগীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন সীমা-অসীমের তত্ত্বকথা তুলে ধরেছেন তেমন সুর, ছন্দ, শব্দ ব্যবহার এবং উচ্চাঙ্গের রস বা গীতিরস সৃষ্টি করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে আমাদের অন্তরে এক অলৌকিক ভুবন সৃষ্টি হয়-যা আমাদের মনন আর চৈতন্যে সৌন্দর্যচেতনা এবং আনন্দ ভাবনা জাগ্রত করে। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই অনন্য সৃষ্টিকর্মের জন্য লেখক এরূপ মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন – আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment