উদারনৈতিক ভক্তিবাদ, সুফিবাদ ও ধর্মসমন্বয় বলতে তে কী বোঝো

উদারনৈতিক ভক্তিবাদ, সুফিবাদ ও ধর্মসমন্বয় বলতে তে কী বোঝো

উদারনৈতিক ভক্তিবাদ, সুফিবাদ ও ধর্মসমন্বয় বলতে তে কী বোঝো
উদারনৈতিক ভক্তিবাদ, সুফিবাদ ও ধর্মসমন্বয় বলতে তে কী বোঝো

ভক্তিবাদ

ভক্তিবাদের মূল অর্থ ভগবানের প্রতি ভক্তের ভালোবাসা বা ভক্তি।

(1) ভক্তিবাদের উত্থানের কারণ:

  • অলভার ও নায়নার সাধকদের প্রচেষ্টা: দক্ষিণ ভারতে অলভার ও নায়নার সাধকরা খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের গোড়ায় ভক্তিবাদ প্রচার করেছিল। ফলে দক্ষিণ ভারতে ভক্তিবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
  • ভক্তিবাদী সাধকদের আবির্ভাব : খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ-পঞ্চদশ শতকে নামদেব, তুকারাম, রামানন্দ, কবীর, নানক, শ্রীচৈতন্যদেব, মীরাবাঈ প্রমুখ ভক্তিবাদী সাধক-সাধিকাদের আবির্ভাব ভক্তিবাদের প্রচারে প্লাবন সৃষ্টি করে। ভারতবর্ষের দিকে দিকে তাদের উপদেশ, গান, কবিতা ছড়িয়ে পড়ে।

(2) ভক্তিবাদের বৈশিষ্ট্য: ভক্তের সঙ্গে ভগবানের রহস্যময় বা অতীন্দ্রিয় মিলন। ভক্তি হল ঈশ্বরলাভের একমাত্র উপায়। একেশ্বরবাদে বিশ্বাস ভক্তিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভক্তিবাদীদের মতে, ঈশ্বর-আল্লা-রাম-শিব সবই এক। যাগযজ্ঞ, পৌত্তলিকতা, জাতিভেদ প্রথার কোনো স্থান ছিল না।

(3) প্রভাব:

  • প্রথমত : ভক্তি আন্দোলনের প্রভাবে হিন্দু-মুসলিম বিভেদ ও জাতিভেদ প্রথার কঠোরতা হ্রাস পায়।
  • দ্বিতীয়ত: ভক্তিবাদের প্রচারকরা আঞ্চলিক ভাষায় তাঁদের মত প্রচার করার ফলে আঞ্চলিক ভাষাগুলি, যেমন- হিন্দি, বাংলা, পাঞ্জাবি, মারাঠি প্রভৃতি সমৃদ্ধ হয়।
  • তৃতীয়ত: ধর্মপালনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান দূর হয়।

সুফিবাদ

মধ্যযুগে এক শ্রেণির মুসলমান প্রচলিত ধর্মীয় নিয়মের বাইরে সহজসরলভাবে আল্লার আরাধনার কথা প্রচার করেন। এই মতবাদকে সুফিবাদ বলা হয়। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে সুফিবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ভারতে সুফিবাদীদের মধ্যে চিশতি ও সুরাবর্দি সম্প্রদায় বেশি জনপ্রিয় ছিল।

(4) সুফিবাদের বৈশিষ্ট্য:আল্লার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা, পবিত্র জীবনযাপন করা প্রভৃতি

(5) ভারাত সুফিবাদের প্রভাব: হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ হ্রাস পায়। তথাকথিত নিম্নবর্ণের বহু হিন্দু সুফিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। হিন্দি ভাষা ও কাওয়ালি সংগীতের বিকাশে সুফিবাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল। সুফিবাদের দরগাগুলি বিদ্যাচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।

ধর্মসমন্বয়

মানবসমাজের সঙ্গে ধর্ম ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত। যখন নানান ধর্মাবলম্বী মানুষ ধর্মীয় বৈচিত্র্য ভুলে গিয়ে একটি ধর্মীয় মন্ত্রে দীক্ষিত হয়, তখন তাকে বলা হয় ধর্মসমন্বয়। ফলস্বরূপ নিজ ধর্মের প্রতি ভক্তি ও অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জন্মাবে। এই ধর্মসমন্বয় বিভিন্ন মতাদর্শাবলম্বী মানুষদের মধ্যে ভেদাভেদ মোচন করতে সহায়তা করেছে। যার ফলস্বরূপ সামাজিক বিকাশে বিশেষভাবে সহায়তা করা যায়।

আরও পড়ুন – বিকাশের স্তরসমূহ প্রশ্ন উত্তর

● একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রতিটি সেমিস্টারের সাজেশন ই-বুক (PDF) কিনতে হলে নীচে ডানদিকে হোয়াটসঅ্যাপ বাটনে ক্লিক করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
● বাছাই করা কমন অতি সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তরের সেরা সংকলন।
● প্রতিটি বিষয়ের সাজেশন ই-বুকের দাম মাত্র ২০ টাকা।

Leave a Comment