‘আগুন’ নাটকটি কবে, কোথায় প্রথম অভিনীত হয়? এই নাটকের সংলাপ রচনায় নাট্যকারের কৃতিত্ব আলোচনা করো

‘আগুন’ নাটকটি কবে, কোথায় প্রথম অভিনীত হয়? এই নাটকের সংলাপ রচনায় নাট্যকারের কৃতিত্ব আলোচনা করো

প্রথম অভিনয়

বিজন ভট্টাচার্য রচিত ‘আগুন’ নাটকটি ১৯৮৩ সালের মে মাসে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের উদ্যোগে কলকাতার ‘নাট্যভারতী’ রঙ্গমঞ্চে প্রথম অভিনীত হয়।

সংলাপ রচনায় কৃতিত্ব

মঞ্চসজ্জা, পরিবেশ-রচনাসহ কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া নাট্যকার যা বলতে চান, তা নাট্যচরিত্রের সংলাপের মাধ্যমেই বলেন। সংলাপেই ফুটে ওঠে চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, নাটকীয় ঘাত-প্রতিঘাত।

বিজন ভট্টাচার্য ‘আগুন’ নাটকে এক-একটি চরিত্রের শ্রেণি, জীবিকা, আর্থসামাজিক অবস্থান অনুযায়ী সংলাপ রচনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে চরিত্রগুলি বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। কৃষক তার স্ত্রীকে বলে ‘কলেকষ্টে এই চৈতেলির ফসলগুলো মাচায় তুলতি পারলি হয়, কিছুদিনের মত নিশ্চিন্দি, কী বলিস।’ কারখানার শ্রমিক সতীশ বলে-‘শালা খিধে পেটে লিয়ে কি কাজে যেতে মন লাগে।’ কেরানি হরেকৃষ্ণ ও তার স্ত্রী মনোরমার সংলাপ এদের তুলনায় তথাকথিত মার্জিত, আঞ্চলিকতা বর্জিত, শহুরে-মনোরমা : কেন অফিস থেকে যে চাল ডাল দেবার কথা ছিল!

হরেকৃষ্ণ: থাক্, আর অফিসের কথা তুলো না বাপু।  সিভিক গার্ড বলে- “চালাকি পেয়েছ। লুটের মাল, না।” ওড়িশাবাসী ওড়িয়া ভাষায় কথা বলেছে। দোকানি বলেছে তার নিজের ভঙ্গিতে-“… বাব্বা! লুঙ্গি, টিকি, পৈতে, টুপি সব একাকার হয়ে গেছে।” নেত্যর মা, ক্ষিরি, মনোরমা-এই নারীচরিত্রগুলি তাদের শিক্ষাদীক্ষা ও পারিবারিক অবস্থান অনুযায়ী উপযুক্ত ঘরোয়া সংলাপ প্রকাশ করেছে। এইভাবে পরিবেশ, ঘটনা ও চরিত্রানুযায়ী উপযুক্ত সংলাপ প্রয়োগে নাট্যকারের কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন – আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment